নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জানুয়ারি, ২০২৩, 10:59 AM
টঙ্গীর তুরাগ তীরে মুসল্লিদের ঢল
কন কনে শীত উপক্ষো করে লাখ লাখ মুসল্লিতে পরিপূর্ণ টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বিশ্ব ইজতেমার ময়দান। শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে আমবয়ানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা ছিল ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমা; কিন্তু এ বছর মাঠে মানুষের চাপের বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) যোহরের নামাজের পরই মূল কার্যক্রম শুরু করেন তাবলীগ জামাতের মুরুব্বিরা। এদিকে ফজরের নামাজের পর আমবয়ান করেন তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা জিয়াউল হক। জুমার নামাজ পড়াবেন মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের। এবারের ইজতেমায় ৮ হাজারের মতো বিদেশি মেহমান অংশ নিচ্ছেন। অতিমারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিধিনিষেধ থাকায় গত দুবছর অনুষ্ঠিত হয়নি বিশ্ব ইজতেমা। সেজন্য এবার প্রথম পর্বেই তুরাগ তীরে মানুষের ঢল। ইজতেমা মাঠের মুরুব্বিরা জানান, তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। মাঠের সব কাজ করা হচ্ছে পরামর্শের মাধ্যমে। এখানে বিদ্যুৎ, পানি, প্যান্ডেল তৈরি, গ্যাস সরবরাহ প্রতিটি কাজই আলাদা আলাদা গ্রুপের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। বিশ্বের প্রায় সব মুসলিম দেশ থেকেই তাবলীগ জামাতের অনুসারীরা অংশ নেন। তারা এখানে তাবলীগ জামাতের শীর্ষ আলেমদের বয়ান শোনেন এবং ইসলামের দাওয়াতি কাজ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেয়ার জন্য জামাতবদ্ধ হয়ে বেরিয়ে যান। এদিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান, ইজতেমার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার পুলিশ ও র্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। কয়েকটি স্তরের নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে রাখা হবে ইজতেমা ময়দান। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে ঘটতে না পারে, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের কন্ট্রোল রুম থেকে নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে। নিরাপদ যাতায়াত ও সুষ্ঠুভাবে যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে প্রতিদিন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া মাঠের উত্তর-পশ্চিম পাশে নির্মিত বিদেশি নিবাসে বিদেশি মুসল্লিরা থাকবেন। ইজতেমা ময়দানের পশ্চিম পাশে মুসল্লিদের পারাপারের জন্য তুরাগ নদের ওপর ৫টি স্থানে ৫টি ভাসমান সেতু স্থাপন করেছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড। আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে ১৫ জানুয়ারি শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। মাঝে চার দিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব এবং আবারো আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে ২২ জানুয়ারি শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।