ঢাকা ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১২ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি বিরোধী দলের আপত্তির মুখেই দুই বিল পাশ ২৩৮৬৫টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, সংসদে আইনমন্ত্রী ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী ডেমরায় কালি তৈরির কারখানায় আগুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সাক্ষাৎ দুর্ঘটনার সময় বাসে আটকে মৃত্যু ঠেকাতে নতুন নির্দেশনা বিআরটিএর হাইকোর্টে জামিন পেলেন ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার ইমি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত সরকারের ‘বড় ভুল’ ছিল দুই মামলায় জামিন পেলেন আইভী

ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ এপ্রিল, ২০২৬,  1:50 PM

news image

শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যাতে শান্তি এবং নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে তেমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বলেন, ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।

শুক্রবার (১ মে) শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল)  সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।  বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লিখিত বক্তব্যে বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী যারা যেখানে রয়েছেন তাদেরকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

 আমরা জানি পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম আছে। প্রতি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যাভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, 

যেই কয়টি জিনিস এখানে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে এ নির্দেশনা প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যিনি যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে আমরা সকলে মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ নির্মাণ করতে পারব।

সুতরাং, যাতে প্রতিটি নাগরিক প্রত্যেকেই যে যার ধর্মীয় রীতি নীতি ও অধিকার বিনা বাধায়-স্বাধীনভাবে অনুসরণ-অনুকরণ ও ভোগ করতে পারে এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব ও অঙ্গীকার।  দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যাতে শান্তি এবং নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে তেমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সচিবালয়ে শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তারা একটি ক্রেস্ট তুলে দেন।

বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গ হচ্ছে, যা আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমিও জোর দিয়ে আবারও একই কথা বলতে চাই-ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সকল ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি বলেও জানান তারেক রহমান। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্খা নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময়কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী এটি কারও জিজ্ঞাসা ছিলো না। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার আমার, আমাদের সকলের।

বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ'। বাংলাদেশে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। সুতরাং, আপনারা কেউ নিজেদেরকে কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমার আপনার আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সকলে 'আমরা বাংলাদেশি'।

পরিশেষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সকল ভাই-বোনদের আবারও শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। বৌদ্ধ পূর্ণিমার এ বিশেষ দিনটি আপনাদের জন্য হয়ে উঠুক আরও আনন্দময় ও তাৎপর্যপূর্ণ।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান  ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট ও বুদ্ধমূর্তির প্রতিরূপ তুলে দেওয়া হয়।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম