“আওয়ামী লীগের সফল কূটনীতি বনাম বিএনপির ব্যর্থ ষড়যন্ত্র”
১০ মে, ২০২৩, 3:23 PM
NL24 News
১০ মে, ২০২৩, 3:23 PM
“আওয়ামী লীগের সফল কূটনীতি বনাম বিএনপির ব্যর্থ ষড়যন্ত্র”
-অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া-
জাতির পিতাকে হত্যার পর দেশের ক্ষমতা স্থায়ী দখলে নেন জেনারেল জিয়া। নীতি হীনতাই যদি দূর্নীতির সঙ্গা হয় তাহলে জিয়ার ক্ষমতা দখল ছিল স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দূর্নীতি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জেনারেল জিয়া হত্যাকারীদের বিচার না করে উল্টো ইনডেমনিটি অরডানেন্স জারি করে খুনিদের দেশের বাহিরে চলে যেতে সাহায্য করেছিলেন। তাহলে স্পষ্টত বোঝা যাচ্ছে বিএনপির জন্মই হয়েছে মূলত দূর্নীতি,হঠকারিতা আর অপরাজনীতির মাধ্যমে। জিয়ার মৃত্যুর পর একদিকে জাতীয়তাবাদ প্রচার করে কিন্তু দেশের ভেতরে সেই ক্যানটনমেন্টের চিন্তা ভাবনা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বেগম জিয়া। বেগম জিয়ার এই অসাধারণ দূর্নীতি আর অপরাজনীতি এদেশের জনগন খুব সহজেই টের পেয়ে যান। বিএনপি শুধু দূর্নীতি করে ক্ষান্ত হননি। বরং, দূর্নীতিতে দেশকে পাঁচ পাঁচ বার চ্যামপিয়ন করেছিলেন। যার জন্য বিএনপি জামায়াতের জােট সরকারের পতনের পর দেশে দূর্নীতিগ্রস্থ দলকে এদেশের মানুষ আর ফিরিয়ে আনেননি। দূর্নীতি করে আর স্বাধীনতাবিরোধী রাজনীতি করে বিএনপির মন ভরেনি। তারা একে একে অপরাজনীতির সংস্কৃতি চালু করেছে। বর্তমানে তাদের অপরাজনীতি এমন জায়গায় গিয়ে পৌছেছে যে, তারা এখন দলীয় চেয়ারপারসনের অসুস্থতা নিয়েও অপরাজনীতিতে ব্যস্ত। জেনারেল জিয়া অসুস্থ হওয়ার পর বিএনপির দায়িত্ব পালন করেন বেগম জিয়া। বেগম জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ১৯৯০ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তেমন কোনো দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা লক্ষ করা যায়নি, যেই অসুস্থতার জন্য তাকে দেশের বাইরে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা নেয়া যেতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হলো বিএনপি থেকেই এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি বেগম জিয়ার অসুস্থতার জন্য। ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম জিয়ার ৫ বছরের জেল হয়। তারপর ২ বছর জেলে থাকার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ মানবতা দেখিয়ে বেগম জিয়াকে বাসায় থাকার ব্যবস্থা করে দেন।
একদিকে বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা মানবতা দেখিয়েছেন আর অন্যদিকে বেগম জিয়াকে নিয়ে বিএনপি অপরাজনীতির নতুন খেলা শুরু করেছে। বেগম জিয়া জেলে যাওয়ার পরই অসুস্থ হওয়ার অভিনয় শুরু করেন। যার ফলে তাকে দীর্ঘদিন যাবৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করা হয়। একদিকে বেগম জিয়ার অসুস্থতার অভিনয় অন্যদিকে বিএনপির অপরাজনীতি চলতে থাকে। যা দেশের মানুষের বিবেককে লাড়া দেয়। বিএনপির অপরাজনীতির পরেও জননেত্রী শেখ হাসিনা মানবতা দেখিয়েছেন। বেগম জিয়াকে জেলে থাকার বদলে বাসায় থাকতে ব্যবস্থা করে দেন। বাসায় থেকে সকল ধরনের চিকিৎসা নেয়ার ব্যবস্থা করে দেন। পৃথিবীর অন্য কেনো দেশে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে জেলের বদলে বাসায় থাকতে দেয়ার নজির নেই। একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার মানবতার কারনেই বাংলাদেশে এমন উদাহরণ তৈরি করতে পেরেছে।
বেগম জিয়া যে সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পরেও বিএনপি থেকে বারবার অসুস্থতার কথা বলে বেগম জিয়াকে দেশের বাহিরে নেয়ার দাবী করে আসছেন। অথচ সাজা হওয়ার আগেও তিনি পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন। জেলে যাওয়ার পর তাকে সম্পুর্ন নিরাপত্তা ও চিকিৎসা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে। মূলত বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপি এক অপরাজনীতির খেলা শুরু করেছেন। তাদের আরেক নেতা বেগম জিয়ার বড় ছেলে দূর্নীতি দায়ে অভিযুক্ত। তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। বেগম জিয়া মিজেও চেয়েছিলেন দেশের বাহিরে চলে যেতে। বেগম জিয়া দেশের বাহিরে যাওয়া নিয়ে বিএনপি যে অপরাজনীতি করে আসছে তা আজ দেশের মানুষের কাছে আয়নার মতো পরিষ্কার। বাস্তবতা হলো বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়েও বিএনপি অপরাজনীতি করতেছেন। যা এদেশের জন্য লজ্জাজনক।
বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই দেশের গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়েছে। মানবাধিকার হরণ, সংখ্যালঘু হত্যা, বিরোধী মত দমন বিএনপির রাজনৈতিক চরিত্র; মিথ্যাচার তাদের একমাত্র হাতিয়ার। আন্দোলনে জনগণের সাড়া না পেয়ে বিএনপি ষড়যন্ত্রের নীলনকশা সাজাচ্ছে। দেশের জনগণ সেটা বুঝতে পেরেই তাদের আন্দোলনে সাড়া দেয়নি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোটার উপস্থিতি নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন। উপ নির্বাচনগুলোয় ভোটারের উপস্থিতি নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন। তিনি বিএনপির এক হিসাব তুলে ধরে বলেছেন, উপ নির্বাচনগুলোয় ভোটার উপস্থিতি ৫ শতাংশের বেশি হয়নি, যা সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। মির্জা ফখরুল ইসলামহীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে এ ধরনের নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সর্বদা দেশ ও জনগণের উন্নয়নে কাজ করে। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে দুর্নীতি বিএনপির মজ্জাগত বিষয়। দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে হাওয়া ভবন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তাদের দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার অঙ্গীকার ছিল উন্নয়ন ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সরকার। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যেখানে সারা বিশ্বে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, সেটা বিবেচনায় না নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম অর্বাচীনের ন্যায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির দায় সরকারের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা করছেন। বাংলাদেশে বিরোধী দল বিএনপির যে ক'জন গত ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন - তাদের সবাই শপথ নিয়ে ফেলেছেন, শুধু দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া। নির্বাচিত এমপিদের শপথ নেবার সময়সীমার শেষদিনেও শপথ না নেওয়ায় তার সংসদীয় আসনটি ইতিমধ্যেই শূন্য ঘোষণা করে দিয়েছেন স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী। ওই আসনে এখন আবার নির্বাচন হতে হবে।
শুরু থেকেই শপথ না নেবার কথা বলে আসছিল বিএনপি, তাই তাদের শেষ দিনে শপথ নেয়া অনেককেই অবাক করেছে। কারণ বিএনপির লন্ডন-প্রবাসী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মির্জা ফখরুল সহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সবাই বলছিলেন, ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন কোন নির্বাচনই হয় নি তাই এতে বিজয়ী বিএনপির নেতারা শপথ নেবেন না। কিন্তু সে অবস্থান নাটকীয়ভাবে উল্টে দিয়ে বাকিরা শপথ নিলেও, মির্জা ফখরুলের শপথ না নেয়াটা হয়তো অনেককে আরো বেশি বিস্মিত করে থাকতে পারে। জননেত্রী শেখ হাসিনা একটি মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দুর্নীতি ও জবাবদিহিহীনতার চৌহদ্দি ডিঙিয়ে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বর্তমান সময়কে ধারণ করেই ভবিষ্যতের দিক-নির্দেশনা দেন। তার সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।