নিজস্ব প্রতিনিধি
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 10:42 AM
মেঘনা-তেঁতুলিয়া দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ, বিপাকে দুই লক্ষাধিক জেলে পরিবার
ইলিশ মাছের প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মার্চ থেকে দুই মাসের জন্য সব ধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দুই লক্ষাধিক জেলে বেকার হয়ে পড়বেন। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় জেলে পরিবারগুলোকে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাতে হবে। তবে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলেদের ভরণপোষণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৯০ হাজার জেলে পরিবারের জন্য চাউল বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ। এদিকে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য মৎস্য বিভাগসহ সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার প্রচালনা চালানো হচ্ছে। মৎস্য বিভাগ জানায়, প্রতি বছরের মত এবছরও ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বেড়ে ওঠার লক্ষ্যে পহেলা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা দুই মাস ভোলার ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত তেতুলিয়া নদীতে ১০০ কিলোমিটার এবং ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীতে ৯০ কিলোমিটারসহ মোট ১৯০ কিলোমিটার নদীতে মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মাছের অভয়াশ্রম হওয়ায় ভোলার মেঘনা-তেতুঁলিয়া নদীতে ইলিশসহ সব ধরণের মাছ শিকার, বাজারজাত, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞার জারি করেছে সরকার। তাই জেলেরা নৌকা, জালসহ মাছ ধরার সব সরঞ্জাম নদী থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। এতে করে জেলার সাত উপজেলার দুই লক্ষাধিক জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন জেলেরা। জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারের বরাদ্দকৃত প্রণোদনা ভিজিএফ চাউল দেওয়ার কথা থাকলেও সঠিক সময়ে ওই চাউল বিতরণ করা হয় না। এ ছাড়াও প্রকৃত জেলেরা সরকারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় বলেও অভিযোগ জেলেদের। অধিকাংশ জেলা বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কাছে ঋণগ্রস্ত থাকায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা নিয়েও রয়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞার দুই মাস নিবন্ধিত এক লাখ ৬৮ হাজার জেলের মধ্যে ৯০ হাজার ২১৩ জন জেলেকে মাসে ৪০ কেজি করে সরকারি প্রণোদনার চাউল দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৩ হাজার ৬০০ জেলেকে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। জেলেদের দাবি, সরকার তাদেরকে মাসে ৪০ কেজি করে চাউল দেবে। কেবল ভাত খেয়েতো তাদের জীবন চলে না। সেই সঙ্গে তেল নুনসহ অন্যান্য উপকরণও প্রয়োজন। আবার চাউল বরাদ্দ আসতে সময় লাগে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে চাউল না দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে নগদ অর্থ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জেলেরা। জেলেরা আরও জানান, বিগত বছরগুলোর মত এবছরও জেলার নিবন্ধিত ৭৮ হাজার জেলে সরকারি বরাদ্দের চাউল পাবেন না। তাছাড়া অনিবন্ধিত রয়েছেন প্রায় অর্ধলক্ষ জেলে। এত বিপুলসংখ্যক জেলের একমাত্র আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের চরম মানবেতর জীবন কাটাতে হবে। তাই এসব জেলে পরিবারকেও সরকারি সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা।