ঢাকা ০২ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ফেনীর ‘মহুয়া-কহুয়া’ সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী স্হানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার সুযোগ দেওয়া হবে না পদত্যাগপত্র জমা দিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ৪৫ রানে অলআউট শ্রীলঙ্কা, ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান ডেঙ্গু মোকাবিলায় ৫ লাখ টেস্ট কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফেনী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী যৌথ অভিযান নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পথে পথে জনতার ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী ৯০ দিনে বাংলা কিউআরে লেনদেন বেড়েছে সাড়ে ৩ গুণ

ইসলামে পবিত্রতার গুরুত্ব

#

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩,  4:47 PM

news image

আল্লাহতায়ালা পবিত্র। তাঁর আসমাউল হুসনা পবিত্রতম নামগুলোর অন্যতম ‘সুব্বুহুন’ তথা পবিত্রতম ‘কুদ্দুসুন’ তথা অতি পবিত্র ও মহা পবিত্রকারী। আল্লাহা চান মানুষের পূতপবিত্র জীবনযাপন।  তিনি বলেন, ‘হে নবী পরিবার! আল্লাহ তো শুধু চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদের সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।’ (সুরা আহজাব : ৩৩)। আল কোরআনে আরও এসেছে, ‘বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান।’ (সুরা মায়েদা : ৬)।

আল্লাহ পবিত্রতা ভালোবাসেন। পবিত্রতা মানে জীবন-যাপনের পবিত্রতা, বিশ্বাসের পবিত্রতা, কর্মের পবিত্রতা, শারীরিক পবিত্রতা, মানসিক পবিত্রতা, আর্থিক পবিত্রতা, বাহ্যিক পবিত্রতা, অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা; ভাষা তথা কথার পবিত্রতা, রুচির পবিত্রতা, দৃষ্টি ও দৃষ্টিভঙ্গির পবিত্রতা, পরিবেশের পবিত্রতা; শ্রবণের পবিত্রতা, দর্শনের পবিত্রতা, চিন্তার পবিত্রতা। পবিত্রতা জীবনযাপনের পূর্বশর্ত। 

নবী (সা.) বলেছেন, ‘পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ।’ অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘পবিত্রতা ইমানের অর্ধেক।’ (মুসলিম, মিশকাত)

পানি দিয়ে অজু, গোসল আর পানি না পেলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করতে হয়।

আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, হে ইমানদারগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াতে যাবে, তখন তোমাদের মুখমন্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাতগুলো ধোও আর তোমাদের মাথা মাসেহ কর আর টাখনু পর্যন্ত (গিঁট বা টাখনুসহ) তোমাদের পাগুলো ধোও। (সুরা মায়েদা : ৬)।

তেমনিভাবে কোরআন-হাদিসে গোসল ও তায়াম্মুম করার কথাও বলা হয়েছে। মোট কথা, ইসলাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার ধর্ম। আমাদের শরীরের পবিত্রতার পাশাপাশি মনের পবিত্রতাও অর্জন করতে হবে। মানুষের প্রাকৃতিক পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে ইসলামের সুস্পষ্ট বিধিবিধান রয়েছে। 

নবী (সা.) বিভিন্ন হাদিসে গোঁফ কর্তন করা, দাড়ি বড় করা, মিসওয়াক করা বা নিজের দাঁতমুখ পরিষ্কার করা, নাকের মধ্যে পানি দিয়ে পরিষ্কার করা, নখ কাটা, দেহের অঙ্গসন্ধিগুলো ধোয়া, বগলের নিচের চুল পরিষ্কার করা, নাভির নিচের চুল মু-ন, পানি ব্যবহার করে শৌচকার্য করা, কুলি করা, খতনা করা ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতামূলক কাজগুলোকে ফিতরাত তথা ইসলামি জরুরি কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নরনারী সব মানুষের দেহ, পোশাক, বাড়িঘর, আঙিনা সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ইসলাম নির্দেশনা দিয়েছে। মনের পবিত্রতা তথা কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরিত্যাগ করে আল্লাহতায়ালা প্রিয় নবী (সা.)-এর পথে পরিচালিত হওয়াই মানব জীবনের সার্থকতা। দেহ, পোশাক, বাড়িঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। দেহ বা পোশাক অপরিচ্ছন্ন কাউকে দেখলে নবী (সা.) আপত্তি করতেন।

রসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের বাড়ির আঙিনা সব দিক পরিচ্ছন্ন রাখবে। (তিরমিজি) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অন্যতম দিক হলো মলমূত্র ত্যাগ। মলমূত্র ত্যাগের আদব হলো অন্যের দৃষ্টি থেকে সতর আবৃত রাখা। এজন্য স্যানিটারি পায়খানা বা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরি পায়খানার মধ্যে মলমূত্র ত্যাগ করা। পায়খানা-প্রস্রাবের সময় নিজ সতর অন্যকে দেখতে দেওয়া হারাম ও অভিশাপের কারণ। 

নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মলত্যাগের জন্য গমন করে, সে যেন নিজেকে আড়াল করে (আবু দাউদ)। বর্তমানে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু,  করোনা, চিকুনগুনিয়াসহ আমরা অনেক রোগই প্রতিরোধ করতে পারি পরিষ্কার -পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনের মাধ্যমে। আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক, পারিবারিক, ব্যবসায়িক সব ক্ষেত্রে আল্লাহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ সুন্দর জীবনযাপনের তৌফিক দান করুন।

লেখক : খতিব, মনিপুর বায়তুল আশরাফ (মাইকওয়ালা) জামে মসজিদ, মিরপুর-২, ঢাকা।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম