ঢাকা ১৩ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
পার্বত্য চট্টগ্রামে ষড়যন্ত্র: সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ ছেলে-মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরে ফেলে হত্যা করলেন বাবা পলিসি ক্যাম্প ২০২৬-এ বরগুনার তরুণ মোঃ সোহানুর রহমান সৈকত ফাইনালিস্ট হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ মৃত্যু সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে ভারত থেকে দেশে আসছে ১৯টি নতুন রেলবগি হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র: বাণিজ্যমন্ত্রী সাভারে ফের বোমাসদৃশ প্রেসারকুকার উদ্ধার, ঘটনাস্থলে ডিসপোজাল ইউনিট আ. লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার খবরটি গুজব: তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ ভ্রমণে উচ্চমাত্রার সতর্কতা কানাডার

চাঁদপুরে বন্ধুর কবরে লুটিয়ে পড়ে আরেক বন্ধুর মৃত্যু

#

নিজস্ব প্রতিনিধি

২১ এপ্রিল, ২০২৬,  10:51 AM

news image

আবুল হাশেম (৯০) ও বাচ্চু পাটওয়ারী (৮৫) দুই বন্ধুর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একসঙ্গে বসে গল্প করতেন, আবার একসঙ্গেই গ্রামে কবর খোঁড়ার কাজ করতেন। রবিবার রাতে একসঙ্গে বসে আড্ডা দেন। সোমবার মসজিদে ফজরের নামাজও পড়েন একসঙ্গে। সকালে বাচ্চু পাটওয়ারী বার্ধক্যের কারণে তাঁর নিজ বাড়িতে মারা যান। খবর পেয়ে বন্ধুর দাফনের জন্য আবুল হাশেম কবরস্থানে এসে কবর খুঁড়ছিলেন। এ সময় বন্ধুর জন্য খোঁড়া কবরে নিজেই লুটিয়ে পড়ে মারা যান তিনি। আজ সোমবার সকালে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জীবদ্দশায় তারা একসঙ্গে সময় কাটাতেন, গল্প করতেন, এমনকি এলাকার মৃত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়তেন। এ পর্যন্ত তারা শতাধিক কবর খুঁড়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। রবিবার রাতে একসঙ্গে চা পান এবং সোমবার ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করেন এই দুই বন্ধু। কিন্তু সকালেই বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান বাচ্চু পাটওয়ারী। বন্ধুর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে আবুল হাশেম শোকে ভেঙে পড়েন। কিছুক্ষণ কান্নার পর তিনি নিজেই বন্ধুর কবর খোঁড়ার জন্য কবরস্থানে যান। কবর খোঁড়ার একপর্যায়ে হঠাৎ করেই তিনি কবরের ভেতর লুটিয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে ওপরে তুলে আনা হলে দেখা যায়, ততক্ষণে তিনিও না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ঘটনাটি ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কেরোয়া ছৈয়াল বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে ঘটে। আবুল হাশেমের ছেলে জহির হোসেন জানান, ‘আমার বাবা ও বাচ্চু চাচা ছিলেন খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা সবসময় একসঙ্গে থাকতেন। মানুষ মারা গেলে জান্নাতের আশায় বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়ে দিতেন। আজ সকালে বাচ্চু চাচার মৃত্যুর পর বাবা নিজেই তার কবর খুঁড়তে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কবরেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।’ বাচ্চু পাটওয়ারীর ভাতিজা নাজির আহমেদ হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, আমরা একসঙ্গে কবর খুঁড়ছিলাম। শেষ পর্যায়ে হঠাৎ করেই হাশেম কাকা কবরের ভেতরে শুয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত তুলে দেখি, তিনি আর বেঁচে নেই। স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল হোসেন, ইব্রাহিম খলিল সাকিল, আবু তাহেরসহ অনেকে জানান, দুই বন্ধু ভিন্ন পেশার হলেও তাদের চলাফেরা ছিল অবিচ্ছেদ্য। জীবনে যেমন একসঙ্গে ছিলেন, মৃত্যুতেও তেমনি একসঙ্গে চলে গেলেন-এ দৃশ্য এলাকাবাসীকে আবেগাপ্লুত করেছে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম