ঢাকা ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
মামুনুল হকের ১৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা হবিগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ফোর্স মোতায়েন বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের মধ্য দিয়ে: তারেক রহমান কুড়িগ্রাম থেকেই উন্নয়ন শুরু করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান রাজনীতি করেন, কিন্তু দয়া করে মিথ্যা বলবেন না আরও ১৭১ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুইপক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে স্কুলছাত্র নিহত ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও নগদ অর্থসহ আটক ২ সারাদেশে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত

সরকারবিরোধী বিক্ষোভকালে গ্রেপ্তার সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করল ইরান

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৫ জানুয়ারি, ২০২৬,  12:35 PM

news image

ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে গ্রেপ্তার ও ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত তরুণ এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে দেশটির সরকার।  সোলতানির পরিবারের সদস্য এবং নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও-এর বরাত দিয়ে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন। ২৬ বছর বয়সী তরুণ এরফান সোলায়মানি পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। রাজধানী তেহরানের শহরতলী এলাকা কারাজে তার বাসা। সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার অভিযোগে গত ৮ জানুয়ারি কারাজে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। তারপর মাত্র তিন দিনের বিচারের ভিত্তিতে তাকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় সোলতানির পরিবারের কোনো স্বজন কিংবা বন্ধুকে উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের বরাতে জানা গেছে, সোলতানির বোন একজন নিবন্ধিত ও পেশাদার আইনজীবী। তিনিও থাকতে পারেননি। গতকাল বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল। সোলতানির আত্মীয় সোমায়েহ নামের এক নারী সিএনএনকে বলেছেন, খবর পেয়েছি যে সোলতানির দণ্ড কার্যকর হয়নি। তবে, তার দণ্ড এখন পর্যন্ত বাতিলও হয়নি। আমরা আরও তথ্যের অপেক্ষায় আছি।” পরে মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও এক প্রতিবেদনে জানায় যে সোলতানির মৃত্যুদন্ড স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে এক মত বিনিময়সভায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ হয়েছে। বিক্ষোভকালে আটক কিংবা গ্রেপ্তারদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনাও স্থগিত রেখেছে ইরান। আমরা নির্ভরযোগ্য কর্তৃপক্ষ থেকে এ তথ্যের নিশ্চয়তা পেয়েছি। এর আগের দিন মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জনতাকে ইরানের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করার নির্দেশনা দিয়ে সেই বার্তায় ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে বিক্ষোভ দমন করতে নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে। এসব নির্বোধ হত্যা যতদিন না বন্ধ হয়, ততদিন পর্যন্ত ইরানের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে আমি বৈঠক করব না। এছাড়া, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে বলেও ওইদিন হুঁশিয়ার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ‘খুব কঠোর ব্যবস্থা’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক হামলা এবং ২০১৯ সালে ইসলামিক স্টেটের তৎকালীন নেতা আবু বকর আল-বাগদাদিকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। উল্লেখ্য, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপক আকারে সরকার পতনের আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও ততো তীব্র হচ্ছে। বড় ধরনের এ আন্দোলন-বিক্ষোভ ওঠার প্রাথমিক কারণ দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি। বছরের পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল। জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বিক্ষোভ চলাকালে ইরানের বিভিন্ন সরকারি ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এমনকি ইরানের জাতীয় পতাকাও ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যায় বিক্ষোভে। সরকার পতনের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুও চাওয়া হয় বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে।  এ অবস্থায় বিক্ষোভরত জনতাকে ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। তেহরান বারবার দাবি করে আসছে, এ বিক্ষোভের পেছনে সরাসরি মদদ আছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদও ইরানের এ বিক্ষোভে নিজেদের হাত থাকার কথা স্বীকার করেছে।  বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে ইন্টারনেট-মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে ইরান, সেইসঙ্গে দেশজুড়ে পুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনীকে। জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সংঘাতে ইতোমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করছে পশ্চিমা বিভিন্ন মিডিয়া ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম