বন্যায় ধ্বংস নেপাল-চীনের ‘অল ওয়েদার’ বাণিজ্যপথ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩১ আগস্ট, ২০২৬, 11:50 AM
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩১ আগস্ট, ২০২৬, 11:50 AM
বন্যায় ধ্বংস নেপাল-চীনের ‘অল ওয়েদার’ বাণিজ্যপথ
ভয়াবহ বন্যায় নেপালের সঙ্গে চীনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ রাসুয়া কেরুং কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি করিডরে ভয়াবহ বন্যায় রাসুয়াগাধি সীমান্ত চৌকি ও চীন নেপাল মৈত্রী সেতু ধ্বংস হয়। ফলে দেশটির প্রধান স্থলবাণিজ্যপথ দিয়ে চীনের সঙ্গে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় নেপালে ৭৮৮ জন নিহত এবং ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। একই সঙ্গে রাসুয়াগাধি সীমান্ত এলাকার ব্যবসা বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাসুয়া কেরুং পথটি ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়ার পর বিশেষ করে ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর নেপালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হয়ে ওঠে। চীন থেকে পোশাক, ইলেকট্রনিকস, গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য এই পথ দিয়ে কাঠমান্ডুতে পৌঁছাত।
এবারের বিপর্যয় নেপালের প্রধান উৎসব দশাইন ও তিহারের আগে ব্যবসায়ীদের নতুন দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর চীনের সঙ্গে নেপালের বাণিজ্যের ব্যস্ত সময়। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন রাসুয়াগাধি সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি পণ্যবাহী যান চলাচল করত।
বিকল্প হিসেবে তাতোপানি ও কোরালা সীমান্তপথ ব্যবহারের কথা ভাবছে নেপাল সরকার। তবে তাতোপানি পথও বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। কেরুং থেকে তাতোপানি দিয়ে পণ্য পাঠালে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হবে।
অন্যদিকে কোরালা সীমান্তে পর্যাপ্ত শুল্ক অবকাঠামো নেই এবং ভারী যান চলাচলের সক্ষমতাও সীমিত। শীতকালে সেখানে তীব্র তুষারপাতের কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
নেপাল গত অর্থবছরে চীন থেকে ৪২৫ দশমিক ২৪ বিলিয়ন রুপির পণ্য আমদানি করেছে। একই সময়ে চীনে দেশটির রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন রুপিতে। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যপথে এই বিপর্যয় নেপালের সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট