স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে ফিরছেন হ্যারি-মেগান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ আগস্ট, ২০২৬, 11:54 AM
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ আগস্ট, ২০২৬, 11:54 AM
স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে ফিরছেন হ্যারি-মেগান
নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দ্য ডিউক অ্যান্ড ডাচ অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান মার্কেল। চলতি মাসের শেষভাগেই পরিবারসহ তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্যে স্থানান্তরিত হবেন বলে জানা গেছে। রাজপরিবারের এই আলোচিত দম্পতি লন্ডনের বাইরে একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বাড়িতে বসবাস শুরু করতে যাচ্ছেন।
তাদের এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তনের খবরের পাশাপাশি আরও একটি বড় তথ্য সামনে এসেছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে তাদের দুই সন্তান, সাত বছর বয়সী প্রিন্স আর্চি এবং পাঁচ বছর বয়সী প্রিন্সেস লিলিবেটকে যুক্তরাজ্যের একটি স্থানীয় স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে। দীর্ঘ চার বছর পর হ্যারি মেগান দম্পতির সন্তানদের যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠার এই খবর রাজপরিবারের শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
বিগত চার বছর ধরে হ্যারি এবং মেগানের সাথে রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে নানা টানাপোড়েন চলে আসছিল। ২০২০ সালের শুরুর দিকে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি গত জুলাই মাসে হ্যারি এবং মেগান তাদের সন্তানদের নিয়ে রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলার সাথে দেখা করতে গ্লসটারশায়ারের হাইগ্রোভ আবাসে গিয়েছিলেন। চার বছরের মধ্যে সেটিই ছিল রাজা চার্লসের সাথে তার নাতনি ও নাতিনকে সরাসরি দেখার প্রথম সুযোগ।
রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে ওই সাক্ষাৎকে একটি ব্যক্তিগত পারিবারিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। তবে সে সময় হ্যারি-মেগানের যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেই জানা গেছে।
রাজা চার্লসকে গত রবিবার হ্যারি ও মেগানের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। যদিও রাজা চার্লস পূর্বে এই পরিকল্পনার কথা জানতেন না, তবে ব্যক্তিগত পরিসরে নিজের ছেলে, পুত্রবধূ এবং নাতি-নাতনিদের কাছাকাছি পাওয়ার এই সুযোগকে তিনি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রিন্স ও প্রিন্সেস অব ওয়েলস, অর্থাৎ প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনকেও এই বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। তবে রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাজ্যে ফিরলেও হ্যারি ও মেগান কোনো অফিশিয়াল রাজকীয় দায়িত্বে ফিরছেন না। তারা সাধারণ ও ব্যক্তিগত নাগরিক হিসেবেই যুক্তরাজ্যে বসবাস করবেন এবং তাদের অফিশিয়াল মর্যাদায় কোনো পরিবর্তন আসছে না।
যুক্তরাজ্যে হ্যারি ও মেগানের প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল নিরাপত্তা সংকট। যুক্তরাজ্য ত্যাগ করার পর তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংকুচিত করা হলে হ্যারি বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন। ইতিপূর্বে তিনি যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেও হেরে যান। হ্যারি বারবার অভিযোগ তুলেছিলেন যে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবেই তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসতে পারছেন না। এই নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, রয়্যাল অ্যান্ড পাবলিক ফিগারস প্রোটেকশন কমিটি (রাভেক) নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে এবং যুক্তরাজ্যের এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর ও সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে পরিচালিত হয়।
এদিকে সামনের বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইনভিক্টাস গেমস, যার মূল উদ্যোক্তা ও পৃষ্ঠপোষক স্বয়ং প্রিন্স হ্যারি। ইনভিক্টাস গেমস ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডেভিড ওয়াইজম্যান প্রিন্স হ্যারির যুক্তরাজ্যে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, বার্মিংহামে ইভেন্ট আয়োজনের আগে হ্যারির নিজ দেশে ফিরে আসা অত্যন্ত চমৎকার একটি সংবাদ। বাসা পরিবর্তন ও নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নেওয়া যেকোনো পরিবারের জন্যই কঠিন, তাই হ্যারির সন্তানরা যেন যুক্তরাজ্যে এসে ভালোভাবে স্কুলে মানিয়ে নিতে পারে সেই শুভকামনাও প্রকাশ করেন তিনি।
দীর্ঘ সময় ধরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের কড়া নজরদারি এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার অভাবকে মূল কারণ হিসেবে দেখিয়ে রাজপরিবার থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন হ্যারি ও মেগান। ২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর হ্যারি ও মেগানকে একসঙ্গে যুক্তরাজ্যে আর দেখা যায়নি।
সূত্র: বিবিসি