ঢাকা ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় বিস্ফোরণের পর আগুন, নিহত ৭ হাম উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি বেকারত্ব কমাতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় জোর দেওয়ার তাগিদ রাষ্ট্রপতির প্রথম স্ত্রীসহ এমপি নজরুল ইসলাম রিমান্ডে ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক এনসিপির, সন্ধ্যায় মিছিল সরকার বাধ্য হয়েই তেলের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নৌসদস্যের মৃত্যু জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদকে ‘বড় বরাদ্দ’ দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর: মাহদী আমিন স্বাস্থ্যখাতের ওপর সরকারের বড় সাফল্য নির্ভর করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পরিবেশ রক্ষায় বছরে ১২৪ প্রাণহানি, শীর্ষে কলম্বিয়া

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,  11:31 AM

news image

বিশ্বজুড়ে পরিবেশ ও ভূমি রক্ষায় কাজ করতে গিয়ে ২০২৫ সালে অন্তত ১২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি হত্যার ঘটনা ঘটেছে কলম্বিয়ায়। দেশটিতে নিহত হয়েছেন ৩৯ জন পরিবেশ ও ভূমি রক্ষাকর্মী। এরপরই রয়েছে ব্রাজিল, যেখানে নিহত হয়েছেন ২৬ জন।


পরিবেশ ও মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন গ্লোবাল উইটনেসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নথিভুক্ত হত্যার ৮৫ শতাংশই ঘটেছে লাতিন আমেরিকায়। ২০১২ সালে এ ধরনের বার্ষিক হিসাব প্রকাশ শুরু করার পর থেকে প্রতিবছরই অঞ্চলটি পরিবেশ রক্ষাকর্মীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অঞ্চল হিসেবে উঠে এসেছে।


কলম্বিয়া টানা চতুর্থ বছরের মতো পরিবেশ ও ভূমি রক্ষাকর্মী হত্যায় শীর্ষে রয়েছে। দেশটিতে নিহতদের প্রায় অর্ধেকই ছিলেন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্য। আরও ১৫ জন ছিলেন ক্ষুদ্র কৃষক। নিহত ৩৯ জনের মধ্যে ৩৫টি ঘটনার সঙ্গে ভূমি বিরোধের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।


কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কাউকা অঞ্চল বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ২০২৫ সালে সেখানে ১৩ জন পরিবেশ ও ভূমি রক্ষাকর্মী নিহত হয়েছেন। অবৈধ খনন, কোকা চাষ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণের লড়াইকে ওই অঞ্চলে সহিংসতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে গ্লোবাল উইটনেস।


ব্রাজিলে পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালে সেখানে ২৬ জন নিহত হয়েছেন, যা আগের বছরের ১২ জনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বিশেষ করে আমাজন অঞ্চলের ভূমি দখল, অবৈধ খনন, বন উজাড় ও কৃষি সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনা বেশি দেখা গেছে।


শীর্ষ তালিকায় কলম্বিয়া ও ব্রাজিলের পর রয়েছে হন্ডুরাস ও ফিলিপাইন- ১২ জন করে, মেক্সিকো ১০ জন এবং গুয়াতেমালা আটজন। সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে নিহতদের তিন-চতুর্থাংশের বেশি ছিলেন আদিবাসী, ক্ষুদ্র কৃষক অথবা আফ্রো-বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর সদস্য।


গ্লোবাল উইটনেসের হিসাবে, ২০২৫ সালের ১২৪টি হত্যার মধ্যে ৮৪টির সঙ্গে ভূমি বিরোধের যোগসূত্র ছিল। খনি ও উত্তোলনশিল্পের সঙ্গে ১১টি, বন উজাড়ের সঙ্গে আটটি এবং কৃষি ব্যবসার সঙ্গে ছয়টি হত্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এক-তৃতীয়াংশের বেশি হত্যার ঘটনায় সংগঠিত অপরাধী চক্র বা ভাড়াটে খুনিদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।


তবে আগের বছরের তুলনায় হত্যার সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ সালে গ্লোবাল উইটনেস ১৪২টি এবং ২০২৩ সালে ১৯৬টি হত্যার ঘটনা নথিভুক্ত করেছিল। সংগঠনটি বলছে, এই সংখ্যা প্রকৃত পরিস্থিতির চেয়ে কম হতে পারে, কারণ অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চল ও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় হত্যার ঘটনা নথিভুক্ত বা যাচাই করা সম্ভব হয় না।


২০১২ সাল থেকে গ্লোবাল উইটনেসের হিসাবে বিশ্বজুড়ে ভূমি ও পরিবেশ রক্ষাকর্মী হত্যা ও নিখোঁজের মোট নথিভুক্ত ঘটনা ২ হাজার ৩৭৫টি। তথ্য সূত্র- বিবিসি।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম