ঢাকা ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
হাম উপসর্গে আরও মৃত্যু ৩ টানা ৪ দিন গ্যাস সংকটে ভুগবে ঢাকাসহ সারাদেশ মিরপুরে শ্রমিক পরিচয়ে মিছিল করতে গিয়ে আ.লীগের কয়েকজন ধরা ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘একটি চিহ্নিত মহল পোশাকশিল্পকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত’ চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১.৫১ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির শিক্ষাগত যোগ্যতায় পরিবর্তন জামায়াত ও আওয়ামী লীগের যৌথ চক্রান্তে শ্রমিক আন্দোলন: রাশেদ খাঁন আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, কাভার্ডভ্যানে আগুন বিকাশ-নগদ-রকেটের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জের বৈধতা নিয়ে রুলের শুনানি আগামীকাল

সুন্দরগঞ্জে নাব্যতা সংকটে ৩০ রুটে নৌ-চলাচল বন্ধ

#

নিজস্ব প্রতিনিধি

৩০ জানুয়ারি, ২০২২,  5:09 PM

news image

তিস্তা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার কারনে বেকার হয়ে পড়েছে জেলে ও নৌ- শ্রমিকরা। নাব্যতা সংকটে ৩০ রুটে নৌ- চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। শুকনা মৌসুমে নদীপথ পারি দিতে সীমাহীন কষ্ট করতে হচ্ছে পথচারিদের। যার কারনে হাজারও নৌ-শ্রমিক মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশা বেঁচে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে নৌ-শ্রমিকরা। পাশাপাশি নাব্যতা সংকটে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে দিনের পর দিন। হারিয়ে যেতে বসেছে নদীতে বসবাসরত বিভিন্ন প্রাণীকুল। স্বাধীনতার পর আজও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী ড্রেজিং, খনন, সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হয়নি।

সে কারণে দিনের পর দিন উজান থেকে নেমে আসা পলি জমে খর স্রোতি রাক্ষুসি অগভীর তিস্তা নদী ভরাট হয়ে ধূ-ধূ বালুচর এবং আবাদি জমিতে পরিনত হয়েছে। তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়ে অসংখ্য নানা, খাল ও শাখানদীতে রুপ নিয়েছে। শুকনা মৌসুমে নদীপথে চলাচল অত্যন্ত দুরহ্ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। নদীপথে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে পায়ে হেঁটে, ঘোড়ার গাড়ীতে, বাঁশের সাঁকা, মোটর সাইকেল ও বাইসাইকেল চরে। সে কারণে হাজারও নৌ-শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। নষ্ট হচ্ছে নৌ-শ্রমিকদের উপকরণ নৌকা, জাল, বাঁশের তৈরি মাছ ধরার যন্ত্র। শ্রমিকরা এখন বাপ দাদার পেশা ছেড়ে দিয়ে রিক্সা, ভ্যান, অটোবাইক চালিয়ে অনেকে রাজমিস্ত্রির ও বিভিন্ন কলকারখানায় দিনমজুরের কাজ করছে। নদী ড্রেজিং, খনন, সংরক্ষণ ও সংস্কার না করায় গতিপথ পরিবর্তন হয়ে প্রতিবছর হাজারও একর জমি বসতবাড়িসহ নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, পাখিসহ ঐতিহ্যবাহী প্রাণীকুল। এ কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে দিনের পর দিন। বন্ধ হয়ে গেছে নৌ-পথের ব্যবসা-বাণিজ্য। উপজেলার মীরগঞ্জ, বেলকা, রামডাকুয়া, তারাপুর, হরিপুর, পাঁচপীর, শ্রীপুর, লালচামার ও কাপাসিয়া খেয়াঘাট থেকে পীরগাছার তাম্বুলপুর, তিস্তা সেতু, হারাগাছ, উলিপুর, চিলমারি, কাশিম বাজার, থানার হাট, রৌমারি, ভুরুঙ্গামারি, যাদুরচর, জামালগঞ্জ, বাহাদরাবাদ, দেওয়ানগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কথা হয় বেলকা ইউনিয়নের নৌ-শ্রমিক জয়ন্ত কুমারের সাথে। তিনি বলেন, নদী ভরে যাওয়ায় এখন আর নৌকা চলে না। শুধু মাত্র বর্ষাকালে ২-৩ মাস নৌকা চলাচল করা যায়। সে কারণে তারা মাঝি মাল্লার পেশা ছেড়ে দিয়েছে। হরিপুর ইউনিয়নের জেলে কলাই চন্দ্র দাস জানান, নদীতে আর মাছ পাওয়া যায় না। মুল নদী এখন নালা ও খালে রুপ নিয়েছে। সারাদিন বিভিন্ন শাখা নদীতে মাছ ধরে বিক্রি করে একদিনের সংসার চালানোর মত টাকা রোজগার করা যায় না। হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জিমি জানান, নাব্যতা সংকট দুর করতে হলে প্রয়োজন নদী ড্রেজিং করা ও খনন করা। এতে করে সকল প্রকার সমাস্য সমাধান হবে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান নদী ড্রেজিং ও খনন করা একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা। সরকারের উপরের মহলের সিদ্ধান্ত ছাড়া এটি সম্ভব নয়।  গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, বহুবার জনস্বার্থে মহান সংসদে নদী ভাঙন নিয়ে কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, নদী ভাঙন রোধ, বাঁধ সংস্কার ও সংরক্ষণে একনেকে  প্রকল্প পাশ হয়েছে  আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে।  

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম