ঢাকা ০২ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়তে পারে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে পাঁচ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি ৮ অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস কলাবাগানে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩ খসড়া মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ দেশে ‘নতুন ব্যাংক’ খুলতে চায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অনলাইন জুয়া-বেটিং দমনে নতুন আইন নজরুলবর্ষ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী এইচএসসি পরীক্ষা: প্রথমবারের মতো কেন্দ্রে পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরায় নজরদারি অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল দক্ষিণ আফ্রিকা

উড়তে থাকা ফ্রান্সকে মাটিতে নামাতে পারে ‌‘অতি-আত্মবিশ্বাস’

#

স্পোর্টস ডেস্ক

০২ জুলাই, ২০২৬,  11:30 AM

news image

৪৮ দলের বিশালাকার ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ এখন রূপ নিচ্ছে শেষ ষোলোর রোমাঞ্চে। আর বিশ্বমঞ্চের এই নকআউট পর্বের আবহে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—উড়তে থাকা ফরাসিদের থামানোর সাধ্য আসলে কার আছে? 

আসরের শুরু থেকেই ফেবারিটের মতো খেলছে দিদিয়ের দেশমের দল। শেষ বত্রিশের ম্যাচে নিউ জার্সিতে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে। চার ম্যাচে চার জয় এবং ১৩ গোল করার দুর্দান্ত এক রেকর্ড নিয়ে শনিবার ফিলাডেলফিয়াতে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্লুজরা। কোয়ার্টার ফাইনালে কানাডা বা মরক্কো এবং সেমিফাইনালে স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার পথ উন্মুক্ত থাকলেও এই ফরাসি শিবিরের গভীরতা ও শক্তিমত্তা অন্য যেকোনো দলের চেয়ে ঢের এগিয়ে।

দলের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি কিলিয়ান এমবাপ্পে বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার এবং একজন দক্ষ অধিনায়ক হিসেবে সমস্ত চাপ নিজের কাঁধে নিতে ভালোবাসেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পের গোল করার ক্ষুধা বরাবরই দুর্দান্ত, যার প্রমাণ মেলে সুইডেনের বিপক্ষে করা তার জোড়া গোলে। বিশ্বমঞ্চে মাত্র ১৮ ম্যাচে ১৮টি গোল করে ফেলেছেন এই তারকা। চলতি আসরে ইতিমধ্যে ৬ গোল করা এমবাপ্পে ১৯৫৮ সালে স্বদেশি জুঁ ফন্টেইনের এক বিশ্বকাপে করা ১৩ গোলের ঐতিহাসিক রেকর্ড ভাঙার পথেই আছেন। তবে এমবাপ্পে নিজে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে ১৯ জুলাই ফাইনাল জিতে ট্রফি ঘরে তোলার লক্ষ্যকেই বড় করে দেখছেন। 

প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ের কারণ হলো, শুধু এমবাপ্পেকে আটকে রাখলেই ফরাসিদের থামানো সম্ভব নয়। ডান প্রান্তে আছেন বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান ডেম্বেলে, আর মাঝমাঠে আক্রমণ তৈরি করছেন লন্ডনে জন্ম নেওয়া তরুণ জাদুকর মাইকেল অলিস। ফরাসি ফুটবলের কিংবদন্তি প্লাতিনি বা জিদানের মতো ঐতিহ্যবাহী ‘নম্বর টেন’ ভূমিকায় অলিস যেভাবে খেলছেন, তা তাকে ভবিষ্যতের ব্যালন ডি’অর জয়ী হিসেবেই ইঙ্গিত করে।

শুধু আক্রমণভাগই নয়, রক্ষণভাগেও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা জুটি উইলিয়াম সালিবা এবং দায়ো উপামেকানোকে নিয়ে প্রাচীর গড়ে তুলেছে ফ্রান্স। এই দুই ডিফেন্ডারের গতি ও শক্তিমত্তা দলকে অনেক ওপরের লাইনে উঠে খেলার স্বাধীনতা দেয়, যাকে মাঝমাঠ থেকে দারুণভাবে সামলান অহেলিয়া চুয়ামেনি এবং আদ্রিয়েন রাবিও। প্রতিপক্ষ দলগুলোর কোচরা, যেমন সুইডেনের গ্রাহাম পটারও অকপটে স্বীকার করেছেন যে, মাঠের সব পজিশনে এমন মানসম্পন্ন খেলোয়াড় এবং সাইড বেঞ্চে থাকা তারকাদের কারণে ফ্রান্সের চেয়ে সেরা দল এই মুহূর্তে আর কেউ নেই। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মিশন শুরু করা ফ্রান্সের সামনে এখন কেবলই প্যারাগুয়ে বাধা, যাদের বিপক্ষে ফরাসিদের হারার কথা ভাবাই যায় না।

তবে মাঠের প্রতিপক্ষরা ভয় ধরাতে না পারলেও কোচ দিদিয়ের দেশম বেশ কয়েক মাস ধরে একটি ভিন্ন সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন। তার মতে, এই মুহূর্তে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শত্রু কোনো প্রতিপক্ষ দল নয়, বরং নিজেদের মধ্যকার অতি-আত্মবিশ্বাস বা আত্মতুষ্টি। দেশম খুব ভালো করেই মনে রেখেছেন ২০০২ সালের সেই কালো অধ্যায়, যেখানে ফ্রান্স ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও ফেবারিট হিসেবে এসেও গ্রুপ পর্ব থেকে কোনো গোল না করেই বিদায় নিয়েছিল। দেশমের ১৪ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারের এই শেষ টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়রা পুরোপুরি একতাবদ্ধ এবং তাদের মধ্যে কোনোরকম ঢিলেমি নেই। তবে বিশ্বমঞ্চের ট্রফি ধরে রাখার এই মহাযজ্ঞে নিজেদের মানসিকতাকে নিয়ন্ত্রণে রেখে অতি-আত্মবিশ্বাসকে দূরে রাখাই এখন ফরাসিদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম