ঢাকা ১২ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ছেলে-মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরে ফেলে হত্যা করলেন বাবা পলিসি ক্যাম্প ২০২৬-এ বরগুনার তরুণ মোঃ সোহানুর রহমান সৈকত ফাইনালিস্ট হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ মৃত্যু সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে ভারত থেকে দেশে আসছে ১৯টি নতুন রেলবগি হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র: বাণিজ্যমন্ত্রী সাভারে ফের বোমাসদৃশ প্রেসারকুকার উদ্ধার, ঘটনাস্থলে ডিসপোজাল ইউনিট আ. লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার খবরটি গুজব: তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ ভ্রমণে উচ্চমাত্রার সতর্কতা কানাডার সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন নামঞ্জুর

বন্যায় চট্টগ্রামে মৎস্য-কৃষিখাতে শতকোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা

#

নিজস্ব প্রতিনিধি

১১ জুলাই, ২০২৬,  11:59 AM

news image

কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের কৃষি ও মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষয় হয়েছে। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় চট্টগ্রামের ১৫৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার পুকুর ও চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে জেলায় ১৪ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এমন বৃষ্টি চলতে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, প্রাথমিকভাবে তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। সেই তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও দিঘি, ৩২০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ৪ হাজার ১১২ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে ২ হাজার ৫০০টি পুকুর, ৩১০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে সাতকানিয়ায়। সেখানে ৪৬৬ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চূড়ান্ত হিসেব পেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। 

মৎস্য খাতের পাশাপাশি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে বন্যায় ৮ হাজার ৭৬৮ হেক্টর আউশ ধান, ৬২১ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৪ হাজার ৯০৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রাথমিক হিসেবে ১৪ হাজার ২৯৬ দশমিক ৬৬ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। 

বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপ উপজেলায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সবচেয়ে বেশি। বাঁশখালীতে ২ হাজার ১৫০ হেক্টর, চন্দনাইশে ২ হাজার ১২০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর ও সন্দ্বীপে ১ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। 

জেলা কৃষি কর্মকর্তা আপ্রু মারমা জানান, কৃষি জমির পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। চন্দনাইশে ৮৩০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ৭০০ হেক্টর, সন্দ্বীপে ৬০০ হেক্টর, ফটিকছড়িতে ৪৭৫ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ৪৬০ হেক্টর ও বাঁশখালীতে ৪০০ হেক্টর জমির সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে। পানি নামলে ক্ষতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।  সূত্র : দৈনিক সমকাল

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম