ঢাকা ২৮ জুন, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ভারতের মেডিকেলে ক্লাস নিচ্ছেন আ.লীগের পলাতক এমপি প্রাণ গোপাল হয়রানি নয়, ন্যায্যতার ভিত্তিতেই কর আদায় সরকারের উদ্দেশ্য: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হামের উপসর্গে একদিনে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি: প্রধানমন্ত্রী ইসলামী আন্দোলনের নতুন মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান চরম গরমের কবলে ইউরোপ, স্পেনে মৃত্যু ৩২৭ বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক দেশে ফিরেই বাবা-মায়ের মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর ওমরাহ পালন করলেন অভিনেত্রী ভাবনা বাড়ল ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধের মেয়াদ

৪২ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ: জামায়াত

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ মার্চ, ২০২৬,  4:02 PM

news image

৪২টি জেলা পরিষদে সরকারের ‘দলীয় ব্যক্তিদের’ প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের এমন পদক্ষেপকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ‘গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’ এবং একই সঙ্গে ‘আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ’ বলে মন্তব্য করেছেন। রোববার (১৬ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার এমন প্রতিক্রিয়া জানান। বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। দেশবাসী মনে করে, সদ্য গঠিত বিএনপি সরকার এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শুরুতেই জন-আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিল। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালিত হওয়াই গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি বলে মন্তব্য করেন পরওয়ার। সরকার ‘অত্যন্ত সুকৌশলে’ সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে একের পর এক প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে ‘দলীয় ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে’ নেওয়ার ‘অপচেষ্টা চালাচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার এই সিদ্ধান্তকে জনগণের ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থার প্রতি সরাসরি আঘাত বলে মন্তব্য করেন।  তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটানোর পরিবর্তে নিয়োগনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা গণতন্ত্রের জন্য গভীর অশনিসংকেত।  জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার নামে সরকারের এ পদক্ষেপ আসলে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার আরেকটি অপচেষ্টা। জনগণের ভোট ও মতামতকে উপেক্ষা করে প্রশাসক নিয়োগের এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমরা মনে করি, এই সিদ্ধান্ত সরকারের জন্যই বুমেরাং হবে। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অনুসারে প্রয়োজনীয় সংস্কারসমূহ এগিয়ে নেওয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয় বলে উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকারসমূহে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে—জনগণের প্রত্যাশা ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল বলেও জানান পরওয়ার। তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে সরকারদলীয় পদধারীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার জন-আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। এটি নৈতিকভাবে অত্যন্ত গর্হিত এবং জনগণের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণার শামিল। এতে জনমনে গভীর সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে যে সরকারের এ পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং একই সঙ্গে আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অবিলম্বে এ ‘অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত’ বাতিল করে দ্রুত জেলা পরিষদে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব অর্পণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম