ঢাকা ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি, ৫০ পুলিশ সদস্য আহত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ শেখ হাসিনার পক্ষে আপিল হয়নি, তার সম্পদ বাজেয়াপ্তে চিঠি দিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অবৈধ ক্লিনিক চালু করা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাভারে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩ নওগাঁ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২০ বোতল ভারতীয় মদ আটক সাতক্ষীরায় স্কুল পর্যায়ে মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং রোধে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত পোশাক শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতা: আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ৩৩ জন গ্রেফতার শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন না: তথ্য উপদেষ্টা রাস্তায় যারা এখন আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিসেম্বরকে টার্গেট করে শ্রমিক আন্দোলন, নেপথ্যে আওয়ামী লীগ: গোয়েন্দা প্রতিবেদন

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ নভেম্বর, ২০২৬,  1:56 PM

news image

তৈরি পোশাক খাতে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন ও নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কাজে লাগিয়ে ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, কারখানা ভাঙচুর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পোশাকশিল্পে অস্থিরতার নেপথ্যে পতিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী এবং কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের নেতার সম্পৃক্ততা পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। গত রোববার রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর ও সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষে তাদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার তথ্য রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয়সহ প্রতিবেদন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জমা দেওয়া হয়েছে।


গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রমিকদের উসকে দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, কারখানা ভাঙচুর ও শিল্পাঞ্চল অচল করার পেছনে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয়। পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে নেপথ্যে অর্থায়নের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানোর তথ্যও পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা।


জড়িত ব্যক্তিদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের রাখা হয়েছে নজরদারিতে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।



গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরকে সামনে রেখে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত পোশাকশিল্পকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে। মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের আড়ালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজধানীর মেট্রোরেল, কেপিআইভুক্ত এলাকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।


শিল্পাঞ্চলের মেট্রোরেল, ব্যাংক ও স্পর্শকাতর স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থা। পাশাপাশি গুজব ছড়িয়ে সহিংসতা সৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, নিরাপত্তা জোরদার এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।


সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয় শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উসকানি দিচ্ছেন। সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে তারা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে অংশ নিচ্ছেন। মিরপুর, গাজীপুর ও আশুলিয়ার শিল্পকারখানা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মেট্রোরেল স্টেশন, ব্যাংকসহ বিভিন্ন স্থাপনা নিরাপত্তাঝুঁকিতে রয়েছে।


বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখতার বলেন, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন স্বাভাবিক ঘটনা। তবে শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। পতিত সরকারের পক্ষ থেকে ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় শ্রমঘন শিল্প এলাকায় তাদের কর্মীদের বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।


তিনি বলেন, কারখানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। সাধারণ শ্রমিকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন না। শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এ জন্য মালিক-শ্রমিক সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।


তাসলিমা আখতার আরও বলেন, মালিকদের দ্রুত মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে মজুরি নির্ধারণ করা উচিত। সময়ক্ষেপণ করলে গণ-অভ্যুত্থানবিরোধীরা সুযোগ নেবে।


সম্মিলিত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, বর্তমান আন্দোলনকে সুস্থ বলা যায় না। সাধারণ শ্রমিকেরা মহাবিপদে রয়েছেন। কাজে যোগ দিতে গেলেও কারখানায় ঢিল ছুড়ে ও পথরোধ করে তাদের আন্দোলনে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। কেউ যেতে না চাইলে তার ওপর চড়াও হচ্ছে আন্দোলনকারীরা।


তিনি বলেন, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গঠনমূলক আন্দোলন করলে কেউ বাধা দেন না, দেবেনও না। দিনশেষে শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দায় শ্রমিকদেরই বহন করতে হবে।


মালিকদের অভিযোগ

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই। মূলত একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে তারা পোশাকশিল্পকে বেছে নিয়েছে। কারণ, পোশাকশিল্প অর্থনীতির মেরুদণ্ড। এ খাতের শ্রমিকদের সহজেই প্রভাবিত করা যায়।


তিনি বলেন, শিল্পমালিকেরা সব সময় শ্রমিকদের অবদানকে সম্মান জানান। শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কোনো সাধারণ শ্রমিক কারখানা ভাঙচুরে অংশ নিতে পারেন না। এর পেছনে অপশক্তির ইন্ধন রয়েছে। তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে না পারলে শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম