ঢাকা ০৭ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ৭ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে এবার নতুন পরিকল্পনা শিশুরা আগামীর বাংলাদেশ, দেশগড়ার সৈনিক: জুবাইদা রহমান বাবার শেষ বিদায়ে যে কারণে অনুপস্থিত মোজতবা খামেনি ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৩ মৃত্যু জুনের ‘ভুতুড়ে বিল’ নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলো বিদ্যুৎ বিভাগ খাগড়াছড়িতে গোলাগুলিতে নিহত ৩ চাটখিলে ৫ বছরের শিশু আসমা ধর্ষণ-হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনটি কেপিআই ঘোষণা

“এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে থমকে দিতে দেশী-বিদেশী নানা তৎপরতা”

#

০৫ এপ্রিল, ২০২৩,  2:35 PM

news image

|| অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া || 


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্থ বাংলাদেশ পুনর্গঠনে, দেশের মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে যখন নিঃস্বার্থভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাংলাদেশের উন্নয়ন থামিয়ে দিতে চেয়েছিল। ঘাতকেরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তার পরিবারের সদস্যদেরও হত্যা করে সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন, উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নকেও হত্যা করতে চেয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের পর বাঙালির সবচেয়ে বড় অর্জনগুলো এসেছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল এবং দূরদর্শী নেতৃত্বে যার ফলে বাংলাদেশ আজ অপ্রতিরোধ্য। দুঃখজনক হলে সত্যি  অপ্রতিরোধ্য  এই বাংলাদেশকে থমকে দিতে চলছে নানা ষড়যন্ত্র। যার হাজারো নজির মিলছে ধাপে ধাপে। ইতিমধ্যে দেশী-বিদেশী এসব পক্ষ নানা প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

বিশ্বের প্রতিটি দেশেই স্বাধীনতা দিবসের দিন সেদেশের গণমাধ্যম অনুপ্রেরণামূলক বাণী দিয়ে উৎসাহ করে। আর প্রথম আলো তাদের প্রভুদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য জাতির সামনে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে, তরুণ প্রজন্মকে হতাশা ও উস্কানি দেওয়ার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে শিশুকে এক্সপ্লয়েট বা অবৈধভাবে ব্যবহার একটি অমার্জনীয় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শিশুর প্রতি এই আচরণ শিশু আইন ও আন্তর্জাতিক সনদসমূহের আলোকে প্রতিষ্ঠিত শিশু অধিকারের লঙ্ঘন। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বাধীনতা কে নিয়ে স্বাধীনতা দিবসেই দেশের একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত অবজ্ঞা ও অপপ্রচারমূলক মন্তব্য তীব্র নিন্দা জনক যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। 

প্রথম আলো ও বিএনপি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। তাদের টার্গেট সরকার ও আগামী নির্বাচন। মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবময় ঘটনা। এই যুদ্ধের মধ্য দিয়েই আমরা লাভ করেছি স্বাধীন দেশ, নিজস্ব পতাকা। আওয়ামী লীগ সরকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে তাই বলে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় অসাংবিধানিক শক্তি কে টিকিয়ে রাখতে একজন সম্পাদকের মাধ্যমে একটি শিশুর হাতে ঘুষ স্বরূপ ১০ টাকা দিয়ে তার নামে একটা সংবাদ পরিবেশন করা তাও আবার স্বাধীনতা দিবসের স্বাধীনতাকে অবজ্ঞা উপেক্ষা করে যা কোনোভাবেই স্বাধীন সাংবাদিকতার নীতির মধ্যে পড়ে না। এ ধরনের কাজ ঘৃণ্য বৈ আর কিছুই নয়। করোনা মহামারির পর বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন একটু একটু উঠে দাঁড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ঢেউ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে চরম ক্ষতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপ-আমেরিকার মতো শক্তিশালী অনেক দেশের অর্থনীতিই নাজুক অবস্থায় পড়ে এবং দেউলিয়া হয়ে যায় অনেক ব্যাংকসহ বেশকিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সেদিক থেকে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অন্যদের তুলনায় যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম আলোর এ মিথ্যা প্রতিবেদনটির বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভি। অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ সাজানো গল্প। এটি প্রতিবেদনটি করা হয়েছে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে। সংবাদটি রাষ্ট্রের ভিত্তিমূলে আঘাত হেনেছে। এর মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের দিন স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতাকে কটাক্ষ করা হয়েছে। এই সংবাদ ও ছবিটি অনলাইনে ছড়াতে থাকে তারাই যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী, বিএনপি-জামায়াত পন্থী লোকজন এবং আমরা যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসি, আমাদের স্বাধীনতায় উদ্বেলিত হই, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে আনন্দের অবগাহনে ভেসে যাই, তাদের কাছে এই সংবাদটি ধিক্কারজনক। 

উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রাক্কালে একই রকম উদ্যোগ নিয়ে বাসন্তী নামের এক মেয়ের গায়ে মাছ ধরার জাল ধরিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল। আবার বাসন্তী ষড়যন্ত্রের পুনরাবৃত্তি  নিঃসন্দেহে পরিকল্পনা সরূপ। যেহেতু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্তস্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিরাই দূর্বল সেনাশাসক ও রাজনৈতিক দলের উপর ভর করে দেশ চালিয়েছে, তারা এসব মিথ্যাচার উন্মুক্ত হতে দেয়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাসন্তীকে নিয়ে মিথ্যাচার প্রকাশ হয়, কিন্তু ততদিনে আমরা আমাদের জাতির জনককে হারিয়েছি। মিথ্যা সংবাদ তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে একদল স্বাধীনতা বিরোধী, বিএনপি-জামায়াত পন্থী লোকজন। প্রথম আলোর এই মিথ্যা সংবাদ আমাদের ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। তাদের সাংবাদিক এই কাজ নিজ থেকে করেছেন নাকি এর পেছনে অন্য শক্তির প্ররোচণা আছে তা খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি। উল্লেখ্য এখন যদিও প্রমাণিত হয়েছে এই সংবাদটি মিথ্যা, তবুও এটি এমন ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে যে অনেকে এটি বিশ্বাস করবে, এবং যারা এটি ছড়াতে সাহায্য করেছে তারা আরও নানাভাবে এটি যে আসলে সঠিকই ছিল তা প্রমাণ করার চেষ্টা করবে। এই বিষয়টি কোনভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। এছাড়াও আরো নানান ষড়যন্ত্রের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। 

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বয়কট করার পর থেকেই বিএনপি যে নির্বাচন বর্জন বা নির্বাচন বিরোধী রাজনীতি শুরু করেছিলো বিভিন্ন সময়ে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, ভোটারদের ভয় ভীতি দেখানোর মধ্য দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিলো। যার ফলে দেখা গেছে অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের টার্ন আউটটা প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। বিএনপি নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে চায়, নির্বাচনকে তারা প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, ইতিমধ্যে তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। শুধ তাই নয় নির্বাচন নিয়ে বিদেশী কূটনৈতিকরা যে তৎপরতা শুরু করেছেন এটা নজিরবিহীন ন্যাক্কারজনক অপতৎপরতা। এটা অত্যন্তদুঃখজনক। যে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, সেই রাষ্ট্রে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে বিদেশীরা এই ধরণের দৌড়ঝাঁপ করে এটা আসলে অবিশ্বাস্য। দেশের অভ্যন্তরে যেমন একটি গোষ্ঠী সব সময় জনগণের মধ্যে সরকার বিরোধী একটি মনোভাব তৈরি করবার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে,ঠিক তেমনিভাবে লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিদেশে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে বাংলাদেশ বিরোধী অবস্থান তৈরি করবার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। 

বাংলাদেশবিরোধী আন্তর্জাতিক লবিস্টদের প্রধান ক্রীড়ানক নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুস সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। এভাবে রাজনীতিতে হঠাৎ ইউনুসকে নিয়ে উত্তাপ ছড়ানো আরেকটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের। ড. ইউনুসকে আমাদের চিনতে বাকি নেই। বাংলাদেশে যাতে পদ্মা সেতু হতে না পারে এজন্য বিশ্ব ব্যাংকের তহবিল বরাদ্দ বাতিলের মূল ঘটক তিনিই। তার কেলেঙ্কারি ইতিহাস দীর্ঘ এবং তার হাতও লম্বা। হঠাৎ ৪০ জন বিদেশি ড. ইউনুসকে কথিত মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ এবং আবদার জানিয়েছেন। এটাও বাংলাদেশবিরোধী আরেকটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও অপকৌশল ছাড়া আর কী হতে পারে আজ সেটাই জাতির মুখ্য প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তর আমাদেরকে অবশ্যই পেতে হবে এবং এখনই উত্তর খোঁজার জোর প্রস্তুতি নেয়ার সময় এসেছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের স্বৈরশাসকরা তাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিত্র মার্কিনিদের সহায়তায় নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। যেখানে তারা পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য বর্বোরচিত হত্যাকান্ডের জন্ম দেয়। হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত থেকে শুরু করে ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির বিজয়ের সময় পর্যন্ত৩০ লাখ নিরীহ বাঙালিকে হত্যা ও ২ লাখ নারীর সম্ভ্রম হানি করে। ১৯৭১ সালের সেই বর্বরতার সাক্ষ্য এখনও বহন করছে বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদ। সারা দেশে পাকিস্তানি বর্বরদের সহযোগী হিসেবে তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী ও তাদের সহযোগী ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে আল-বদর, আল-শামস ও রাজাকার বাহিনী। তারা সে সময় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণের মতো জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে ১ কোটির বেশি বাঙালিকে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য করে। স্বাধীনতার ৫৩ বছরে দাঁড়িয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী এখনও এ দেশের ঘৃণিত জামায়াত ও পাকিস্তানের পক্ষে রয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী মার্কিনি ও পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের জঘন্য অপরাধের বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। বিজয়ের প্রাক্কালে এ শক্তি তাদের নীল নকশা অনুযায়ী দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, পেশাজীবীদের হত্যা করে বাঙালির ইতিহাস মুছে দিতে চেয়েছে। ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন, দৃষ্টি আকৰ্ষণকারী শিরোনাম ব্যবহার করা, সাধারণ ঘটনাকে একটি সাংঘাতিক ঘটনা বলে প্ৰতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা, কেলেংকারির খবর গুরুত্ব সহকারে প্ৰচার করা, অহেতুক চমক সৃষ্টি ইত্যাদি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের বিরুদ্ধে এইসব ষড়যন্ত্র রুখতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, জননেত্রীর শেখ হাসিনার হাত ধরে বাঙালি এগিয়ে যাবে আগ্রযাত্রার পথে।

লেখক: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া 
ট্রেজারার
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
সাবেক চেয়ারম্যান
ট্যুরিজম অ্যান্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম