NL24 News
০৭ আগস্ট, ২০২২, 4:17 PM
বরগুনা জেলা ছাত্রলীগ ও ১৪৪ ধারা জারি
বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া প্রানের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।ছাত্রলীগ নিয়ে যখনই কোন নিউজ পড়ি,একই সাথে আনন্দ এবং শঙ্কা দুটো অনুভুতি কাজ করে।দেশের গন্ডি পেরিয়ে ছাত্রলীগ আজ সারা বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত।ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ছাত্রলীগের রয়েছে গৌরবময় সোনালী অতীত। অভিনন্দন ও শুভ কামনা নব-গঠিত বরগুনা জেলা ছাত্রলীগ।সভাপতি - রেজাউল কবির রেজা।সাধারণ সম্পাদক - তৌশিকুর রহমান ইমরান।সহ-সভাপতি - সবুজ মোল্লা শুভেচ্ছা নিরন্তর। নব-গঠিত বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ একই স্থানে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় আইন-শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।যেকোন ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রেজা তুমি ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছো তোমার পরিবারের রাজনৈতিক যোগ্যতায়।তুমি ঐ পরিবারের সন্তান এটাই তোমার বড় যোগ্যতা।ছাত্রলীগে কোন পদ না থাকা স্বত্তেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে তোমার নেতৃত্বে বিশাল কর্মী বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে নিজেকে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে প্রমান করেছ অনেক আগেই।
অনিক-তানভীর কমিটিতে সবুজ মোল্লা বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের উপ-আইন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।ছাত্রলীগের মাঠের নেতা হিসেবে কর্মীদের মাঝে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে। সাধারণ সম্পাদক-তৌশিকুর রহমান ইমরান ছাত্রলীগের প্রতিটি মিছিল মিটিং ও সোস্যাল মিডিয়ায় তোমার সরব উপস্থিতি সকলেরই নজর কেড়েছে।
বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকারী দক্ষিণ বঙ্গের জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মাননীয় মেয়র জননেতা সাদিক আবদুল্লাহ সহ বরগুনা জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মানিত নেতৃবৃন্দদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছো।এটাই রাজনৈতিক শিষ্টাচার।তোমাদের এখন প্রতিটি উপজেলা ও পৌরসভায় ফুলেল শুভেচছা গ্রহনের সময়। রাজনীতিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বলতে কিছু নেই।একঝাঁক তরুন মেধাবীদের মিলন মেলা জেলা ছাত্রলীগ।সবাইকে রাজনীতি করার সুযোগ দিতে হবে। সভাপতি-সাধারন সম্পাদক হিসেবে তোমরা তো এমনিতেই সুবিধাজনক অবস্থায় আছো। সবুজ মোল্লা তুমি বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের বিপ্লবী সহ-সভাপতি।ছাত্রলীগের একটি বিশাল কর্মী বাহিনী তোমাকে সমর্থন করে ও ভালোবাসে।এটা তোমার অর্জন।এই অর্জনকে ধরে রাখতে হবে। সফলতার মূলমন্ত্র পরিশ্রম ও ধৈর্য্য ধারন।ছাত্রলীগ একটি ভ্রাতৃপতিম সংগঠন।ছাত্রলীগ রাজনীতির পাঠশালা।এখানে মুজিব আদর্শের সৈনিক তৈরি করা হয়।তারা জ্ঞানে ও মননে সমৃদ্ধ।
টানা তৃতীয় বার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায়।প্রতিটি সেক্টরেই শেখ হাসিনা সরকার ঈর্সনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে।সোনার বাংলা আজ ডিজিটাল বাংলায় রুপ নিয়েছে।শেখ হাসিনা সরকারের অগ্রগতি ও সাফল্যকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে এই ছাত্রলীগকে।পরিনত হতে হবে গণমানুষের নির্ভরতার সংগঠনে।তারুন্য যত তারাতাড়ি গনমানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে আর কোন শক্তির দ্বারা তা সম্ভব নয়।
২০ বছর আগের ছাত্রলীগের কার্যক্রমের সাথে আজকের ছাত্রলীগের তেমন কোন পার্থক্য নজরে পরে না।শুধু বয়সের দোহাই দিয়ে সিন্ডিকেট তার ইচ্ছা মতো যে কাউকে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে বসায় যোগ্য নেতৃত্বকে বঞ্চিত করে।বিগত দিনে কেন্দ্রীয়, মহানগর,জেলা ও উপজেলা কমিটিতে অনেকেই ছাত্ররাজনীতি জীবনের প্রথম পদ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মতো শীর্ষ পদ পেয়ে শুরু করেছে।যা খুবই হতাশাজনক।এই প্রক্রিয়ায় ছাত্রলীগ যোগ্য নেতৃত্ব হারাচ্ছে।কোন ইউনিটে নেতৃত্ব দেয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় ছাত্রলীগ প্রায়শই খবরের নেগেটিভ হেডলাইন হিসেবে আর্বিভূত হয়। ব্যার্থতাকে আড়াল করতে ঐসব নেতারা কথিত সিন্ডিকেটের কোন এক ভাইয়ের পকেটে ঢুকে পড়ে। গত ১৭ জুলাই বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল।দীর্ঘদিন পরে হলেও সফল ও সুন্দরভাবে সম্মেলন সম্পন্ন করায় জয়-লেখকসহ বরগুনা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল নেতৃবৃন্দকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমার প্রিয় বরগুনা। নদী মাতৃক এই জেলার অধিকাংশ মানুষ নৌকাকে ভালোবাসে।সম্মেলন কে ঘিরে জেলার প্রতিটি উপজেলা ও পৌরসভাসহ তৃনমুলের সকল ইউনিটে বিগত বেশ কয়েকদিন উৎসবের আমেজ বিরাজ করেছে।
সম্মেলন আরও প্রানবন্ত হতো যদি দুই চারদিন আগে থেকেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস,সরকারের উন্নয়ন চিত্রপ্রদর্শন,পাঠচক্র,রচনা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা,কবিতা,বিতর্ক ও উদ্ভাবনী আইডিয়া সহ বাস্তবমুখী নানা পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারতো।এতে তৃনমুলের প্রতিটি অঞ্চল থেকে উঠে আসতো আরো অনেক যোগ্য নেতৃত্ব।সৃজনশীল কার্যক্রম গ্রহনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হৃদয়ের মনিকোঠায় জায়গা করে নিতে হবে ছাত্রলীগকে।দলীয় কার্যক্রম আরও বেশি বেগবান করতে এই বিশাল তরুণ প্রজন্মেকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ছাত্রলীগের প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীকে লেখাপড়া ও ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের সংবিধান, সম-সাময়িক দেশীয় ও বিশ্ব রাজনীতি,আইন,ধর্ম ও অর্থনীতি সম্পর্কে সম্যক ধারনা দিতে হবে।এজন্য প্রতিনিয়ত সভা,সেমিনার,সিম্পোজিয়াম আয়োজন করে ছাত্রলীগকে আরও বেশি আধুনিক ও গতিশীল করা সময়ের দাবী।
বরগুনা জেলা ছাত্রলীগ-তোমাদের কোন পদক্ষেপে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কিংবা জাতীয় রাজনীতি যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।সব গ্রুপকেই মনে রাখতে হবে ছাত্রলীগের কোন শিক্ষার্থী যেন তাদের এই সুন্দর শিক্ষা জীবন থেকে ঝড়ে না পড়ে।কারো সাথে কারো যেন সম্পর্কের অবনতি না হয়। বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রান পুরুষ,আমার রাজনৈতিক শিক্ষা গুরু,জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেতা এ্যাড.ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু (এমপি) ও সাধারণ সম্পাদক সিংহ পুরুষ জননেতা আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর কবীরও একসময় এই ছাত্রলীগের নেতৃত্বে দিয়েছেন।
বারবার রাজনৈতিক প্রতিযোগীতা হয়েছে এই শহরে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তেমন কোন অপ্রিতিকর ঘটনা কিংবা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি কখনো।যা হয়েছে তা ছিল রাজনীতি চর্চা।অনুপ্রবেশকারীরা কিছু বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছিল কিন্তু সফল হয়নি। ছাত্রলীগের পরিচয় নিয়ে সবার সাথে রাজনৈতিক সুসম্পর্ক তৈরি করা দোসের কিছু নয়।বর্তমান এই পরিস্থিতিতে সুযোগ সন্ধানীরা প্রতিদ্বন্ধীদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করার চেষ্টা করবে।শুধু খেয়াল রাখতে হবে যেন কারো প্ররোচনায় বিপথে পরিচালিত না হও। তোমাদের সকলের জন্য রইলো অনেক অনেক শুভ কামনা।সঠিক রাজনীতি চর্চার মধ্য দিয়ে তোমরা যেন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে আশানুরূপ ভূমিকা পালন করতে পার।
#শিক্ষা#শান্তি # প্রগতি'র পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ বরগুনা জেলা ছাত্রলীগ হবে বাংলাদেশের মডেল ছাত্রলীগ এটাই প্রত্যাশা।