NL24 News
০৬ জুলাই, ২০২২, 3:50 PM
ব্লগার অনন্ত হত্যা: ফাঁসির আসামি ভারতে গ্রেফতার
লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফয়সাল আহমদ ভারতের বেঙ্গালুরুতে গ্রেফতার হয়েছেন।কলকাতা পুলিশের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানিয়েছে, বেঙ্গালুরুর বোম্মনাহাল্লিতে ১ জুলাই ফয়সালকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ৩ জুলাই নেয়া হয় কলকাতায়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করে ভারতের মাটিতে ফয়সালের জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের তথ্য মিলেছে জানিয়ে পত্রিকাটি লিখেছে, তাকে এবার বাংলাদেশ পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হবে। মুক্তমনা লেখক, ব্লগার, প্রকাশক ও অধিকারকর্মীদের ওপর একের পর এক জঙ্গিবাদী হামলার মধ্যে ২০১৫ সালের ১২ মে সিলেটের সুবিদবাজারের নূরানী আবাসিক এলাকায় খুন হন ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ। পেশায় ব্যাংকার অনন্ত বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ‘যুক্তি’ নামে বিজ্ঞানবিষয়ক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় গণজাগরণ মঞ্চেরও সংগঠক ছিলেন। ওই মামলার রায়ে গত ৩০ মার্চ চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার খালপাড় তালবাড়ির ফয়সাল আহমদ (২৭) একজন।
বাকি তিনজন হলেনঃ সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আবুল হোসেন (২৫), সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বিরেন্দ্রনগরের (বাগলী) মামুনুর রশীদ (২৫) ও কানাইঘাটের ফালজুর গ্রামের আবুল খায়ের রশীদ আহমদ (২৫)। তাদের মধ্যে খায়ের ছাড়া বাকি দুজনও পলাতক। কলকাতা পুলিশের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার লিখেছে, জুনের গোড়ায় বাংলাদেশের গোয়েন্দারা ফয়সালের হদিস পান ভারতে। তার মোবাইল নম্বর কলকাতা পুলিশকে দেয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নেয় এসটিএফ। মোবাইল ট্র্যাক করে বেঙ্গালুরুতে ফয়সালকে পায় পুলিশ। ভারতে যাওয়ার পর ফয়সাল সেখানে জঙ্গিদের সংগঠিত করতে কাজ করছিলেন জানিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফয়সালকে জেরা করে জানা গেছে, তারই নেতৃত্বে আল-কায়দার আসাম মডিউল নিজেদের ঘাঁটি মজবুত করেছে বরাক উপত্যকায়। হত্যাকাণ্ডের সময়ে ফয়সাল ছিল ডাক্তারির ছাত্র। জড়িয়ে পড়েছিল আল-কায়দার ছায়া সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সঙ্গে। বিভিন্ন মাদরাসায় পড়ানোর আড়ালে জেহাদি মতাদর্শ ছড়িয়েছে ফয়সাল। ফয়সালের কাছে যে পাসপোর্ট পাওয়া গেছে, সেখানে কাছাড়-ঘেঁষা মিজোরামের একটি ঠিকানা দেয়া হয়েছে। বেঙ্গালুরু থেকে তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স জোগাড় করেছেন। শিলচর থেকে বানিয়েছেন ভুয়া ভোটার কার্ড। যেখানে তার নাম শাহিদ মজুমদার। আনন্দবাজার লিখেছে, জেহাদি কার্যকলাপের অভিযোগ স্বীকার করে ফয়সাল জানিয়েছে, ২০১৫ সালেই সে শিলচরে পালিয়ে এসেছিল। তবে ব্লগার হত্যায় জড়িত থাকার কথা সে মানেনি। তার দাবি, তাকে ফাঁসানো হয়েছে।