সৌদির আরামকো তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার দাবি হুতিদের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ অক্টোবর, ২০২৬, 10:57 AM
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ অক্টোবর, ২০২৬, 10:57 AM
সৌদির আরামকো তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার দাবি হুতিদের
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আরামকোর একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা।
শনিবার হুতিদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে রিয়াদের ওই স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, সৌদি আরবের রাজধানী ছাড়াও ইয়েমেনের সানা ও অন্যান্য প্রদেশে চালানো হামলার জবাব দিতেই এই অভিযান। তবে হুতিদের দাবি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থঅ রয়টার্সকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, শনিবার রিয়াদে আরামকোর একটি স্থাপনার আশপাশে আগুন ও ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গেছে। তবে ওই আগুনের সঙ্গে হুতিদের হামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। আরামকোর কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হচ্ছে। হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীও ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে গত সপ্তাহেও ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছিল হুতিরা। তবে সে সময় সৌদি আরব জানিয়েছিল, হুতিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তায়েফ ও ইয়ানবু এলাকার দিকে ছোড়া হয়েছিল বলে জানায় রিয়াদ। তবে ওই ঘটনায় আরামকোর কোনও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়নি।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতে হুতিরা দেশটির রাজধানী সানা ও বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ইরানের সঙ্গে হুতিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা চালিয়ে আসছে।
হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদক দেশ সৌদি আরবের আরামকোর স্থাপনাগুলোতে হামলা হলে তা শুধু নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
তবে হুতিদের সর্বশেষ হামলায় আরামকোর স্থাপনায় প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না এবং হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের কতগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে কি না- এসব বিষয়ে এখনও সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: রয়টার্স