জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে বিএনপিকর্মীর মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিনিধি
০৩ জুন, ২০২৬, 2:00 PM
নিজস্ব প্রতিনিধি
০৩ জুন, ২০২৬, 2:00 PM
জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে বিএনপিকর্মীর মৃত্যু
ময়মনসিংহে মাহিন নামে এক জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে রানা মিয়া (২৮) নামে বিএনপির এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ( ২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে নগরীর চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার গাঙ্গের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় রানাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পেশায় অটোরিকশাচালক নিহত রানা মিয়া ওই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। জানা গেছে, সোমবারের (১ জুন) একটি বাগবিতণ্ডার জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হলে রানা মিয়া ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও কয়েকজন আহত হন। নিহতের স্বজন মাহাবুবের দাবি, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছিলেন। সেইসময় থেকে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টারের পরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছিল। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সোমবার ফুটবল খেলা শেষে কয়েকজন তরুণ তাদের বাড়ির সামনে একটি দোকানে এলে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসা হলেও মঙ্গলবার বিকেলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। মাহাবুবের অভিযোগ, বিকেলে মফিদুল ইসলামের ছেলে মাহিনসহ ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় মাহিন ছুরি দিয়ে রানার বুকে আঘাত করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বড় ভাই তোফাজ্জল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আমার ভাইকে বুকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এবং অভিযুক্ত মাহিনের বাবা মফিদুল ইসলাম মাস্টার বলেন, আমি বা আমার ছেলে ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল এহসান ইমরুল গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয় বলে আমরা জেনেছি। এটি পারিবারিক বা গোষ্ঠীগত বিরোধের জের ধরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছি। ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ গণমাধ্যমকে বলেন, নিহত রানা বিগত নির্বাচনে আমার পক্ষে এলাকায় কাজ করেছে। সে বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিল। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।