ঢাকা ০৭ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
জ্বালানি তেল পাচার রোধে সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন ৮ দিনে ঢাকা থেকে বাতিল ২৬৮ ফ্লাইট সাতক্ষীরায় জুতা শিল্পের নতুন সম্ভাবনা দুই আসনের উপনির্বাচন: ১৬ মার্চ থেকে শুরু প্রচারণা হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আসা ১৫ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে টর্নেডোর আঘাতে বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ মিশিগান, নিহত ৪ তারেক রহমানের ফ্লাইটে ব্যবহৃত বিমানে বড় ত্রুটির খবর সংসদের খারাপ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বড়াল প্রেসক্লাব বড়াইগ্রাম নাটোর এর উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল আরও ৭ জেলায় ‘ই-বেইলবন্ড’ চালুর উদ্যোগ

তারেক রহমানের ফ্লাইটে ব্যবহৃত বিমানে বড় ত্রুটির খবর

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ মার্চ, ২০২৬,  1:38 PM

news image

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে বার বার যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিল এয়ারক্রাফটটি। শনিবার (৭ মার্চ) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্ট।

এদিকে একই এয়ারক্রাফট দিয়ে ভিভিআইপি ফ্লাইট হিসেবে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানকে (২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫) বহন করে আনা হয়। গুরুতর বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিমান। তদন্ত কমিটির জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

কমিটির প্রধান ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপপ্রধান প্রকৌশলী (বেস মেইনটেন্যান্স) মো. মনসুরুল আলম। কমিটির সদস্য সচিব ব্যবস্থাপক, অর্থ (ফাইন্যান্স) আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য ছিলেন উপমহাব্যবস্থাপক, প্রশিক্ষণ (এয়ারক্রাফট/অ্যারো) মো. জুবিয়ারুল ইসলাম।

প্রতিবেদনটি বিমানে জমা পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। তবে বিমানের কেউই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল এবং মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ ও ১৭ ডিসেম্বর এয়ারক্রাফটটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে একাধিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী ১০ ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা হয়। তবে বোয়িং ৭৮৭-৯ বিমানের জন্য নির্ধারিত সময়ের তুলনায় এটি অস্বাভাবিকভাবে কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে এয়ারক্রাফটটির ত্রুটি নির্ণয় বা কার্যকারিতা পরীক্ষার বিস্তারিত লগ এবং সংশ্লিষ্ট জনবল রেকর্ড উপস্থাপন করতে না পারাকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ছিল না। ১৫ দিনের মধ্যে একই ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে পুনরাবৃত্তিমূলক ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। বিমানের সিস্টেম সাধারণত শেষ ২৭টি ফ্লাইটের তথ্য সংরক্ষণ করে। তবে তদন্ত শুরুর সময় পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক তথ্য সময়মতো সংগ্রহ বা সংরক্ষণ করা হয়নি বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইট আকাশে থাকার সময় আবারও ভিএফএসজি বিকল হয়ে যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন ত্রুটির কারণে অগ্নিকাণ্ড বা গিয়ারবক্সের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

প্রকৌশল বিভাগের ভুল ত্রুটি নির্ণয়ের কারণে এমন একটি বিমান ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্যবহৃত হওয়ায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, অন্য বিমান থেকে যন্ত্রাংশ খুলে আনা, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং পরিবহন ব্যয়ের কারণে মোট প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির মতে, এটি কেবল একটি যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপনের ঘটনা নয়; বরং পুরো ব্যবস্থাপনার একটি সমন্বিত ব্যর্থতার প্রতিফলন। তদন্ত প্রতিবেদনে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল ও মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কমিটির মতে, ত্রুটি সংশোধন ও বিমানকে পুনরায় পরিষেবায় ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা যথাযথ সতর্কতা ও যাচাই-বাছাই করেননি।

বিশেষ করে কম ফুয়েল প্রেসারে সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও বিমানটিকে ফ্লাইটের জন্য ছাড়পত্র দেওয়াকে গুরুতর সিদ্ধান্তগত ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম