ঢাকা ১৫ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন, আলোচনায় সিনিয়র নেতা ও টেকনোক্র্যাট জ্বালানি সংকট থেকে বের হতে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন কাটছাঁটের শঙ্কা হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৮ শিশুর মৃত্যু শিক্ষকদের অবসরের টাকা পেতে অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী ডারউইন টেস্ট: ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ দাম কমার পরদিনই স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ২১৫৮ টাকা কালিয়াকৈরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার যেভাবে গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী হয়ে ওঠেন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে 'এমপি মোশাররফকে মন্ত্রী হিসেবে পেতে' উপকূলের লাখো মানুষের দাবী

পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন কাটছাঁটের শঙ্কা

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ আগস্ট, ২০২৬,  5:17 PM

news image

নবম জাতীয় পে স্কেলে সচিব কমিটির সুপারিশ করা সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনও কাটছাঁট করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সর্বনিম্ন বেতন আরও বাড়িয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।


শনিবার (১৫ আগস্ট) সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানানো হয়।


বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। সেই হিসাবে বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার মূল বেতনে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে তা দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৫০০ টাকায়। সংগঠনটির দাবি, এই সুপারিশ সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিচ্ছে।


তারা বলেছে, অতীতের বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। সেই তুলনায় বর্তমান প্রস্তাবকে তারা অপর্যাপ্ত মনে করছে।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ ১১ বছর পর বহু আন্দোলন-সংগ্রাম এবং কর্মচারীদের ধারাবাহিক দাবির পর নবম পে স্কেল আসছে। কিন্তু এরই মধ্যে দ্রব্যমূল্য ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বেতন বাড়ার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও হতাশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে কোনোভাবেই তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না বলে সংগঠনটি দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, নবম পে স্কেলে যে পরিমাণ বেতন বাড়ানো হতে পারে, তার চেয়ে বহু গুণ বেশি দ্রব্যমূল্য ইতিমধ্যে বেড়ে গেছে। ফলে পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে।


বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আরও বলেছে, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর মতবিনিময় সভায় কর্মচারীদের বর্তমান আর্থিক অবস্থা এবং দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে আয়ের অসামঞ্জস্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে দুটি পে স্কেলের সমন্বয় করে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।


তবে বিবৃতিতে বলা হয়, ওই দাবির তুলনায় কমিয়ে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ১:৪ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, এর ফলে বৈষম্যের আরেকটি স্তর তৈরি হয়েছে।


বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি যদি সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশও আরও কমিয়ে দেয়, তাহলে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি এবং বর্তমান দ্রব্যমূল্যের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্যই থাকবে না। এতে সাধারণ কর্মচারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একই সঙ্গে কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা, হতাশা ও অভাব আরও বেড়ে যাবে বলেও তারা মনে করছে।


সাধারণ কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সংগঠনটির নেতারা দাবি জানিয়েছেন, সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশ আরও কিছুটা বাড়ানো হোক। বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দ্রুত গেজেট প্রকাশেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।


নবম জাতীয় পে স্কেল ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশা রয়েছে। ২০১৫ সালের পর নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে নতুন পে স্কেল নিয়ে চাপ বাড়ছিল। এই প্রেক্ষাপটে কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আবারও সর্বনিম্ন বেতন বাড়ানো এবং দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি তুলেছে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম