ঢাকা ০৩ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ফেনীর ‘মহুয়া-কহুয়া’ সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী স্হানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার সুযোগ দেওয়া হবে না পদত্যাগপত্র জমা দিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ৪৫ রানে অলআউট শ্রীলঙ্কা, ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান ডেঙ্গু মোকাবিলায় ৫ লাখ টেস্ট কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফেনী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী যৌথ অভিযান নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পথে পথে জনতার ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী ৯০ দিনে বাংলা কিউআরে লেনদেন বেড়েছে সাড়ে ৩ গুণ

ছয় মাসে দেশে ৮৬ শিশু হত্যা, যৌন নির্যাতনের শিকার ৩৩৬ জন

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ জুলাই, ২০২৬,  5:02 PM

news image

‘শিশুরাই সব’-এর মিডিয়া মনিটরিং প্রতিবেদন

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই দেশে শিশু হত্যা ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত অন্তত ৮৬ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। একই সময়ে ৩১২টি ঘটনায় ৩৩৬ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।


শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা উন্নয়ন সংস্থা ‘শিশুরাই সব’ গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ তথ্য তুলে ধরেছে। 


সোমবার প্রকাশিত তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের পরিচিত মানুষ বাবা-মা, আত্মীয়, প্রতিবেশী, শিক্ষক কিংবা স্থানীয় পরিচিতজন। ফলে শিশুদের সবচেয়ে নিরাপদ বলে বিবেচিত নিজ বাড়ি ও পরিচিত পরিবেশই অনেক ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সারা বছরে যেখানে ১২৪টি শিশুহত্যা এবং ৩০৮ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। গত ছয় মাসে নিহত ৮৬ শিশুর মধ্যে ৪৭ জন মেয়ে, ৩৬ জন ছেলে এবং তিন জনের পরিচয় জানা যায়নি। সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার হয়েছে শূন্য থেকে ছয় বছর বয়সি শিশুরা।


বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ৫০ দশমিক ৫৯ শতাংশ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে পারিবারিক পরিবেশে। নিজ বাড়ি বা আত্মীয়ের বাসায়। অন্যদিকে ৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে রাস্তা, মাঠ, বাজার কিংবা জলাশয়ের মতো জনপরিসরে।


অপরাধীদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৭টি ঘটনায় বাবা-মা এবং ১১টি ঘটনায় নিকট আত্মীয় জড়িত ছিলেন। এছাড়া ২২টি ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন প্রতিবেশী বা পরিচিত ব্যক্তি। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি শিশুহত্যা সংঘটিত হয়েছে পরিচিত মানুষের হাতে। হত্যার কারণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ওঠে এসেছে রাগ, পারিবারিক কলহ ও ব্যক্তিগত বিরোধ ২২ দশমিক ৯ শতাংশ।


প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ৮৬টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৪৪টি ঘটনায় পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। অধিকাংশ মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ৩১২টি ঘটনায় ৩৩৬ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১২৭ জন মেয়ে, ২৪ জন ছেলে এবং ১৮৫ জনের লিঙ্গ পরিচয় গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়নি। সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৭ থেকে ১২ বছর বয়সি শিশুরা। এই বয়সের ১৭৫ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা মোট ঘটনার ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ। 


এছাড়া শুন্য থেকে ছয় বছর বয়সি ৯০ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যৌন নির্যাতনের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায় ১৯১টি ঘটনা ছিল ধর্ষণ, ৭৫টি ধর্ষণের চেষ্টা, ৪৪টি একাধিক বার ধর্ষণ এবং ২৬টি দলগত ধর্ষণ। নির্যাতনের পর দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে, ১১ জন গর্ভধারণ করেছে এবং ৩২ জনকে হত্যা করা হয়েছে। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১৬ জন বাক, বুদ্ধি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা কিংবা একাধিক বার যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।


সংস্থার আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার জানান, শিশু অধিকার হরণ একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। শিশু সুরক্ষায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, জাতীয় শিশু কমিশন গঠন, শিশু আইন-২০১৩ কার্যকর বাস্তবায়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরত্বারোপ করেন। 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম