বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বরগুনায় ‘Greener Earth for a Better Tomorrow 3.0’ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
১৮ জুন, ২০২৬, 12:39 PM
NL24 News
১৮ জুন, ২০২৬, 12:39 PM
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বরগুনায় ‘Greener Earth for a Better Tomorrow 3.0’ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি ও বৃক্ষরোপণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ
বরগুনা প্রতিনিধি: বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে যুব নেতৃত্বাধীন প্ল্যাটফর্ম Youth for Policy (YIP)-এর উদ্যোগে বরগুনার ঐতিহ্যবাহী D.K.P. Secondary School-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন “Greener Earth for a Better Tomorrow 3.0”। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণে তরুণদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক সবুজ উদ্যোগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ৫০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় তরুণরা অংশগ্রহণ করেন।
বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। উপকূলীয় জেলা বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, নদীভাঙন, তাপদাহ ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের প্রভাব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে সচেতন ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে YIP-এর এই উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মোঃ জোবাহের। তিনি বলেন, “পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের। তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই ও সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে, তাই তাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।”
পরবর্তীতে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মূল সেশন পরিচালনা করেন মোঃ সোহানুর রহমান সৈকত। দিনব্যাপী এই সেশনে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ, বৈশ্বিক উষ্ণতা, কার্বন নিঃসরণ, পরিবেশ দূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব এবং পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সেশনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত। আলোচনার একপর্যায়ে মোঃ জিহাদ খন্দকার পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এসব প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক চিন্তাভাবনা ও আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ রক্ষায় নিজেদের করণীয়, স্থানীয় পরিবেশগত সমস্যা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।
কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, শুধুমাত্র গাছ লাগানো নয়, বরং গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। রোপণকৃত গাছগুলো বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সামাজিক ন্যায়বিচার ও জেন্ডার সমতার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে। তাই জলবায়ু কার্যক্রম ও পরিবেশ সংরক্ষণ উদ্যোগে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যহীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের বার্তাও তুলে ধরা হয়।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, এ ধরনের কর্মসূচি তাদের শুধু পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করেনি, বরং বাস্তব জীবনে পরিবেশবান্ধব আচরণ অনুসরণে অনুপ্রাণিত করেছে। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় গাছ লাগানো এবং পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করে।
আয়োজকদের মতে, “Greener Earth for a Better Tomorrow” ক্যাম্পেইনটি ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে। পূর্ববর্তী বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজনও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
তারা জানান, আগামীতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করা, প্রতিটি জেলা থেকে অন্তত দুইজন প্রশিক্ষিত যুব প্রতিনিধি তৈরি করা এবং একদিনব্যাপী বিস্তৃত জলবায়ু শিক্ষা ও পরিবেশ বিষয়ক কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি, উন্নত প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ এবং অধিক সংখ্যক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাজেট বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।
ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন Joy Sarkar, Md. Jobayer, Md. Sohanur Rahman Soikot, Md. Jihad Khondoker, Tazmi Jahan, Muhammad Ilias Hossain, Zisa N, Khondoker Jihad, Thoiebur Rahman Hasib, Fariha Jannat, Lamiya Howladar, Maksudul Bahar, Mesbah Uddin, Mst. Urmi এবং Sona Moni-সহ একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের বার্তা সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বরগুনায় আয়োজিত “Greener Earth for a Better Tomorrow 3.0” ক্যাম্পেইনটি একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।