ঢাকা ২৩ জুন, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক আরিফ উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত পবিত্র আশুরা ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা ডিএমপির আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত দেবে ট্র্যাইব্যুনাল: ডা. জাহেদ তেলের দামের ভবিষ্যৎ এখন চীনের হাতে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে নদ-নদীর পানি, বন্যার আশঙ্কা ঢাকায় আওয়ামী লীগের ২৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার টেকনাফে পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের সরে যেতে মাইকিং হরমুজ প্রণালি তেহরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে: ইরান আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা বিশ্বকাপে যত কীর্তি গড়লেন মেসি

তেলের দামের ভবিষ্যৎ এখন চীনের হাতে

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৩ জুন, ২০২৬,  12:28 PM

news image

বিশ্ববাজারে তেলের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে চীনের ওপর। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার আলোচনা চললেও, তেলের দামের বড় নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম বড় তেল ভোক্তা দেশ চীন। এমনটাই উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে।

সিএনএন বলছে, ইরান যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল সরবরাহে সংকট তৈরি হলেও চীন বিভিন্ন কৌশলে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। তেল আমদানি কমানো, মজুত তেল ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে দেশটি বিশ্ববাজারে তেলের দাম বড় ধরনের উল্লম্ফন (দাম লাফানো বা উল্লম্ফ) থেকে ঠেকিয়ে রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের কারণে অনেক বিশ্লেষক আশঙ্কা করেছিলেন, এ বছর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। কারণ বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। কিন্তু বাস্তবে দাম সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এর পেছনে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, চীন প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি কমিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহের চাপ কিছুটা কমেছে। চীনের এই ভূমিকা যেন বাজারের ‘অদৃশ্য হাত’ হিসেবে কাজ করছে।

চীনের কাছে বর্তমানে বিপুল পরিমাণ তেলের মজুত রয়েছে। দেশটি কয়েক বছর ধরে কম দামে রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল কিনে নিজেদের মজুত বাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশটির বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মজুতে ১০০ কোটির বেশি ব্যারেল তেল রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের দাবি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন এই মজুত ব্যবহার করে বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে। তবে এই কৌশল দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। কারণ মজুত তেল একসময় শেষ হয়ে যাবে।

তেলের বাজারে চীনের আরেকটি বড় প্রভাব এসেছে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে। দেশটিতে নতুন বিক্রি হওয়া ব্যক্তিগত গাড়ির প্রায় অর্ধেকই এখন নতুন জ্বালানিচালিত গাড়ি। এর ফলে গত বছর চীনে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেলের ব্যবহার কমেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে গেলে আগামী বছর বিশ্ববাজারে তেলের অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন স্বাভাবিক হলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে তেলের বাজারের ভারসাম্য ফেরানোর ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি চীনের হাতে। অতিরিক্ত তেল বাজারে এলে চীন তা কিনবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের এই সময়ে চীনের নীতি, তেল কেনার সিদ্ধান্ত এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়া পুরো তেল বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: সিএনএন 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম