ঢাকা ০২ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ফেনীর ‘মহুয়া-কহুয়া’ সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী স্হানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার সুযোগ দেওয়া হবে না পদত্যাগপত্র জমা দিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ৪৫ রানে অলআউট শ্রীলঙ্কা, ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান ডেঙ্গু মোকাবিলায় ৫ লাখ টেস্ট কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফেনী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী যৌথ অভিযান নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পথে পথে জনতার ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী ৯০ দিনে বাংলা কিউআরে লেনদেন বেড়েছে সাড়ে ৩ গুণ

ভয়ানক রাসেলস ভাইপার থেকে বাঁচতে বন বিভাগের ছয় নির্দেশনা

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ জুন, ২০২৪,  5:08 PM

news image

গত কয়েক মাস ধরে দেশব্যাপী আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বিষাক্ত ও হিংস্র সাপ চন্দ্রবোড়া বা রাসেলস ভাইপার। মূলত বরেন্দ্র অঞ্চলের সাপ বলে পরিচিত হয়ে এলেও ইদানিং দেশের দক্ষিণ, পূর্ব এমনকি মধ্যাঞ্চলেও খোঁজ মিলছে সাপটির। প্রায় দিনই খবর আসছে বিষাক্ত এ সাপে কাটা মানুষের মৃত্যুর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জনসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছয়টি নির্দেশনা সম্বলিত একটি পোস্ট করা হয়েছে বাংলাদেশ বনবিভাগের পক্ষ থেকে। শুক্রবার (২১ জুন) রাতে পোস্টটি করা হয় বাংলাদেশ বনবিভাগের একটি ফেসবুক পেইজ থেকে। তাতে বনবিভাগ বলেছে, গত ১০ বছর আগেও এই চন্দ্রবোড়া বা রাসেলস ভাইপার তেমন চোখে পড়তো না। মূলত ২০১২ সালের পর থেকে এই সাপের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। রাসেলস ভাইপার দক্ষ সাঁতারু হওয়ায় নদীর স্রোতে ও বন্যার পানিতে সাঁতরে ও ভেসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে। রাসেলস ভাইপার স্বভাবগতভাবেই কিছুটা তেজী।

এটি মেটে রঙের হওয়ায় মাটির সঙ্গে সহজে মিশে যেতে পারে। মানুষ খেয়াল না করে সাপের খুব কাছে চলে যায়, ফলে সাপটি বিপদ অনুভব করে ভয়ে আক্রমণ করে বসে। এই সাপটির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে মূলত মানুষই দায়ী। যেসব প্রাণী রাসেলস ভাইপার খেয়ে এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে, প্রকৃতিতে এদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। কিছু সাপ যেমন, শঙ্খচূড়, খইয়া গোখরা, কালাচ বা কেউটে, শঙ্খিনী রাসেলস ভাইপারসহ অন্যান্য সাপ খেয়ে থাকে। বেজি, গুইসাপ, বাগডাশ, গন্ধগোকুল, বন বিড়াল, মেছো বিড়াল এরাও রাসেলস ভাইপার খেয়ে থাকে। এছাড়া তিলা নাগ ঈগল, সারস, মদন টাক এই সাপ খেতে পারে। বন্যপ্রাণী দেখলেই তা নিধন করার প্রবণতা, কারণে-অকারণে বন্যপ্রাণী হত্যা, এদের আবাসস্থল ধ্বংস করাসহ বিভিন্ন কারণে দেশের সর্বত্রই এসব শিকারি প্রাণী আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে রাসেলস ভাইপারও অত্যধিকহারে প্রকৃতিতে বেড়ে গেছে। তবে রাসেলস ভাইপার নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে বলে জানায় বন বিভাগ। আর এজন্য রাসেলস ভাইপারের আক্রমণ ও ভয়ানক বিষ থেকে বাঁচতে ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি। নির্দেশনাগুলো হলো:

• যথাসম্ভব সাপ এড়িয়ে চলুন, সাপ দেখলে তা ধরা বা মারার চেষ্টা করবেন না। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ব্যক্তির সাহায্য নিন বা নিকটতম বন বিভাগ অফিসে খবর দিন।

• যেসব এলাকায় রাসেলস ভাইপার দেখা গিয়েছে, সেসব এলাকায় চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।

• রাতে চলাচলের সময় অবশ্যই টর্চ লাইট ব্যবহার করুন।

• সাপে কাটলে ওঝার কাছে গিয়ে সময় নষ্ট করবেন না। রোগীকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। দংশিত স্থানের উপরে হালকা করে বেঁধে দিন।

• রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যান।

• আতঙ্কিত হবেন না, রাসেলস ভাইপারের অ্যান্টি ভেনম নিকটস্থ হাসপাতালেই পাওয়া যায়।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম