ঢাকা ২১ মে, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় ইজারাকৃত পশুরহাট দখলে নিতে হামলা, আহত ৫ প্রবাসীকে আট টুকরো, সেই পরকীয়া প্রেমিকা তাসলিমা গ্রেফতার ফুল ও গাছে সাজিয়ে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন-বাসযোগ্য করতে চাই: ডিএসসিসি প্রশাসক হাম ও হামের উপসর্গে একদিনে আরও ৬ মৃত্যু ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি খাল খননে নতুন নির্দেশনা ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিদিশা সিদ্দিকের ২ বছরের কারাদণ্ড, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি বিদ্যুতের দাম ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদ যেখানেই মব হবে, সেখানেই অ্যাকশন: ডিএমপি কমিশনার বাগেরহাটে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ৩

ব্যক্তি উদ্যোগে সরকারি খাল খননে নতুন নির্দেশনা ভূমি মন্ত্রণালয়ের

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ মে, ২০২৬,  3:56 PM

news image

দেশজুড়ে খাল দখল, ভরাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে জলাবদ্ধতা এবং পানি নিষ্কাশন সংকট বেড়ে যাওয়ায় সরকারি খাল পুনঃখননে ব্যক্তি উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে সরকারি খাল খনন করতে পারবে এবং খননকৃত মাটি ও বালি অপসারণের সুযোগ পাবে। এতে একদিকে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে, অন্যদিকে স্থানীয় উন্নয়ন কাজেও মাটি ও বালির চাহিদা পূরণ করা যাবে। সরকার জানিয়েছে, দেশের খাল পুনঃখনন এখন অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ। ইতোমধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তবে এখনো অনেক ছোট ও মাঝারি খাল পুনঃখননের বাইরে রয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি খাল খননে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট খাল সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মতামতের ভিত্তিতে কতটুকু খনন প্রয়োজন, তার একটি প্রাক্কলন তৈরি করা হবে। প্রাক্কলনে খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, গভীরতা এবং কত পরিমাণ মাটি বা বালি উত্তোলন করা যাবে, তা উল্লেখ থাকবে। একই খালের জন্য একাধিক আবেদন জমা পড়লে আলোচনা বা লটারির মাধ্যমে খননকারী নির্বাচন করা হবে। বড় খালের ক্ষেত্রে খণ্ডে ভাগ করে একাধিক আবেদনকারীকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, অনুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খননকাজ শেষ করতে হবে। খননকৃত মাটি, বালি, আগাছা ও অন্যান্য বর্জ্য খালের অন্তত ১০ মিটার দূরে সরিয়ে ফেলতে হবে। কাজ শেষ হওয়ার পর উপজেলা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে।

সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অনুমোদিত নকশা বা প্রাক্কলনের বাইরে অতিরিক্ত খনন করা যাবে না। অতিরিক্ত খননের কারণে পার্শ্ববর্তী জমি, স্থাপনা বা সম্পদের ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ ধরনের বিরোধ দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, খননকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উত্তোলিত মাটি নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার কিংবা বিক্রি করতে পারবে। এ জন্য সরকার, উপজেলা পরিষদ বা অন্য কোনো সংস্থাকে কোনো ধরনের ফি দিতে হবে না। তবে পুরো কার্যক্রম স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে উপজেলা কানুনগো, সার্ভেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন অনুযায়ী খনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কিনা, তা তারা নিশ্চিত করবেন। তবে সরকারি কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় থাকা খালে ব্যক্তি উদ্যোগে খননের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকা ছোট ছোট খাল পুনরুদ্ধারে গতি আসবে।

বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশন এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনাহীন দখল, ভরাট ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে দেশের বহু খাল হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নগর ও গ্রামীণ এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণ ও বেসরকারি উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিচালনা সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, ব্যক্তি উদ্যোগে খাল খননের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অতিরিক্ত মাটি উত্তোলন, অবৈধ বালু বাণিজ্য বা পরিবেশের ক্ষতি না ঘটে। জনস্বার্থে জারি করা এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম