ঢাকা ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
পুলিশকে পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চায় সরকার’ বিচার ব্যবস্থাকে মানুষের আস্থার জায়গায় আরও সুদৃঢ় করতে চাই: আইনমন্ত্রী ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ ‘কৃষক কার্ড’ দেবে সরকার দাদার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তা বই ছাপায় অগ্রগতি, নভেম্বরেই শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য তেঁতুলিয়ায় বাড়ছে শীতের অনুভূতি জাপানে টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডিজেল রপ্তানি বাড়ানোর পথে ভারত, সক্ষমতা বাড়াচ্ছে শোধনাগারগুলো

#

২৯ অক্টোবর, ২০২৬,  10:50 AM

news image

২০২৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে ভারতের। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের ফলে বিশ্ববাজারে পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহে দেশটির অংশগ্রহণ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


বিশ্ববাজারে ডিজেল রপ্তানিতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে বিঘ্ন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং জাহাজ পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে দেশটির গুরুত্ব বাড়ছে।


ভারতের তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি বলেন, ‘আমরা শুধু নিজেদের চাহিদা মেটানোর জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও জ্বালানি পরিশোধন করতে পারব—এটি আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।’


ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৩০ কোটি টন জ্বালানি পরিশোধনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পরবর্তী সময়ে এই সক্ষমতা বাড়িয়ে ৪০ কোটি টনে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।


জ্বালানি সরবরাহ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সমুদ্রপথে ডিজেল রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ভারত। এ ক্ষেত্রে দেশটির সামনে রয়েছে শুধু যুক্তরাষ্ট্র।


রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলোতে বাড়ছে উৎপাদন সক্ষমতা

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারগুলো ২০২৭ সালে সম্মিলিতভাবে বছরে আরও ১ কোটি ৬৫ লাখ টন ডিজেল উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করবে। বিদ্যমান শোধনাগারগুলোর সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই সক্ষমতা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


দেশটির বৃহত্তম তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনের (আইওসি) চেয়ারম্যান এ এস সাহনি জানিয়েছেন, শোধনাগার সম্প্রসারণের ফলে ডিজেল রপ্তানির পরিমাণ বাড়বে। প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টন পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এতে অতিরিক্ত প্রায় ৮০ লাখ টন ডিজেল উৎপাদন করা সম্ভব হবে।


হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (এইচপিসিএল) পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজস্থান রাজ্যে অবস্থিত নতুন শোধনাগারটির বার্ষিক সক্ষমতা ৯০ লাখ টন। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বিকাশ কৌশল জানিয়েছেন, শোধনাগারটি পুরোপুরি স্থিতিশীলভাবে চালু হলে আগামী বছর সেখানে প্রায় ৩০ লাখ টন ডিজেল উৎপাদিত হবে।


ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনও আগামী বছর থেকে বছরে আরও ১৫ লাখ টন ডিজেল উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় খান্না এ তথ্য জানিয়েছেন।


এদিকে পূর্ব ভারতের নুমালিগড় শোধনাগারের বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা আগামী বছরের মার্চে ৯০ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে শোধনাগারটিতে বছরে ডিজেল উৎপাদন আরও ৩০ লাখ টন বাড়বে।


বাড়তি উৎপাদনে রপ্তানির সুযোগ

ভারতের কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান নিজস্ব খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রের চাহিদা মেটাতে বেসরকারি কোম্পানির কাছ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি কেনে। এসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় বাজারের জন্য অন্য কোম্পানির কাছ থেকে জ্বালানি কেনার প্রয়োজন কমবে। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি রপ্তানির জন্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।


ভারতের শোধনাগারগুলো এমনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যালের কাঁচামাল প্রক্রিয়াজাত করা যায়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন জ্বালানির দামের পার্থক্য কাজে লাগিয়ে বেশি মূল্য পাওয়া যায়—এমন পণ্য উৎপাদনের সুযোগও বাড়বে।


বর্তমানে ভারতের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ও নায়ারা এনার্জি পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি করে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান মনোযোগ থাকে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে।


সম্প্রতি ভারতের জামনগরে রিলায়েন্সের বিশাল তেল শোধনাগার পরিদর্শনকালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতকে জ্বালানি পরিশোধনের ক্ষেত্রে একটি ‘পরাশক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।


তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি বলেন, অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের সঙ্গে ভারতে জ্বালানির চাহিদাও বাড়বে। দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী হয়ে ওঠাই ভারতের লক্ষ্য।


সূত্র: রয়টার্স।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম