ঢাকা ১৮ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
রাত ১টার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে কোনো ভদ্রলোক আওয়ামী লীগ করে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রেস সচিব হামের উপসর্গে একদিনে আরও ৪ শিশুর প্রাণহানি রাজধানীতে যানবাহনের হর্ন নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে কৃষি কর্মকর্তা নিহত আমাদের বাণিজ্য পরিপূর্ণভাবে চীন নির্ভর হয়ে পড়েছে: তথ্যমন্ত্রী পাকিস্তানের সরকারি হাসপাতালে এইচআইভি আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু বাংলাদেশকে বাণিজ্যযুদ্ধে সঙ্গে রাখতে চায় চীন: মির্জা ফখরুল আজ থেকে শুরু হচ্ছে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম

“বাংলাদেশেল অভূতপূর্ব অগ্রগতির প্রশংসা আইএমএফ’র”

#

০২ মে, ২০২৩,  2:39 PM

news image

|| অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া ||


বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের ভূয়োসী প্রশংসা করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। সকল বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্ব প্রয়োজন। ‘বাংলাদেশ বিশ্বে একটি রোল মডেল। শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ণ উন্নয়ন অর্জন করেছে। আইএমএফ প্রধান মনে করেন, শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব কোভিড-১৯ এর পরও বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল রেখেছে। সকল বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর মতো নেতৃত্ব জরুরি। তিনি বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারিকালেও সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন।ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সুসংযোগ স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে আইএমএফ প্রধানকে অবহিত করেন। দেশের উন্নয়ন এক দিনে হয়নি। এটা দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফসল।শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ  আওয়ামী লীগ সরকার প্রায় ১৫ বছর দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায়। যার ফলশ্রুতিতে উন্নয়ন অগ্রগতি চলছে পুরো সুপারসনিক বিমানের গতিতে। যদিও বিভিন্ন সময়ে বিএনপি জামায়াত জোট সরকার দেশে ও বিদেশে মিথ্যা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ পরিবেশনা করে সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন করার জঘন্যতম অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সকল অপপ্রচার ও অপপ্রচেষ্টা চোখ না রেখে শেখ হাসিনার চোখ শুধু উন্নয়ন ও দেশের মানুষের ভাগ্যউন্নয়ন। যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পেয়েছে উন্নয়নশীল দেশ আর তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে তার স্বপ্নের সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। আর বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে হবে বঙ্গবন্ধুর  স্বপ্নের সোনার বাংলা ও উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ। তাইতো বলা যায় যতোদিন রবে শেখ হাসিনার হাতে দেশ পথ হারাবে না বাংলাদেশ।

আইএমএফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২২ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার সারা বিশ্বে ‘৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতি’ হিসাবে পরিগণিত হয়েছে । আইএমএফ মনে করেছে যে, করোনা মহামারি চলাকালে এবং মহামারির ভয়াবহতা-উত্তর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে বাংলাদেশ ভালো করেছে। কিন্তু ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, মন্দা ও জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশের অর্থনীতিও চাপের মুখে পড়েছে।তাইআন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের প্রথম কিস্তি হিসেবে ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। ২.২ শতাংশ সুদে নেওয়া এই ঋণের মোট ৪৭০ কোটি ডলার বাংলাদেশ পাবে সাতটি কিস্তির মাধ্যমে। ২০২৬ সালে পাওয়া যাবে সর্বশেষ কিস্তি। এর মধ্যে ঋণ সহায়তা হিসেবে এক্সটেনডেন্ড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ) ও এক্সটেনডেন্ড ফান্ড ফ্যাসিলিটির (ইএফএফ) আওতায় পাবে ৩২০ কোটি ডলার, যা ব্যয়হবে বাজেট সহায়তা বাবদ।পাশাপাশি ১৪০ কোটি ডলার পাবে রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায়। যা ব্যয় হবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলার ক্ষেত্রে। প্রথম এশীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আইএমএফের এই নবগঠিত তহবিল থেকে ঋণ পাচ্ছে।

বাংলাদেশ একবারে পুরো ঋণটা পাবে না। মোট ৭টি কিস্তিতে এ ঋণ আসবে।সরকার আশা করছে, আইএমএফ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ প্রথম কিস্তির ৩৫২ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন এসডিআর বা ৪৬১ দশমিক ২২ মিলিয়ন ডলার দিতে পারবে।আর ঋণের বাকি অংশ দেবে ৬ মাস অন্তর অন্তর এবং ৬টি সমান কিস্তিতে। এখানে প্রতিটি কিস্তি হবে ৫১৯ মিলিয়ন এসডিআর বা ৬৭৯ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন ডলার করে। অর্থাৎ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই ঋণের সর্বশেষ কিস্তিটা বাংলাদেশে চলে আসবে। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫০ বছরের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর পরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি ও মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে রোল মডেল। জাতির পিতা  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরে দেশের মানুষের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যে সূচনা করছেন তা ছিলো প্রশংসনীয়।তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশকে ঘুরে দাড়ান শিখিয়েছেন। আর বঙ্গবন্ধু যখন দেশনেতা থেকে বিশ্বনেতায় রুপান্তরিত হতে যাচ্ছিলেন তখন দেশবিরোধী চক্র বা অপশক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে উন্নয়ন অগ্রগতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খন্দকার মুসতাক ও জিয়া এর অপশাসন ও লুটপাটে দেশের অভ্যন্তরে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে।তারই ধারাবাহিক নাটক ছিলো স্বৈরাচার এরশাদের স্বৈরশাসনামল। দীর্ঘদিনপর  কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসের পুনর্র্নিমাণ শুরু হয়।

পঁচাত্তরের পর বাঙালির জীবনে যে অন্ধকার নেমে এসেছিলো, তার ফেরার মধ্য দিয়ে তা কেটে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে। বাংলার মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখে। ১৯৮১ সালে দেশে প্রবেশ করে আওয়ামী লীগ এর নেতৃত্ব তার কাঁধে পড়ে। তাঁর দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ বাঙালি স্বৈরাচার হটায়। এবং ১৯৯১ সালে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার সরকার গঠন করে। তারা দেশে উন্নয়ন না করে লুটেরা ও দূর্নীতির রাষ্ট্র তৈরি করে। বিএনপি জামায়াত জোট সরকার দৃশ্যমান উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি। দেশের মানুষ যখন বিএনপি জামায়াত এর অপশাসনে বিপযস্ত তখন তারা ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা দক্ষ নেতৃত্বের কাছে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেন। আর তাতেই পাল্টে যেতে থাকে দেশের সামগ্রিক চিত্র। পরবর্তীতে ২০০১ সালে পুনরায় বিএনপি জামায়াত এর অপশাসনের কবলে পরে বাংলাদেশ। আর শেখ হাসিনার গৃহিত উন্নয়ন পদক্ষেপে বাধাগ্রস্ত হয়। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র শেখ হাসিনাকে বারবার হত্যা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বিএনপির ও জামায়াত জোটের অপকৌশলে দেশে সৃষ্টি হয় ১/১১ এর মতো সেনা সমর্থিত অগণতান্ত্রিক সরকার। দেশের মানুষের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা না থাকায় তারা লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে পরে। সেই অপশক্তিকে পরাজিত করে শেখ হাসিনা ২০১৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। বাংলাদেশ খুঁজে পায় তার স্বপ্নের সোনার বাংলার স্বারথি যার নাম শেখ হাসিনা।শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে পায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন অগ্রগতি।শেখ হাসিনার নেতৃত্বের পরপর ৩ বার আওয়ামী লীগ সরকার দেশের শাসনের দায়িত্বে যা মাঝি শেখ হাসিনা।শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাহসী উদ্যোগের আংশিক চিত্র হলো নিজেদের অর্থায়নে দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মাসেতু নির্মাণ।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু সেটেলাইট উৎক্ষেপণ, কর্ণফুলি নদীতে বঙ্গবন্ধু ট্যানেল নির্মাণ,মেট্রোরেল নির্মাণ,  এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হাইওয়ে নির্মাণ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, পায়রা সমুদ্র বন্দর, রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ অসংখ্য ছোট বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন দৃশ্যমান। তিনি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেই ক্ষান্ত হননি তিনি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য মানবাধিকার ও সামাজিক অধিকারকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তার মানবাধিকার অন্যতম  দৃষ্টান্ত লক্ষ লক্ষ  রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও তাদের আবাসন,  একটি বাড়ি একটি খামার,  আশ্রায়ন্ প্রকল্প, দারিদ্র্য ভাতা,  মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি  ভাতা, কৃষিক্ষেত্রে ভুর্তুকি, উপবৃত্তি প্রদান ইত্যাদি।শেখ হাসিনার এ অভুতপূর্ব উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সাহসী নাম।তাঁর সাহস ও একাগ্রতা উন্নয়নের মূল শক্তি। যেখানে দেখা বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ তাদের অব্যবস্থাপনা ও  নৈরাজ্যের  কারনে তাদের উন্নতির গ্রাফ ক্রম নিম্নমুখী সেখানে বাংলাদেশ হচ্ছে উন্নয়ন অগ্রযাত্রার গ্রাফ ক্রম উর্ধ্বমুখী। শেখ হাসিনার এ অভূতপূর্ব  ও অকল্পনীয় উন্নয়ন বিশ্বমিডিয়াতে প্রশংসিত হয়েছে।

লেখক: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া
ট্রেজারার
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
সাবেক চেয়ারম্যান
ট্যুরিজম অ্যান্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম