“বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে বিএনপির সিঙ্গাপুর মিশন”
৩০ আগস্ট, ২০২৩, 3:17 PM
NL24 News
৩০ আগস্ট, ২০২৩, 3:17 PM
“বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে বিএনপির সিঙ্গাপুর মিশন”
-অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া-
সরকার পতনের এক দাবিতে চলমান যুগপৎ কর্মসূচির মধ্যেই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামের অন্তত পাঁচ জন সিনিয়র নেতা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। পাশাপাশি কয়েকজন নেতা দেশে থাকলেও বর্তমানে তারা অসুস্থ বলে দাবি করছেন। তারা আন্দোলন করছেন রাস্তাায় তখন অসুস্থ থাকেনা যখনই লন্ডন থেকে ইশারা দেয়া হয়, তখনই তারা অসুস্থ হওয়ার বাহানায় মত্ত থাকেন। দেশের মানুষের সাথে মিথ্যা, ছলচাতুরী করে চিকিৎসার মতো আবেগময় অনুরাগের কৌশলে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে বিদেশে গেলেন তারা।শারীরিক অসুস্থতার কারণেই দেশের বাইরে রয়েছেন বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা এমনটা জনসম্মুখে জানালেও বাস্তবে তারা বিদেশে গিয়েছে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে।চিকিৎসার বাহানায় দীর্ঘদিন ধরে দিল্লিতে অবস্থান করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ। চলতি বছরের মার্চে ভারতের শিলং আদালত তাকে খালাস দিলে কিছুদিন পর তিনি দিল্লি যান। সেখানে তিনি স্ত্রীসহ অবস্থান করছেন। সেখানেও তিনি সরকার বিরোধী নানান তৎপরতা চালাচ্ছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির ১৪ সদস্যের মধ্যে ছয় জনই এখন দেশের বাইরে। শর্তসাপেক্ষ মুক্তিতে গুলশানের বাসায় অবস্থান করছেন খালেদা জিয়া, স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন। সবাই দেশের বাইরে যেতে চায় শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য নয়, চিকিৎসার বাহানায় সরকার পতনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বিএনপি। বিএনপির নীতিনির্ধারণী ও যুগপতে যুক্ত গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতারা আভাস দিয়েছেন, যুগপতের পরের ধাপের কর্মসূচিতে নিম্ন আদালতের সামনে অবস্থান, উচ্চ আদালতের সামনে অবস্থানসহ এ ধরনের কর্মসূচি থাকতে পারে। দেশের ভিতরে সুবিধা করতে না পেরে বিদেশে গিয়ে দেশের সর্বনাশ করার চেষ্টায় লিপ্ত বিএনপি।
বিএনপিতে হরতাল ও অবরোধ নিয়ে আলোচনা চলছে। দলের ভেতর থেকে নীতিনির্ধারকদের ওপর কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার চাপ অব্যাহত রয়েছে। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত ধাপে হরতাল, অবরোধ ও ঘেরাও কর্মসূচির চিন্তা থাকতে পারে বিএনপিতে। বড় নেতারা দেশের বাইরে গিয়ে গা বাঁচানোর একটা অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আন্দোলনের মাত্রার উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েই সরকারবিরোধী কর্মসূচি চলবে বলে বিএনপি হুমকি দিচ্ছে আর এক্ষেত্রে দেশের নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে মার্কিন অবস্থানকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বৈঠক ও আলোচনা হলেও বিএনপির সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ। দিল্লিতে বেশ কিছুদিন ধরে ভারত সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছাকাছি আসার দেনদরবার চললেও ‘উদ্যোক্তা নেতারা’ বেশি একটা সুবিধা করতে সক্ষম হননি। তবে এ নিয়ে উদ্যোক্তা-পক্ষের ‘আত্মতুষ্টি’ আছে। বিএনপি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে ভারতকে পাশে পেতে কিন্তু বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসলেই ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশের মানুষকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করে, অস্থিরতা তৈরি করে, আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, জ্বালাও পোড়াও করে, তারা আবার খুবই সক্রিয়। দেশের ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে বিদেশে ছুটে বেড়াচ্ছে।শুধু রাজপথে নয়, তারা ঘরেও সক্রিয়, বিদেশী দূতাবাসেও সক্রিয়। এই মুহুর্তে বিএনপির চারজন নেতা সিঙ্গাপুরে, চারজন একসঙ্গে অসুস্থ্য হয়ে সিঙ্গাপুরে গেছেন, এটি মেনে নেওয়ার মতো না, এতো বোকা বাংলাদেশের মানুষ নয়। তারা সেখানে কোন দেনদরবার করতে গেছেন এটা সবার কাছে পরিস্কার।
একই সঙ্গে দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের তারা বলে গেছেন, ফিরে এসে সরকার পতনের লাগাতার আন্দোলন করবেন। লাগাতার আন্দোলন প্রায় ৮/৯ বছর আগে দিয়েছেন খালেদা জিয়া। যা এখনোই আলোর মুখ দেখেনি। এমন লাগাতার আন্দোলন দিয়ে আর যায় হোক, আওয়ামী লীগকে উপড়ানো সম্ভব নয়।আওয়ামী লীগের শিকড় অনেক গভীরে, আওয়ামী লীগকে উপড়ানো তো দূরে কথা, একটি ডালও ভাঙ্গা সম্ভব না। ১৯৭৫ পরবর্তী চরম দুঃসময়েও আওয়ামী লীগ টিকে থেকেছে। দীর্ঘদিন লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় এনেছে। এই আওয়ামী লীগকে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা কখনোই সম্ভব নয়।আমরা এই শোকের মাসে শোককে শক্তিতে পরিণত করে জনগণের রায়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় নিয়ে আসবো। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে প্রয়োজনে মানুষের বাড়ি বাড়ি যেতে হবে, ভোট চাইতে হবে। উন্নয়নের অনেক কাজ এখনো বাকি। যেগুলো শেষ করতে পারলে ইউরোপ-আমেরিকার মতো উন্নত দেশে আমরা পরিণত হবো। সেই সুযোগ আমাদের রয়েছে, তার জন্য আমাদের দরকার শেখ হাসিনাকে, আর আওয়ামী লীগের মতো দেশপ্রেমিক দলকে।একটি দলের হাই প্রোফাইল সব নেতা একসাথে অসুস্থ হয়ে যাবে এটা গাঁজাখুরি গল্প ছাড়া কিছুই না।একটা দলের সব নেতা বিদেশে একসাথে যাবে তাও চিকিৎসার বাহানায় যারা দেশে আন্দোলন চলাকালীন একবারে সুস্থ সবল ছিলেন। এটা বাংলাদেশের মানুষ স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছে তারা কেন বিদেশে গেলেন।তাদের দলই পরিচালিত হয় বিদেশ থেকে তাই তাদের ক্ষমতায় আসার একনাত্র ভরসা বিদেশি চক্রান্ত।
কারণ যে দল দীর্ঘদিন জনগণের সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নেই তারা জনগণের উপর আস্থা না রেখে বিদেশিদের উপর আস্থা রাখবে এটাই স্বাভাবিক।জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া কখনো কোনো আন্দোলন সফল হয় না। যে আন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা নেই, এমন আন্দোলন পৃথিবীতে কখনোই সফল হয়নি। জনগণ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও গণ-আন্দোলন সফল হয়নি, এদেশেও হবে না। লন্ডন থেকে অনলাইনে ডাক দিয়ে আন্দোলন হয় না। বিএনপি’র আন্দোলনে জনগণ নেই, আছে কেবল নেতাকর্মী। জনগণ যে আন্দোলনে নেই, সেই আন্দোলন পৃথিবীর কোথাও সফল হয়নি। বাংলাদেশেও হবে না। রাজনীতি করুন, কিন্তু মানুষ পোড়ালে দেশের মানুষ আপনাদের ছেড়ে দিবেনা। বিএনপি আবারো ক্ষমতায় গেলে এদেশে রক্তের বন্যা বইয়ে দিবে। মুক্তিযোদ্ধাদের অস্তিত্বকে তারা নিশ্চিহ্ন করে দেবে। বিএনপি সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বড় ঠিকানা এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তারা ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাবে নিশ্চিত। তারা বিদেশে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে নানান চক্রান্ত চালাচ্ছে। এখন দেশের গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে, দেশকে বাঁচাতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীরা প্রস্তুত হচ্ছে, আমরাও প্রস্তুত আছি।দেশের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন শুধু হতাশই নয়, অনেক ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত। প্রতিটি ষড়যন্ত্রেই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কাছে নিদারুণভাবে পরাজিত হয়েছে তারা।
তাদের প্রতিটি ষড়যন্ত্র নানা মেয়াদ ভিত্তিক ও স্বতন্ত্র হলেও তাদের সকল ষড়যন্ত্রের মূল বিষয় ছিল বিদেশি শক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকার কে ক্ষমতাচ্যুত করা। তাদের ধারণা ছিল ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের প্রতিদান হিসেবে একটি রাষ্ট্র তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে।সে লক্ষ্যে গত কয়েক বছর তারা দেশের রাজনীতির সকল পর্যায় থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে সেই বিদেশি রাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দূতাবাসে দিনরাত ধর্না দিয়ে আসছে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিদেশে লবিস্টদের মাধ্যমে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই রাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মনোভাব ও নানা পদক্ষেপ দেখে বিএনপি চরম হতাশ হয়েছে। বিদেশি শক্তির মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে।দেশের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন শুধু হতাশই নয়, অনেক ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত। প্রতিটি ষড়যন্ত্রেই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কাছে নিদারুণভাবে পরাজিত হয়েছে তারা।তাদের প্রতিটি ষড়যন্ত্র নানা মেয়াদ ভিত্তিক ও স্বতন্ত্র হলেও তাদের সকল ষড়যন্ত্রের মূল বিষয় ছিল বিদেশি শক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকার কে ক্ষমতাচ্যুত করা। তাদের ধারণা ছিল ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের প্রতিদান হিসেবে একটি রাষ্ট্র তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে।
সে লক্ষ্যে গত কয়েক বছর তারা দেশের রাজনীতির সকল পর্যায় থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে সেই বিদেশি রাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দূতাবাসে দিনরাত ধর্না দিয়ে আসছে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিদেশে লবিস্টদের মাধ্যমে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই রাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মনোভাব ও নানা পদক্ষেপ দেখে বিএনপি চরম হতাশ হয়েছে। বিদেশি শক্তির মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে।দিনশেষে বিদেশি রাষ্ট্র সমূহ তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বাইরে যাবে না। বিদেশি রাষ্ট্র সমূহ নিজেদের স্বার্থেই বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে না। তাদের বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে তাদের স্ববিরোধী অবস্থান ফুটে উঠেছে। শুধু তাই নয়, তাদের দীর্ঘদিনের রাজনীতির পথপরিক্রমাকে নিজেরাই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাদের এই বক্তব্য কেবল স্ববিরোধী কিংবা তাদের জন্য বুমেরাং নয়, তারা যে এতদিন দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল, তাদের বক্তব্য সেটিই প্রমাণ করে। বিএনপির নেতা ও তাদের সুশীলদের আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়। এদের কোনো লজ্জাবোধ নেই। দেশ ও জাতির স্বার্থ, নীতি-নৈতিকতা, লাজ লজ্জা, শালীনতা উপেক্ষা করে যেকোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে তারা বিব্রত হয় না। দেশবিরোধী মন্তব্য করতে তারা কুণ্ঠিত হয় না। তারা যে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, বিএনপি যে রাজনৈতিক নেতৃত্বশূন্য একটি দল এবং নানা স্বার্থান্বেষী ও মাফিয়া গোষ্ঠী এই দল পরিচালনা করছে- এটি বিএনপি বার-বার প্রমাণ করছে।
দেশের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন শুধু হতাশই নয়, অনেক ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত। প্রতিটি ষড়যন্ত্রেই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কাছে নিদারুণভাবে পরাজিত হয়েছে তারা।তাদের প্রতিটি ষড়যন্ত্র নানা মেয়াদ ভিত্তিক ও স্বতন্ত্র হলেও তাদের সকল ষড়যন্ত্রের মূল বিষয় ছিল বিদেশি শক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকার কে ক্ষমতাচ্যুত করা। তাদের ধারণা ছিল ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের প্রতিদান হিসেবে একটি রাষ্ট্র তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে।সে লক্ষ্যে গত কয়েক বছর তারা দেশের রাজনীতির সকল পর্যায় থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে সেই বিদেশি রাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দূতাবাসে দিনরাত ধর্না দিয়ে আসছে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিদেশে লবিস্টদের মাধ্যমে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই রাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মনোভাব ও নানা পদক্ষেপ দেখে বিএনপি চরম হতাশ হয়েছে। বিদেশি শক্তির মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে।গত দুইদিন বিএনপি নেতারা ও তাদের পক্ষের সুশীলদের বক্তব্যে এখন বিদেশিদেরই দোষারোপ করা হচ্ছে। তাদের বক্তব্যে ঘুরেফিরে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, দিনশেষে বিদেশি রাষ্ট্র সমূহ তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বাইরে যাবে না। তাদের বক্তব্য, বিদেশি রাষ্ট্র সমূহ নিজেদের স্বার্থেই বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে না। তাদের বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে তাদের স্ববিরোধী অবস্থান ফুটে উঠেছে। শুধু তাই নয়, তাদের দীর্ঘদিনের রাজনীতির পথপ্ররিক্রমাকে নিজেরাই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাদের এই বক্তব্য কেবল স্ববিরোধী কিংবা তাদের জন্য বুমেরাং নয়, তারা যে এতদিন দেশবিরোধী কর্মকান্ডে যুক্ত ছিল, তাদের বক্তব্য সেটিই প্রমাণ করে। বিএনপির নেতা ও তাদের সুশীলদের আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়। এদের কোনো লজ্জাবোধ নেই। দেশ ও জাতির স্বার্থ, নীতি-নৈতিকতা, লাজ লজ্জা, শালীনতা উপেক্ষা করে যেকোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে তারা বিব্রত হয় না। দেশবিরোধী মন্তব্য করতে তারা কুণ্ঠিত হয় না। তারা যে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, বিএনপি যে রাজনৈতিক নেতৃত্বশূন্য একটি দল এবং নানা স্বার্থান্বেষী ও মাফিয়া গোষ্ঠী এই দল পরিচালনা করছে- এটি বিএনপি বার-বার প্রমাণ করছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে ২০১৮ এর নির্বাচনের পর বিএনপি জামাত গোষ্ঠী একটার পর একটা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছিল। প্রতিটি ষড়যন্ত্রই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা মোকাবিলা করে ভন্ডুল করে দিয়েছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা নিয়ে দেশবিরোধী তথ্য সন্ত্রাস, করোনা মহামারিতে সরকার বিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে মহামারি মোকাবিলা ও ত্রাণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্যোগ, মহামারিতে লাখ লাখ মানুষ মারা যাবে এ ধরনের আতঙ্ক ছড়ানো, দেশের হাসপাতাল ও চিকিৎসা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে দেশের কোটি কোটি মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা, সরকারের টিকা সংগ্রহ ও টিকা প্রদান কার্যক্রম নিয়ে নানা অপপ্রচার চালিয়ে কার্যক্রমকে ব্যাহত করা, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মার্কিন ও পশ্চিমা স্যাংশন আরোপের জন্য বিদেশে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করা, মহামারি ও যুদ্ধের প্রভাবে পৃথিবীজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংসের জন্য দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্রসহ তথ্য সন্ত্রাসে মেতে ওঠা, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অনুরোধ, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশ্যে বিদেশি রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চেয়ে নানা উদ্যোগ গ্রহণ- এ সকল দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ২০১৮ এর নির্বাচনের পর থেকে বিএনপি জামাত করে আসছে। বর্তমানে তা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সরকার পতনের এক দাবিতে চলমান যুগপৎ কর্মসূচির মধ্যেই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামের অন্তত পাঁচ জন সিনিয়র নেতা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও। পাশাপাশি কয়েকজন নেতা দেশে থাকলেও বর্তমানে তারা অসুস্থ বলে দাবি করছেন। তারা আন্দোলন করছেন রাস্তায় তখন অসুস্থ থাকেনা যখনই লন্ডন থেকে ইশারা দেয়া হয়, তখনই তারা অসুস্থ হওয়ার বাহানায় মত্ত থাকেন। দেশের মানুষের সাথে মিথ্যা, ছলচাতুরী করে চিকিৎসার মতো আবেগময় অনুরাগের কৌশলে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে বিদেশে গেলেন তারা।শারীরিক অসুস্থতার কারণেই দেশের বাইরে রয়েছেন বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা এমনটা জনসম্মুখে জানালেও বাস্তবে তারা বিদেশে গিয়েছে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে।চিকিৎসার বাহানায় দীর্ঘদিন ধরে দিল্লিতে অবস্থান করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ। চলতি বছরের মার্চে ভারতের শিলং আদালত তাকে খালাস দিলে কিছুদিন পর তিনি দিল্লি যান। সেখানে তিনি স্ত্রীসহ অবস্থান করছেন। সেখানেও তিনি সরকার বিরোধী নানান তৎপরতা চালাচ্ছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির ১৪ সদস্যের মধ্যে ছয় জনই এখন দেশের বাইরে। শর্তসাপেক্ষ মুক্তিতে গুলশানের বাসায় অবস্থান করছেন খালেদা জিয়া, স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন। সবাই দেশের বাইরে যেতে চায় শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য নয়, চিকিৎসার বাহানায় সরকার পতনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বিএনপি। বিএনপির নীতিনির্ধারণী ও যুগপতে যুক্ত গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতারা আভাস দিয়েছেন, যুগপতের পরের ধাপের কর্মসূচিতে নিম্ন আদালতের সামনে অবস্থান, উচ্চ আদালতের সামনে অবস্থানসহ এ ধরনের কর্মসূচি থাকতে পারে। দেশের ভিতরে সুবিধা করতে না পেরে বিদেশে গিয়ে দেশের সর্বনাশ করার চেষ্টায় লিপ্ত বিএনপি।
বিএনপিতে হরতাল ও অবরোধ নিয়ে আলোচনা চলছে। দলের ভেতর থেকে নীতিনির্ধারকদের ওপর কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার চাপ অব্যাহত রয়েছে। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত ধাপে হরতাল, অবরোধ ও ঘেরাও কর্মসূচির চিন্তা থাকতে পারে বিএনপিতে। বড় নেতারা দেশের বাইরে গিয়ে গা বাঁচানোর একটা অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আন্দোলনের মাত্রার উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েই সরকারবিরোধী কর্মসূচি চলবে বলে বিএনপি হুমকি দিচ্ছে আর এক্ষেত্রে দেশের নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে মার্কিন অবস্থানকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বৈঠক ও আলোচনা হলেও বিএনপির সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ। দিল্লিতে বেশ কিছুদিন ধরে ভারত সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছাকাছি আসার দেনদরবার চললেও ‘উদ্যোক্তা নেতারা’ বেশি একটা সুবিধা করতে সক্ষম হননি। তবে এ নিয়ে উদ্যোক্তা-পক্ষের ‘আত্মতুষ্টি’ আছে। বিএনপি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে ভারতকে পাশে পেতে কিন্তু বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসলেই ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশের মানুষকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করে, অস্থিরতা তৈরি করে, আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, জ্বালাও পোড়াও করে, তারা আবার খুবই সক্রিয়। দেশের ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে বিদেশে ছুটে বেড়াচ্ছে।
শুধু রাজপথে নয়, তারা ঘরেও সক্রিয়, বিদেশী দূতাবাসেও সক্রিয়। এই মুহুর্তে বিএনপির চারজন নেতা সিঙ্গাপুরে, চারজন একসঙ্গে অসুস্থ্য হয়ে সিঙ্গাপুরে গেছেন, এটি মেনে নেওয়ার মতো না, এতো বোকা বাংলাদেশের মানুষ নয়। তারা সেখানে কোন দেনদরবার করতে গেছেন এটা সবার কাছে পরিস্কার। আওয়ামী লীগের শিকড় অনেক গভীরে, আওয়ামী লীগকে উপড়ানো তো দূরে কথা, একটি ডালও ভাঙ্গা সম্ভব না। ১৯৭৫ পরবর্তী চরম দুঃসময়েও আওয়ামী লীগ টিকে থেকেছে। দীর্ঘদিন লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় এনেছে। এই আওয়ামী লীগকে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা কখনোই সম্ভব নয়।আমরা এই শোকের মাসে শোককে শক্তিতে পরিণত করে জনগণের রায়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় নিয়ে আসবো। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে প্রয়োজনে মানুষের বাড়ি বাড়ি যেতে হবে, ভোট চাইতে হবে। উন্নয়নের অনেক কাজ এখনো বাকি। যেগুলো শেষ করতে পারলে ইউরোপ-আমেরিকার মতো উন্নত দেশে আমরা পরিণত হবো। সেই সুযোগ আমাদের রয়েছে, তার জন্য আমাদের দরকার শেখ হাসিনাকে, আর আওয়ামী লীগের মতো দেশপ্রেমিক দলকে।একটি দলের হাই প্রোফাইল সব নেতা একসাথে অসুস্থ হয়ে যাবে এটা গাঁজাখুরি গল্প ছাড়া কিছুই না।একটা দলের সব নেতা বিদেশে একসাথে যাবে তাও চিকিৎসার বাহানায় যারা দেশে আন্দোলন চলাকালীন একবারে সুস্থ সবল ছিলেন। এটা বাংলাদেশের মানুষ স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছে তারা কেন বিদেশে গেলেন।তাদের দলই পরিচালিত হয় বিদেশ থেকে তাই তাদের ক্ষমতায় আসার একনাত্র ভরসা বিদেশি চক্রান্ত। কারণ যে দল দীর্ঘদিন জনগণের সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নেই তারা জনগণের উপর আস্থা না রেখে বিদেশিদের উপর আস্থা রাখবে এটাই স্বাভাবিক। বিএনপি কথায় কথায় সার্বভৌমত্বের কথা বলেন, গণতন্ত্রের কথা বলেন, তবে কি বিদেশিদের কাছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক দলের কাজ হতে পারে?যারা জীবন্ত মানুষকে পেট্রোল বোমায় পুড়িয়ে মারে, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালায়, হাওয়া ভবনের নামে অনিয়ম আর লুটপাট চালায়, তারাই আজ মানবাধিকারের কথা বলে—যা শুনলে হাসি পায়।