এসডিজির মূলনীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ আগস্ট, ২০২৬, 4:23 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ আগস্ট, ২০২৬, 4:23 PM
এসডিজির মূলনীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ ঘোষিত সাস্টেইনঅ্যাবল ডেভেলপমেন্ট গোলের (এসডিজি) প্রতিপাদ্যের মূলনীতির সঙ্গেবর্তমান সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এসডিজি সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ যেভাবে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) বাস্তবায়নে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিল, একইভাবে সাস্টেইনঅ্যাবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ যথাযথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলছে। আপনারা লক্ষ্য করে থাকবেন, এসডিজির প্রতিপাদ্য ‘‘নো ওয়ান লিভ বিহাইন্ড’’ কিংবা ‘‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’’ এই মূলনীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে। সব শ্রেণি-পেশা তথা জনগণের স্বার্থ নিশ্চিতকরার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে ‘‘সবার জন্য বাংলাদেশ’’।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির জননীতির দিকে লক্ষ্য করলেই এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে সকল সময়েই বিএনপির সকল পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি জনবান্ধব। যেমন দেশ এবং জনগণের উন্নয়নে স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার ‘‘ভিশন ২০৩০’’ এবং বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ঐতিহাসিকভাবেই প্রতিটি ভিশন এবং মিশনের সঙ্গে এমডিজি কিংবা বর্তমানের এসডিজির খুব বেশি অমিল নেই।’
তারেক রহমান বলেন, ‘এমডিজির লক্ষ্য উদ্দেশ্য এবং কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে এতক্ষন আপনারা তথ্যবহুল আলোচনা করেছেন। আপনারা সবাই জানেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদি শোষণ শাসন বাংলাদেশকে একটি ঋণ নির্ভর এবং আমদানি নির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ সকল ক্ষেত্রে ভঙ্গুর এই রাষ্ট্রটি এবার পুনর্গঠনের পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রা পথে অবশ্যই এসডিজির গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য। এরই অংশ হিসেবে, জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষে বর্তমান সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বা ফাইভ-ইয়ার স্ট্রাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই ফ্রেমওয়ার্ক দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির সঙ্গেসমন্বিত করেছে। বর্তমান সরকারের গৃহীত ‘‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’-এর মাধ্যমে
দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা,মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসন এসডিজির এই মূল অগ্রাধিকারগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি সুসংহত করতে বর্তমান সরকার ‘‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন, পুনর্গঠন বা রিকোভারি, রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন, এই থ্রি-আর কৌশল গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর—সবকিছুই একটি সুসংহত পথনকশায় বাস্তবায়িত হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের রায়ে বর্তমান সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পরদিন থেকেই নারীর সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কৃষক কার্ড, জনস্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সেবা সহজ করতে ই-হেলথ কার্ডের মতো একাধিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাস্তবায়ন চলছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড, সারাদেশে ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদেরকেও সম্মানি ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো না কোনো উপায়ে দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সরকারের সহায়তা নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হচ্ছে। এভাবে চলতি মেয়াদের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় এবং আর্থিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সুচিন্তিত পথনকশা সরকারের রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘‘‘এসডিজি ভিলেজ’’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবার রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর এই তিনটি গ্রামকে এসডিজি স্থানীয়করণের একটি পাইলট মডেল হিসেবে প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই গ্রামগুলোতে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ব্লু ইমপ্লয়মেন্ট, ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি একযোগে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই উদ্যোগের সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সারাদেশের অন্যান্য গ্রামেও এই মডেল সম্প্রসারিত
করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমি আশা করি ‘‘এসডিজি ভিলেজ’’ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারকে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘‘ডেভেলপমেন্ট মডেল’’ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি দৃষ্টান্তমূলক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এর সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সরকার, বেসরকারিখাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতা। আমি আশা করি, তিনদিনের এই সম্মেলনে প্রতিটি সমন্বয়কারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের অভীষ্টভিত্তিক অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত এবংসময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে থাকবে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি। একটি মানবিক রাষ্ট্র, যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার হবে সর্বজনীন এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগও আন্তঃপ্রজন্ম ন্যায্যতা নিশ্চিত থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিশেষে আমি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও এবং গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগকে এমন একটি জন-গুরুত্ত্বপূর্ণ সম্মেলন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানাই। ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্যে আসুন আমরা সবাই দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করি। আমি জাতীয় সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে ‘‘এসডিজি ভিলেজ’’ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করছি।’