বান্দরবানে নামছে বন্যার পানি, ভাসছে ক্ষতচিহ্ণ
নিজস্ব প্রতিনিধি
১৩ জুলাই, ২০২৬, 1:16 PM
নিজস্ব প্রতিনিধি
১৩ জুলাই, ২০২৬, 1:16 PM
বান্দরবানে নামছে বন্যার পানি, ভাসছে ক্ষতচিহ্ণ
বান্দরবানে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি নেমে যাওয়ায় ভেসে উঠেছে ক্ষতচিহ্ণ। আশ্রয় কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে থাকা বন্যাকবলিত মানুষগুলো তাদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে কাদামাটি, ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এখনও অনেক জায় কাদামাটি জমাট হয়ে জলাবদ্ধতা রয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক না হওয়ায় দুর্গত এলাকায় জনসাধারনে দুর্ভোগ বেড়েছে।
এদিকে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। তারা ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে জমে থাকা মাটি ও উপড়ে পড়া গাছপালা অপসারণ করছেন। রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি, আলীকদম সড়কে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস নামে। ফলে জেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বেড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি। যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক রাখতে সেনাসদস্যরা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছায় উদ্ধার ও অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের কারণে ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বান্দরবানে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১০জন। বান্দরবানে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় অর্ধ-লক্ষাধীক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বান্দরবোনে জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, ৮ হাজার ৫শত পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বান্দরবোনে এই দুর্যোগে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। লামায় পাহাড় ধসে ৫জন এবং বাইশারী পানিতে ভেসে ১জন। জেলার ২৬টি পয়েন্টে পাহাড় ধস হয়েছে। পুরো জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২শত ৫০জন আশ্রয় নিয়েছে, আর পানিবন্দি হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৫শত পরিবার। জেলা প্রশাসন থেকে ইতোমধ্যে বন্যার্তদের নগদ ৮লাখ ৪০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে জেলা প্রশাসনের তথ্য থেকে।
প্রসঙ্গত: বান্দরবানের সাঙ্গু-মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া গেল এক সাপ্তাহ ধরে জেলার সাতটি উপজেলা, দুইটি পৌর সভা ও ৩৪টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ-লক্ষাধীক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। জেলা শহরের নিম্নাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী বসতবাড়ী পানিতে ডুবে যায়। পাহাড় ধসে বন্ধ হয়ে যায় বান্দরবানের সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ।