ঢাকা ২২ জুন, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বিদায় আবদুস সাদেক: অবমূল্যায়ন আর আক্ষেপের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে স্কুল-কলেজের কমিটিগুলোকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তা পেল না বাংলাদেশ কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন আর নেই নজরুল বর্ষ পালনের সিদ্ধান্ত, প্রজ্ঞাপন জারি মালয়েশিয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করেছিলেন জিয়াউল আহসান: চিফ প্রসিকিউটর ২৩ জুনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করার চেষ্টাকারীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে: র‌্যাব

চুনারুঘাটে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘর

#

নিজস্ব প্রতিনিধি

২৮ আগস্ট, ২০২২,  2:26 PM

news image

যুগ পরিবর্তনের  সাথে  সাথে  গ্রাম  বাংলার  শান্তির নিবাস  মাটির  ঘর  বিলুপ্তির  পথে।  সচরাচর  আর দেখা  যায়  না,  এমন  সুন্দর  মাটির  তৈরি  এই  ঘরগুলি।  হবিগঞ্জের  চুনারুঘাটে  এক  সময়ের মনোমুগ্ধকর  বসবাসের  শান্তিরনীড়  মাটির  ঘর হারিয়ে  যাচ্ছে।  ইট  পাথরের  প্রাচীরঘেরা  দুর্গে  বসবাস  করে  মাটির  ঘরের  কথা  এখন  আর কারও  মনিকোঠায়  নেই।  পাহাড়ি  ঘেঁষা  এই উপজেলার  দশটি  ইউনিয়নে  এক  সময়ে  দেখা যেতো  প্রত্যেক  বাড়িতে  বাড়িতে  মাটির  ঘর। সাধারণত  এসব  মাটির  ঘর  তৈরি  হতো  এঠেল মাটির  সাথে  পানি  মিশ্রিত করে,   বাঁশ  ও  উপরে ছনের  চাউনি  দিয়ে । বাপ -দাদার  তৈরি  করা মাটির  ঘর  সংস্কার  করে  কোনো  কোনো  স্থানে উপরে  টিন  ব্যবহার  করা  হচ্ছে৷ আলিনগর  গ্রামের  আব্দুর  রহিম (৫৫) বলেন, আমাদের  বাড়িতে  সাত  পরিবারের  বসবাস।

দেড়  দশক আগেও  আমাদের  বাড়ির  প্রতিটা  ঘর মাটির  ছিল। যুগ পরিবর্তনের  সাথে  সাথে  বাড়ির প্রতিটা  ঘর  পাকা  বিল্ডিং  হয়ে  গেছে। তিনি আরো বলেন, যতোই বিল্ডিং  আর অট্টালিকায় থাকিনা  কেন,  মাটির  ঘরে  থাকার  মতো  যে স্বাচ্ছন্দ,  তৃপ্তিদায়ক  ছিলো  সেটা  এখন  আর পাই না। ছন বাঁশের চাউনির মাটির ঘরে  প্রাকৃতিক এয়ারকন্ডিশন  হিসাবে  পরিচিত।  প্রচন্ড  গরমে আরাম দায়ক  এই  মাটির  ঘরে বসবাস  করলেও একটা  অন্যরকম  শান্তির  অনুভূতি  পাওয়া  যেতো।শারীরিক  অসুস্থতা  থাকতো। এখন  প্রত্যেকটা  গ্রাম  ঘুরেও  একটা  মাটির  ঘর  খোঁজে  পাওয়া যাবে না । দিন  দিন  মানুষ  বড়  বড়  দালান  কোঠায়  বসবাস  করে, প্রাকৃতিক এই শান্তির নিবাস  মাটির ঘর ভুলে গেছে। এদিকে, উপজেলার সাতছড়ি,  রেমা-কালেঙ্গা,  আমু,  নালুয়া,  চান্দপুর,  বেগমখান, চন্ডি,  লস্করপুর,  দেউন্দী, লালাচান্দসহ  বিভিন্ন চা বাগানে  কিছু  কিছু  মাটির ঘর  এখনো  দেখা  যায়। এসব   এলাকায়   বসবাসরত  বাঙালী,  ত্রিপুরা,  সাঁওতাল  ও চা শ্রমিকেরা  জানান,  প্রচন্ড  গরম  ও  শীতে  বসবাসের  উপযোগী  ছিল  এই  মাটির ঘর। ধনী - গরিব  সবাই সেই  মাটির  ঘরে  বসবাস  করতেন। তবে  কালের  বিবর্তনে  আর  আধুনিকতার  ছোঁয়ায় বিলুপ্ত  হতে  বসেছে মাটি দিয়ে তৈরি  ঘর। ছন আর বাঁশের চাউনিতে  মাটির ঘর  প্রাকৃতিক  শান্তির  নিবাস, আরাম  দায়ক  মনে  করে এলাকার বাসিন্দারা। চুনারুঘাট  পৌরসভার বড়াইল গ্রামের  বাসিন্দা ও স্কুল  শিক্ষক  বাবুল  চন্দ্র  শীল  বলেন,  মাটির  ঘর শুধু  শান্তিই  ছিলোনা,  ছিল গ্রাম বাংলার শিল্প, ঐতিহ্য ও সুন্দর্য্য। নিত্যনতুন আকর্ষণ  ইট, বালু,  সিমেন্টের  তৈরি  বিল্ডিংয়ের  ভীড়ে  ও  হারিয়ে  যাচ্ছে শান্তির  নিবাস এই  মাটির ঘর। 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম