ঢাকা ২৭ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
পদ্মা নদীতে বাস পড়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই নারীর লাশ উদ্ধার কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার ১৫ শতাংশ গণমাধ্যমকর্মী: জরিপ পাঠ্যবইয়ে ফুটবল-ক্রিকেট-দাবাসহ ৭ খেলা যুক্ত করার নির্দেশ দেশের ১৮ তম অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল দেশে জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই: তথ্যমন্ত্রী ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রায় নিরাপত্তায় জোর, অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার নির্দেশ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ, শুরু ১৫ এপ্রিল কক্সবাজারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম খুন রূপগঞ্জে স্বামীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ জন লালমাইয়ে কুস্তি প্রতিযোগিতা চলাকালে মাঠে খেলোয়াড়ের মৃত্যু

নবীপ্রেমের ব্যতিক্রমী বহিঃপ্রকাশ

#

১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪,  11:00 AM

news image

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা মুমিনের ঈমানের দাবি। নবীজি (সা.)-এর প্রতি আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ভালোবাসা নানাভাবে প্রকাশ পেয়েছে। যেমন- ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত মুসলিম মনীষী শাহ আবদুর রহিম দেহলভি (রহ.) প্রতিবছর রবিউল আউয়াল মাসে কিছু খাবার প্রস্তুত করে মানুষের মধ্যে বিতরণ করতেন।

একবার তিনি কোনো খাবার সংগ্রহ করতে পারলেন না। তাই সামান্য কিছু ছোলা ভেজে মানুষের মধ্যে বিতরণ করলেন। পরবর্তী রাতে তিনি স্বপ্নে দেখলেন, রাসুলে আকরাম (সা.) সেই ছোলা ভাজা খাচ্ছেন। এটা ছিল নবীজি (সা.)-এর প্রতি আল্লাহওয়ালাদের ভালোবাসার দৃষ্টান্ত, যা আমাদের জন্য শিক্ষণীয়।

নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এবং তার জন্য ইসালে সাওয়াবের সহজ পদ্ধতি হলো গোপনে সাধ্যানুযায়ী কিছু দান করা। রবিউল আউয়াল মাসে ৫০ টাকা (অথবা সামর্থ্য অনুসারে অন্য কোনো পরিমাণ) দান করুন এবং তা গোপনে করুন। প্রয়োজনে এক টাকা করে একেকজন মিসকিনকে দান করুন। এটা রাসুলে আকরাম (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের একটি সত্যিকার মাধ্যম। তবে আমার আশঙ্কা-এটা অনেকেই পছন্দ করবে না, অন্তরেও তা মানবে না। অন্তর কুমন্ত্রণা দিয়ে বলবে- ভাই, ৫০ টাকা খরচ করলে, অথচ কেউ তা জানতে পারল না!

মহানবী (সা.)-এর আনুগত্য ছাড়া শুধু তার প্রতি ভালোবাসা পরকালে কোনো কাজে আসবে না। বিশেষত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ যখন মানুষের প্রথা-প্রচলনে পরিণত। আমি কানপুরে থাকতে এক ব্যক্তি এসে মিলাদ পাঠের জন্য আমাকে দাওয়াত করল। আমি যথাসময়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্ম ও সিরাত বিষয়ে আলোচনা করে এলাম। পরের দিন জানতে পারলাম, একই মঞ্চে নাচ-গানের অনুষ্ঠান হয়েছে।

শুনে আমি অত্যন্ত ব্যথিত হলাম। অনুসন্ধান করে জানা গেল, সেই বাড়িতে মূলত বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। বাড়িওয়ালার উদ্দেশ্য ছিল নাচ-গানের আয়োজন করা। কিন্তু কিছু দ্বিনদার বন্ধু ও আত্মীয়র অনুরোধে মিলাদের আয়োজন করা হয়। এই মিলাদের পেছনে কোনো ভালোবাসা ছিল না, এটা ছিল নিছক আনুষ্ঠানিকতা। এর কোনো উপকার বা ভালো ফল আশা করা যায় না। আল্লাহর শাস্তির ভয় অন্তরে না থাকলে এমন আনুষ্ঠানিকতাই বা মানুষের কী কাজে আসবে? আল্লাহ সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।

মাওয়ায়েজে আশরাফিয়া থেকে মুফতি আবদুল্লাহ নুরের ভাষান্তর।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম