ঢাকা ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ঈদুল ফিতরে মিলতে পারে টানা ১০ দিনের ছুটি মব কালচারের জমানা শেষ, সড়ক অবরোধ করলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্রুতই কৃষক কার্ড চালু করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের মতো কৃষক কার্ড বিতরণ করবে সরকার সেরা টি-টোয়েন্টি বোলিং পারফরম্যান্স মনোনয়নে শেখ মেহেদী লাভ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর ঘোষণা কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী ৬ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ নতুন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম

শেরপুরে উজানে ঢলের পানি কমলেও বাড়ছে ভাটিতে ॥ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত

#

নিজস্ব প্রতিনিধি

১১ জুন, ২০২২,  4:17 PM

news image

শেরপুর প্রতিনিধি: কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার দুদিন পর থেকে ঢলের পানি উজান থেকে নেমে গেলেও ভাটি অঞ্চলে বাড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে ভাটি অঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় ঢলের পানি কমে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও বাড়তে শুরু করেছে। ঢলের পানির তোড়ে রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভ্যন্তরিণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাড়ছে পথচারীদের দুর্ভোগ। কিছু এলাকায় এখনও পানিবন্দী রয়েছে মানুষ। ১১ জুন শনিবার দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও অধিবাসীসহ দায়িত্বশীল মাধ্যমে খোঁজ-খবর নিয়ে পাওয়া গেছে ওই তথ্য। জানা যায়, গত বুধবার থেকে দুদিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা মহারশি, সোমেশ্বরী ও কালঘোষা নদীর পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মহারশি, সোমেশ্বরী ও কালঘোষা নদীর পাহাড়ি ঢলের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে ২০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে শতশত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ঝিনাইগাতী সদর বাজার,হাইওয়ে সড়ক ও উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ অফিস পাড়াগুলো ৩ থেকে ৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। সরকারি দপ্তরগুলোতে কর্মকান্ড ব্যাহত হয়। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই নদীগুলোতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করে। তবে ভাটি এলাকায় হাতিবান্ধা ও মালিঝিকান্দা ইউনিয়নে নতুন করে আরও প্রায় ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পানিতে তলিয়ে দেড় শতাধিক পুকুরের কোটি টাকার মাছ ভেসে গিয়ে খামারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে পাহাড়ি ঢলের পানিতে কৃষির তেমন কোন ক্ষতি সাধিত হয়নি বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। ঢলের পানির তোড়ে মহারশি ও সোমেশ^রী নদীর বিভিন্ন স্থানের প্রায় আড়াই কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ ভেঙে গেছে ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া আহম্মেদনগর-দীঘিরপার সড়ক, গুরুচরণ দুধনই-পানবর সড়ক ও রামেরকুড়া সড়কসহ বেশ কয়েক জায়গায় সড়ক ভেঙে ওইসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের ফলে মহারশি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ ঝিনাইগাতী বাজার ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এতে পরিষদের কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই পাহাড়ি ঢলের ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য মহারশি নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান তিনি। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী শুভ বসাক বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এলজিইডির ভাঙনকবলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতে কাজ শুরু করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আল মাসুদ দৈনিক মুক্তখবরকে জানান, পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রণয়নের কাজ শেষ হওয়ার পথে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বরাদ্দ পাওয়া ১০ মেট্রিকটন জিআর এর চাল সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিতরণের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের মাঝে উপ-বরাদ্দ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম