সংবাদ শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ মার্চ, ২০২৬, 10:34 PM
স্থানীয় নির্বাচনে সরব চিতলমারী: সমাজসেবার ব্রত নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর আনিস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় বইতে শুরু করেছে স্থানীয় নির্বাচনের উৎসবমুখর আমেজ। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে চায়ের দোকান—সর্বত্রই এখন আলোচনা আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে। আর এই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও দক্ষ নেতৃত্বের কারণে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) মো. আনিসুর রহমান।চিতলমারী সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বারাশিয়া গ্রামের মোন্তাজ উদ্দিনের সন্তান মেজর আনিসুর রহমান। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সাদামাটা এই মানুষটি বর্তমানে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি নিরাপত্তা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান 'এলিট ফোর্স'-এর পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলার এক উজ্জ্বল ক্যারিয়ার:
১৯৯১ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার্স কোরে কমিশনড অফিসার হিসেবে যোগ দেন তিনি। দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি ইএমই সেন্টার, জালালাবাদ, কাদিরাবাদ, জাহানাবাদ স্টেশন সদর দপ্তর এবং যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসনিক কাজ, মানবসম্পদ পরিচালনা ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় তিনি সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ২০০৯ সালের ৬ মে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
সামরিক জীবনের পর করপোরেট জগতেও তিনি সমানভাবে সফল। ইউএস বাংলা গ্রুপের 'পূর্বাচল আমেরিকান সিটি'র প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একটি বিদেশি ফার্মের সাথে ব্র্যাক বাংলাদেশ রিস্ক অ্যাসেসমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টে কাজ করেছেন তিনি।
তৃণমূলে গণসংযোগ ও ব্যাপক সাড়া:
বর্ণাঢ্য পেশাগত জীবনের পাশাপাশি এলাকার মানুষের প্রতি নাড়ির টান তাকে সমাজসেবায় উদ্বুদ্ধ করেছে। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সভা-সমাবেশে তার সরব উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তৃণমূলের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার প্রার্থিতা নিয়ে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কী বলছেন সম্ভাব্য এই প্রার্থী?
নিজের প্রার্থিতা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মেজর (অব.) মো. আনিসুর রহমান বলেন, সমাজসেবা করতে এবং সবসময় উপজেলাবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে ভালোবাসি বলেই আমি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শুধু উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষই নন, দেশ-বিদেশে অবস্থানরত চিতলমারীর অনেক মানুষ আমাকে এই নির্বাচনে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও উদ্দীপনাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। সবার দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত থাকলে ইনশাআল্লাহ আমি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব এবং চিতলমারীকে একটি আধুনিক ও উন্নত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব।
একজন সাবেক চৌকস সেনা কর্মকর্তার এমন জনসম্পৃক্ততায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, একজন শিক্ষিত, সৎ ও দক্ষ সাবেক সেনা কর্মকর্তার জনপ্রতিনিধি হিসেবে এগিয়ে আসা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক কাঠামোর জন্যই একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। চিতলমারীবাসী এখন যোগ্য নেতৃত্বের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
সম্পর্কিত