নিজস্ব প্রতিনিধি
০৫ এপ্রিল, ২০২৬, 12:15 PM
বরগুনায় শিক্ষককে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা
বরগুনার বামনায় এক স্কুলশিক্ষককে পথরোধ করে মারধর এবং ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত রোববার বরগুনার বিজ্ঞ দ্রুত বিচার আদালতে মামলাটি করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. আব্দুল হক। মামলার আসামিরা হলেন—মো. রফিকুল ইসলাম (৪০), আ. ছালাম (৬০), মো. ছগীর হোসেন (৫৬) ও মো. ফারুক হোসেন (৫৩)। তাঁরা সবাই বামনা উপজেলার বাসিন্দা। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী আব্দুল হক ২১ নম্বর খোলপটুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। আসামিরা এলাকায় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ওই শিক্ষকের একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ হলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সেই অভিযোগ তুলে নিতে এবং এলাকায় চাকুরী করতে হলে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল তারা। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ সকালে শিক্ষক আব্দুল হক বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে খোলপটুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গেটের সামনে আসামিরা মোটরসাইকেলযোগে তাঁর পথরোধ করে। অস্ত্রশস্ত্র দেখিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয় এবং ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। আত্মরক্ষার্থে শিক্ষক দৌড়ে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঢুকে পড়লে আসামিরা সেখানেও চড়াও হয়। আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, আসামিরা নিজেদের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের লোক পরিচয় দিয়ে উচ্চস্বরে বলতে থাকে, ‘আমাদের দল ক্ষমতায় আছে। এই স্কুলে চাকরি করতে হলে ২ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে।’ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শিক্ষককে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা ছুড়ে ফেলে এবং আসবাব ভাঙচুর করে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়। শিক্ষার্থীদের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষক আব্দুল হক বলেন, ‘আসামিরা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছে। আমি থানায় মামলা করতে গেলে আমাকে আদালতের পরামর্শ দেওয়া হয়। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।’ আদালত বাদীর আরজি গ্রহণ করে পরবর্তী আদেশের জন্য রেখেছেন। মামলার সাক্ষীরা ওই এলাকারই বাসিন্দা এবং তাঁরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।