ঢাকা ২৪ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু মেডিকেল কলেজে ৫০ ও জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইতিহাস গড়ে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে বাংলাদেশ দেশের বিমান খাত নিয়ে সরকারের বিশাল পরিকল্পনা তুলে ধরলেন বিমানমন্ত্রী রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা, কারণ জানাল পুলিশ রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু জানালা দিয়ে পানি চাইছিল দুই শিশু, তালা ভেঙে মিলল মায়ের মরদেহ ফেসবুকে শিক্ষকদের সরকারবিরোধী পোস্ট মনিটরিংয়ে নতুন নিয়ম গ্যাসের অভাবে বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে ৬ কারারক্ষী বরখাস্ত

#

নিজস্ব প্রতিনিধি

০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  10:48 AM

news image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে হৃদয় মিয়া (২৮) নামে একটি হত্যা মামলার আসামি অন্য এক আসামির জামিননামা ব্যবহার করে কৌশলে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ হাজতি ও দুই কয়েদির বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারা উপ-মহাপরিদর্শকের পক্ষে সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরিত আদেশে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পলাতক আসামি হৃদয় মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার নিমবাড়ী মধ্যপাড়ার মুজিবুর মিয়ার ছেলে। গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে তিনি জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যান। বরখাস্ত হওয়া কারারক্ষীরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের মো. মোরশেদ আলম, ফটক কারারক্ষী মো. হানিফ, মুক্তি শাখার কারারক্ষী মো. সাহাব উদ্দিন, ভর্তি শাখার ইনচার্জ রবিউল আলম, কারাভ্যন্তর গোয়েন্দা শাখার কারারক্ষী মো. জাহিদ হাসান এবং আইসিটি শাখার কারারক্ষী মো. আবু খায়ের। কারা সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জেলা সুপার ওবায়দুর রহমান লিখিতভাবে বিষয়টি নবীনগর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে অবহিত করেন। একই দিন জেলার পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আসামিরা হলেন পলাতক হাজতি হৃদয় মিয়া (২৮), নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগরের হাজতি দিদার হোসেন (২৮), একই উপজেলার নান্দুরা পূর্বপাড়ার হাজতি বিল্লাল মিয়া (২২), সদর উপজেলার পাঘাচংয়ের কয়েদি মো. পলাশ হোসেন (২৫), কসবা উপজেলার কোন্নাবাড়ির কয়েদি আক্তার হোসেন ছোটন (৩০), সিলেটের মোগলাবাজার থানার সুলতানপুর এলাকার হাজতি শিপন মিয়া (৪৫) এবং কসবার সোনারগাঁও এলাকার হাজতি মনির হোসেন (৫৫)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ১৫১ ধারায় কারাগারে থাকা হাজতি দিদার হোসেনের জামিননামা গত ২৯ ডিসেম্বর কারাগারে পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে দিদার হোসেনকে মুক্ত করার সময় হৃদয় মিয়া কৌশলে তার পরিচয় ধারণ করেন। এ সময় তিনি দিদারের কেস হিস্ট্রি টিকিটে থাকা ছবি সরিয়ে ফেলেন এবং ছবি হারিয়েছে বলে দাবি করেন। কারাগারে দায়িত্বরত কারারক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় নিজেকে দিদার হোসেন পরিচয় দেন। মামলার কাগজে ছবি না থাকায় এবং উপস্থিত অন্য আসামিদের সহায়তায় তাকে জামিনপ্রাপ্ত হাজতি হিসেবে শনাক্ত করে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি প্রকাশ পেলে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অনৈতিক লাভের আশায় যোগসাজশে হৃদয়কে পালাতে সহায়তা করার কথা স্বীকার করেন। চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া বলেন, অন্য আসামির জামিননামা ব্যবহার করে একজন হত্যা মামলার আসামি কারাগার থেকে পালিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছয় কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, ঘটনাটি সত্য। প্রাথমিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম