কক্সবাজারে পাহাড় ধসে রোহিঙ্গাসহ ৯ জনের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিনিধি
০৬ জুলাই, ২০২৬, 11:08 AM
নিজস্ব প্রতিনিধি
০৬ জুলাই, ২০২৬, 11:08 AM
কক্সবাজারে পাহাড় ধসে রোহিঙ্গাসহ ৯ জনের মৃত্যু
কক্সবাজারের ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে আটজন রোহিঙ্গা। গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ আজ সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ের অংশ ধসে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবরের বসতঘরের ওপর পড়লে তিনিসহ তার পরিবারের তিন সদস্য আহত হন। গুরুতর অবস্থায় আলী আকবরকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ভোরে শহরে পাহাড়ধসের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একই পরিবারের আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হাশেম বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড়ের একটি অংশ ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। তখন ঘরের ভেতরে থাকা তিনজন মাটিচাপা পড়েন। আমরা আশপাশের লোকজন মিলে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। কিন্তু একজনকে বাঁচানো যায়নি।
অন্যদিকে উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাত ৩টার দিকে নারী ও শিশুসহ চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও আহত হয়েছেন ১ জন। নিহতরা হলেন- ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) ও তার ভাই হারুনুর রশিদ (৩)।
এর আগে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে রাত ১টা ৪৫ এর দিকে পাহাড়িঢলে আসা মাটিচাপায় একরাম নামে ৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত একরাম ওই ক্যাম্পের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে।
ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
অন্যদিকে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে আশ্রিত রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের (৪৪) বসতঘরের পাহাড় ধসে পড়ে। এ ঘটনায় কামাল হোসাইন ও তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং ছেলে মোহাম্মদ আনাসের (৪)মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, সব ঘটনা কাছাকাছি সময়ে ঘটেছে। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আরও দুদিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।