ঢাকা ২৯ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
‘১০ জেলায় হামের প্রকোপ, বাড়ছে শিশুর মৃত্যু’ এবার জব্দ পেট্রোল গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে নড়াইলে তেল না পেয়ে ট্রাকচাপা দিয়ে পাম্প ম্যানেজারকে হত্যা ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা টোল আদায় যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের আংশিক কার্যক্রম শুরু জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মোবাইল কোর্ট ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন : ওয়াশিংটন পোস্ট দিনাজপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, নিহত ২

আশাজাগানিয়া সূচনা, সামনের পথ অনিশ্চয়তার

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ মার্চ, ২০২৬,  10:36 AM

news image

দীর্ঘ কুড়ি বছর পর আবারও দেশ পরিচালনার দায়িত্বে বিএনপি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি দলটি সরকার গঠন করে। এক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বিএনপি। নতুন নেতৃত্ব, নতুন অঙ্গীকার আর জনগণের বিপুল প্রত্যাশার চাপ নিয়ে যাত্রা করেছে দলটি।

সরকার গঠনের পর ইতোমধ্যে এক মাস অতিবাহিত করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সরকার সম্পর্কে মাত্র এক মাসের কার্যক্রমের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা সঠিক নয়। কিন্তু একটি সরকারের শুরুর কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূচনাই বলে দেয় সরকার কোন পথে কীভাবে সামনে এগোতে চায়।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সূচনা নিঃসন্দেহে আশাজাগানিয়া। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা অত্যন্ত ইতিবাচক। জনগণের মধ্যে সরকারের ব্যাপারে আস্থা তৈরি হয়েছে। কিছু পদক্ষেপ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা সৃষ্টি করেছে যে এ সরকার ভালো কিছু করবে। অন্তত ভালো কাজের প্রতি সরকারের আগ্রহ আছে। জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এক মাসে। কিন্তু পাশাপাশি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইরান যুদ্ধ, অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতির কারণে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারকে। সামনে এ সরকারকে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। প্রথম মাসেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় সরকার। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড চালু, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ভাতা প্রদান, কৃষিঋণ মওকুফ, খাল খনন কর্মসূচি এবং গণপরিবহনে ভাড়া কমানোর মতো উদ্যোগগুলো ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টাও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সরল জীবনযাপন, প্রটোকল কমানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনার উদ্যোগও আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে যখন সকাল ৯টায় সচিবালয়ে আসছেন তখন তা সব মন্ত্রী এবং আমলার জন্য একটি সুস্পষ্ট বার্তা। এতে সরকারি কাজে গতি এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য রাস্তা বন্ধ রাখা, বিশাল বহর নিয়ে চলাচলের দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙেছেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী যখন যানজটে আটকে থাকছেন, তখন সাধারণ মানুষ এই ভেবে আশ্বস্ত হচ্ছেন যে তিনি আমাদেরই লোক। মাত্র এক মাসের মধ্যেই তিনি জনগণের কাছের মানুষ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। এটি একটি বড় অর্জন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাও রাজনৈতিক সৌহার্দের বার্তা দিয়েছে। সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে কিছু ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে দেখা গেছে, সেটা আশা জাগায়। যেমন সংসদ সদস্যরা বিনা শুল্কে গাড়ি ও প্লটের মতো অযাচিত সুবিধা নেবেন না। এটা জনগণের কাছে খুবই ভালো দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কিছু বিষয়ে সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ভালো লক্ষণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিতর্কিত গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে সরানোর সিদ্ধান্ত খুবই দ্রুত কার্যকর করে সরকার। এ পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকার বুঝিয়ে দিয়েছে অযোগ্য লোকদের জন্য সরকারের কোনো ধরনের সহানুভূতি নেই। যারা বিতর্কিত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার যে তৎপর, তা এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিফ প্রসিকিউটর বদলির সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে, সরকার সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে না। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তার কূটনৈতিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। সবকিছু বদলানো যায়, প্রতিবেশী বদলানো সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে এক ধরনের বৈরিতার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। এতে ভারতের কতটুকু ক্ষতি হয়েছে তা বিবেচনার দাবি রাখে। তবে এ অবিশ্বাস আর বৈরিতার সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের বরফ যে গলতে শুরু করেছে তার ইঙ্গিত পাওয়া যায় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন দিয়ে জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে। অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে বৈরিতার সম্পর্ক এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল যে ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলকে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি। এটা ছিল চরম হঠকারী সিদ্ধান্ত। শিশুসুলভ। বিএনপি সরকার এখন ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু করেছে। ৭ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফরে যাচ্ছেন। খেলাধুলার উন্নয়নে গত এক মাসে বিএনপি সরকার নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছে। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ স্বাধীনতা দিবসের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি। মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে মাঠে এসে তিনি খেলাধুলা যে সরকারের অগ্রাধিকার তা বুঝিয়ে দেন। ম?্যাচ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতে বিভিন্ন খেলায় নতুন খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই। খেলাকে পেশাদার রূপ দিতে চাই। সেজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা নতুন কুঁড়ি নামে যে অনুষ্ঠান ছিল, এখানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসও চালু করব। শুধু নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসই নয়, আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে স্কুল ও বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে খেলার প্রতিযোগিতা শুরু করতে চাই।’ এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শুধু সরকার একা নয়, বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যাংক-বিমা এবং অন্যান্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা উচিত। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় বেসরকারি খাতের পৃষ্ঠপোষকতা সামগ্রিকভাবে ক্রীড়া ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

বাংলাদেশে ২০-২৫ বছর আগেও স্কুলে গিয়েই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন খেলাধুলায় মেতে উঠত। আবার স্কুল শেষে চলত নানান খেলা। এখন সেই সংস্কৃতি আর নেই। এটা যদি আবার চালু করা যায় তাহলে মাদক-সন্ত্রাসের হাত থেকে দেশ মুক্ত করা সম্ভব হবে। খেলাধুলায় শিশু-কিশোররা আগ্রহী হলে তারা মাদকে ঝুঁকবে না। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি শিল্পোদ্যোক্তা, বহুজাতিক কোম্পানি ও করপোরেটরা যুক্ত হলে বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। বিশ্বে যেসব দেশ ক্রীড়াঙ্গনে উন্নতি করেছে তারা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমেই খেলাধুলাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। কিন্তু এসব ভালো কাজের মধ্যেও বাংলাদেশের আকাশে দুর্যোগের কালো মেঘ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি সরকার গঠনের কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান যুদ্ধ সরকারকে গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গত দেড় বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির অনেক ক্ষতি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশে হাজার হাজার কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কয়েক লাখ মানুষ বেকার হয়েছে। মব সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির কারণে বেসরকারি উদ্যোক্তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। দেশে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ। ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁদের হয়রানি করা হয়েছে। বিভিন্ন মনগড়া, ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে বেসরকারি খাতের বিরুদ্ধে রীতিমতো রাষ্ট্রীয় হয়রানি করা হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের আড়ালে রেখে স্বনামধন্য ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে কাল্পনিক দুর্নীতির অভিযোগ এনে মিডিয়া ট্রায়াল করা হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করে বেসরকারি খাতকে রীতিমতো গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম এজেন্ডা। গত দেড় বছর তাই দেশিবিদেশি বিনিয়োগ হয়নি। রপ্তানি আয় কমেছে। রেমিট্যান্স এবং ঋণের ওপর দেশ চলেছে। এ রকম একটি হতাশাজনক অবস্থা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারকে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বেসরকারি খাতকে আস্থায় নিতে হবে। দ্রুত বেসরকারি খাতকে উজ্জীবিত করতে হবে। আর এটা করার জন্য সরকারকে এখনই কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে-

১. বন্ধ কলকারখানা দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে

২. ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে

৩. ঢালাওভাবে বন্ধ করা ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিতে হবে

৪. দুর্নীতি তদন্তের নামে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে

৫. অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দ্রুত বেসরকারি খাতকে আস্থায় নিয়ে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কে কার সমর্থক, অতীতে কে কী বলেছে তা নিয়ে গবেষণা বাদ দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে

৬. আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। আর্থিক খাত সংস্কারের নামে গত দেড় বছর ব্যাংকিং খাতকে বিনিয়োগবিমুখ করে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে ব্যাংকিং খাতে জন আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে

৭. মব সন্ত্রাস কিছুটা কমলেও এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মনে রাখতে হবে, মব সন্ত্রাস দেশের উন্নয়নের অন্যতম বড় বাধা। যেকোনো মূল্যে এ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে হবে

৮. চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহিষ্ণুতা নীতির বাস্তবায়ন করতে হবে।

গত এক মাসে সরকার এসব কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তারা এখন আর আশ্বাসে বিশ্বাসী নয়। মানুষ শান্তি চায়, নৈরাজ্য থেকে মুক্তি চায়।

বিএনপি সরকারের প্রথম এক মাসে কয়েকজন মন্ত্রীর অতিকথন রোগ জনমনে বিরক্তি সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ অতীতের বাচাল মন্ত্রীদের ছায়া আর দেখতে চায় না। ‘পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে তোলা টাকাকে চাঁদাবাজি বলে মনে করি না’-এ রকম কথাবার্তার লাগাম টেনে ধরতে হবে এখনই।

প্রথম মাসে আমরা লক্ষ করেছি কথাবার্তায় সমন্বয়হীনতা। জ্বালানি তেলের সংকট নিয়েই একেক মন্ত্রী একেক রকম কথা বলছেন। এর ফলে একদিকে যেমন জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, তেমন সরকারের দক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সরকারের একজন মুখপাত্র থাকা উচিত। যিনি বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরবেন। সবাই যেন সব বিষয়ে কথা না বলেন তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে।

সরকারকে স্বচ্ছ হতে হবে। এ কারণেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। মূলধারার গণমাধ্যম যত স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে, তত সমাজমাধ্যমের গুজব ও তথ্যসন্ত্রাস গুরুত্ব হারাবে। মুক্ত গণমাধ্যমই সরকারের সবচেয়ে আপন, এটা সরকারকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। আর এ কারণেই সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। সংবাদমাধ্যমগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, নির্বাচন হয়েছে কিন্তু ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি। নানানরকম ষড়যন্ত্র চলছে। সংসদে নানান ইস্যুতে বিরোধী দল সরকারকে চাপে রাখবে। কুড়ি বছর যারা বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রেখেছিল, তারা এখনো সক্রিয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতি এখন প্রতিকূল। এ রকম অবস্থায় সরকারের সামনের পথ মসৃণ নয়। এ সরকারের জন্য কোনো হানিমুন পিরিয়ড নেই। কাজ দিয়েই এ সরকারকে তার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। এ সরকারের সবচেয়ে বড় বন্ধু হলো জনগণ। জনগণের আস্থাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই শক্তি কাজে লাগাতে হলে জনগণের কাছে সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম