“বাজেট সংকটে নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না ইইউ”
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, 6:37 PM
NL24 News
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, 6:37 PM
“বাজেট সংকটে নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না ইইউ”
-অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া-
বাজেট সংকটের কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের কাছে এ সংক্রান্তচিঠি পাঠিয়েছে জোটটি। ইইউ’র প্রাকনির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্তনিয়েছে তাঁরা। তবে এইটুকু জানা গিয়েছে যে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল না পাঠালেও নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য ছোট আকারের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাতে পারে ইইউ। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে জোটটি।প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে গত ৮ থেকে ২৩শে জুলাই বাংলাদেশ সফর করে ইইউর ৬ সদস্যের একটি প্রাক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল। প্রতিনিধি দলটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের কর্মপরিধি, পরিকল্পনা, বাজেট, লজিস্টিকস ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো মূল্যায়ন করে। সফরে তারা বাংলাদেশের সরকারের প্রতিনিধি, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন।
ইইউ এর ঐ প্রতিনিধি দলটি জাতীয় নির্বাচন-পূর্ব সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। তারা মূলত নির্বাচনের সময় পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা; নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও সহিংসতামুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা, নির্বাচন করার মতো পরিবেশের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে। এ প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইইউ পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে কিনা সিদ্ধান্তনেয়ার কথা ছিল এবং সেই রিপোর্টের অনুযায়ী ইউ পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্তনিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিউন(ইউ) মূলত বিশ্বে পরিচিত এবং প্রতিষ্ঠিত জোটগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি জোট। বাজেট সংকটে ইউ'র পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক না পাঠিয়ে ছোট আকারের পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর ইইউ এর ঐ প্রতিনিধি দলটি জাতীয় নির্বাচন-পূর্ব সার্বিক পরিস্থিতি আলোচনা এবং পর্যালোচনা করে দেখলো যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে তাঁর সংবিধান অনুযায়ী গঠিত নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিঃসন্দেহে সম্ভব। তার ধারাবাহিকতায় ইউ বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক হবে বলে প্রত্যাশা করে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর কোনো প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেনা।
এছাড়াও বাংলাদেশের মতো গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে জনগণের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সংঘটনের যথেষ্ট পরিবেশ রয়েছে সেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রসহ চারটি দেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান টেরি এল ইসলে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভিত্তি নেই। এটি অসাংবিধানিক। সে জন্য এ ব্যাপারে আলোচনায় আমাদের আগ্রহ নেই। গত ৩০ জুলাই, ২০২৩ এ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সুষ্ঠু পরিবেশে বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় দলীয় সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা প্রকাশ করেছেন গত জুলাই-এ বাংলাদেশের নির্বাচনের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে আসা বিদেশি পর্যবেক্ষকরা। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেহেতু অসাংবিধানিক, সে বিষয়ে (প্রতিনিধি) উনাদের কোনো আগ্রহ নেই। উনারা বলেছেন, সংবিধানে যেটা আছে, তার আলোকেই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। কমিশনের যে আইন আছে তার সঠিক প্রয়োগ হলেই যথেষ্ট। নির্বাচন কমিশন তার আইনের সঠিক প্রয়োগ করে অতীতের সংসদ নির্বাচনের ন্যায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সংঘটনে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা প্রত্যাশা করছেন। এই ক্ষেত্রে বিদেশী পর্যবেক্ষক দলের মতামত ছিলো রাজনৈতিক দলগুলো ও সরকার যদি ইসিকে সাপোর্ট দেওয়ার বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে পারে এই কমিশনের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। এটা উনারা আশা প্রকাশ করেছেন। সুতরাং তাঁদের পর্যবেক্ষণে নিঃসন্দেহে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সংঘটনে বাংলাদেশে যথেষ্ট পরিবেশ রয়েছে তার নিশ্চয়তারই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।
এছাড়াও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশ যে উন্নয়ন-অগ্রগতি করেছে তাতে এই সরকারের ধারাবাহিকতা দেখতে পারাটা চমৎকার হবে বলে মনে করে কিছুদিন পূর্বে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান এন্ড্রু গারবারিনো।
তাঁর মতে জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ যে কৃতিত্ব দেখিয়েছে তা অনুকরণীয়। আর বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে তার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী গণতন্ত্র বজায় রাখা।
তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে উন্নতি করেছে, তাতে এই সরকারের ধারাবাহিকতা দেখাটা হবে চমৎকার। এছাড়াও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই ধারা বজায় রাখতে হবে।
এছাড়াও গত ২০ আগস্ট, ২০২৩ এ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’র সাময়িকী ফ্রন্টলাইন-এ ‘ইফ শেখ হাসিনা লোসেস জানুয়ারি ইলেকশন, বাংলাদেশ কুড ফেস প্রলঙ্গড পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক ইনস্ট্যাবিলিটি’- এই শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনীতি ও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রতিবেদন অনুসারে গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা নির্বাচনে হেরে গেলে বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতায় পতিত হতে পারে। আবারও সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী শক্তির অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগের বিদায় শুধু ভারতের জন্য নয়, সমগ্র অঞ্চলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসীন হলে পাকিস্তনের জঙ্গিগোষ্ঠির সহায়তায় দক্ষিণ এশিয়ায় আরেকটি অস্থিরতা ও সহিংসতার সূচনা করবে। শেখ হাসিনার দীর্ঘ দিনের কঠোর পরিশ্রমের ফলে অর্জিত গণতন্ত্র পদদলিত হবে বিএনপি-জামায়াত জোটের হাত ধরে।
সুতরাং এতক্ষণের বিশ্লেষণে এটাই প্রতিয়মান হচ্ছে যে, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত জোটের কুশাসনে পদদলিত গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার করে তার চর্চা অব্যাহত রয়েছে। গণতন্ত্র চর্চার এই ধারাবাহিকতা রক্ষায় বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক সমাজসহ বিশ্বের অনেকেই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ধারাবাহিকতা দেখতে চাচ্ছে। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে এদেশে গণতন্ত্রের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের নির্বাচনের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে আসা বিদেশী পর্যবেক্ষক দলগুলো বাংলাদেশে নির্বাচনের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সংঘটনের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের জন্য অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যান্য বিদেশি পর্যবেক্ষক দলের মতো ইউ এর প্রতিনিধি দল গত জুলাইয়ে বাংলাদেশে এসে বাংলাদেশের নির্বাচনের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে তাঁদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে ইউ এখন পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়ে বাজেটের অপচয় না করতে বাজেটের ঘাটতি দেখিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল না পাঠিয়ে অতীতের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ন্যায় ছোট প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্তনিয়েছেন।
ট্রেজারার
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়