ঢাকা ১৯ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
গোপালগঞ্জে বাস-ডাম্প ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ মহাসড়কে গতি সীমাসহ ট্রাফিক আইন ভাঙলেই অটো ফাইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেল্লা বাবার মাজারের দানবাক্সে মিলল ১২ বস্তা টাকা কাতার পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দুই জঙ্গিসহ জেল পালানো ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক: কারা মহাপরিদর্শক হঠাৎ বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতন মহাসড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই অটো ফাইন পদত্যাগ করছেন পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের গ্রিসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

বাজেট নিয়ে সমালোচনা খুব একটা আমলে নিচ্ছি না: সড়কমন্ত্রী

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ জুন, ২০২৬,  4:54 PM

news image

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। 


রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।


মন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে প্রায় ৩০ শতাংশের মতো বরাদ্দ রেখেছেন। ভৌত অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশের উপরে বরাদ্দ রেখেছেন। সাধারণ সেবার ক্ষেত্রে ২৬ শতাংশের মতো বরাদ্দ রেখেছেন। অর্থাৎ অর্থের বরাদ্দের অনুপাতটা তিনি চমৎকারভাবে সাজিয়েছেন।


তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নের জায়গাটা হলো আমাদের একমাত্র সম্ভাবনাময় খাত। আমাদের লক্ষ্য, ১৮ কোটি মানুষকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে তৈরি করা। সেক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী যথেষ্ট ও সময়োপযোগী বরাদ্দ রেখেছেন। অনগ্রসর জাতিকে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য, সাধারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তিনি ২৬ শতাংশের কাছাকাছি বরাদ্দ রেখেছেন, যা আমাদের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


রবিউল আলম বলেন, আহরিত অর্থের দুই ধরনের ব্যয় রাষ্ট্র করে। একটি হচ্ছে অনুন্নয়ন ব্যয়, আরেকটি হচ্ছে উন্নয়ন ব্যয়। অনুন্নয়ন ব্যয় মানে হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যয়। রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অর্থমন্ত্রী যেটা গত অর্থবছরে ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ, সেখান থেকে কমিয়ে তিনি নিয়ে এসেছেন ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে। তার মানে অপচয় রোধ করেছেন। অপ্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করছেন না। তিনি উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়েছেন। যে উন্নয়ন ব্যয় গত অর্থবছরে; অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ, সেটাকে তিনি বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ করেছেন। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে।


মন্ত্রী বলেন, বাজেট নিয়ে আমি খুব সমালোচনা শুনিনি সংসদে। কিছু শঙ্কা শুনেছি। এই বাজেট নিয়ে কেউ নেতিবাচক কিছু বলেননি। কিছু আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কোথায় করেছেন? সেটি হচ্ছে রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হতে পারে। রাজস্ব আয়ের ঘাটতি হবে না। কারণ, ই-চালানের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ করা হবে। কর অব্যাহতি হ্রাস করা হবে। রাজস্ব ফাঁকির ক্ষেত্রে চিহ্নিতকরণ করা হবে এবং ভ্যাট কাঠামোতে নতুন বিন্যাস করা হবে। অতএব, রাজস্ব ঘাটতি আমি দেখছি না। আর আমাদের রাজস্ব আরোহণ কর অনুপাতে যদি বলেন, সেটা যদি হয় ৯ শতাংশের কাছাকাছি, নেপাল-ভুটানও ১৩-১৪ শতাংশ করে। আমাদের ওখানে যেতে হবে। সেজন্য অর্থমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। আমার বিশ্বাস রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হবে না।


তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের কথা বলা হয়েছে; ব্যাংক ঋণও কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। এবার করা হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। আমার মনে হচ্ছে, যেভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আমাদের মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে, তাতে জনগণের সঞ্চয় বাড়বে। অতএব, ব্যাংকের অর্থের ঘাটতি কিন্তু হবে না। ঘাটতি বাজেটের কথা বলা হয়েছে। কর যদি আহরিত হয়; রাজস্ব ঠিকমত যদি আহরিত হয়; ব্যাংক থেকে যদি লোনটা যেটা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেভাবে পাওয়া যায়, ঘাটতি বাজেট হওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না।


রবিউল আলম এসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ঘাটতি বাজেটের তথ্য তুলে ধরে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ। তাদের সর্বশেষ বাজেটে ঘাটতি জিডিপির পাঁচ দশমিক ৫। আপনি চীনে যান, সেখানেও জিডিপির ৪ শতাংশ ঘাটতি বাজেট। অতএব, এই ঘাটতি বাজেট মিটআপ এবং অ্যাচিভ করতে সক্ষম হবো আমরা। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ছয় দশমিক ৫ শতাংশ। যারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাদের জন্য বলতে চাই, প্রথম বিরোধী দল হয়েছেন, অনেক জায়গায় সমালোচনা করতে ভুল করেছেন। সরকারি দল এখনও হন নাই। আমার বিশ্বাস, আর দুই-চারবার-পাঁচবার বিরোধী দল থাকলে আস্তে আস্তে তারা সমালোচনাটাও বুঝে যাবেন। আমি ওই সমালোচনাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছি না।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম