সাতক্ষীরায় ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: ধোঁয়ায় অসুস্থ অন্তত ৫০, রোগী সরিয়ে নিল ফায়ার সার্ভিস-বিজিবি
০৫ আগস্ট, ২০২৬, 9:35 AM
NL24 News
০৫ আগস্ট, ২০২৬, 9:35 AM
সাতক্ষীরায় ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: ধোঁয়ায় অসুস্থ অন্তত ৫০, রোগী সরিয়ে নিল ফায়ার সার্ভিস-বিজিবি
মনিরুজ্জামান মনি : সাতক্ষীরা শহরের সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত ১০ তলা বিশিষ্ট বেসরকারি ব্লিস (BLISS) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অন্তত ৫০ জন রোগী, স্বজন ও উদ্ধারকর্মী। তবে ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বিত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে হাসপাতালের বেসমেন্টের একটি কক্ষে অক্সিজেন সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই বেসমেন্টে হাসপাতালের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম সংরক্ষণ করা ছিল। আগুন লাগার পর মুহূর্তেই ঘন ধোঁয়ায় হাসপাতালের নিচতলা ও আশপাশের এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রথমে দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আরও চারটি ইউনিট যোগ দেয়। মোট ছয়টি ইউনিটের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি-এর নেতৃত্বে দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য প্রয়োজনীয় উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বিজিবি সদস্যরা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে হাসপাতালের রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে এবং এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করেন।
উদ্ধারকাজ চলাকালে ধোঁয়ার কারণে অন্তত ৫০ জন রোগী, তাদের স্বজন এবং কয়েকজন ফায়ার সার্ভিস কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সযোগে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল এবং শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সময় সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্সের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ, বিজিবি ও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা একযোগে কাজ করেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, "ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়লেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।"
সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সাইফুজ্জামান বলেন, "খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে আরও চারটি ইউনিট যোগ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।"
হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক প্রদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, "নিচতলায় আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিই। ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি ও পুলিশের সদস্যদের সহযোগিতায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।"
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না।