ঢাকা ১৯ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
গোপালগঞ্জে বাস-ডাম্প ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ মহাসড়কে গতি সীমাসহ ট্রাফিক আইন ভাঙলেই অটো ফাইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেল্লা বাবার মাজারের দানবাক্সে মিলল ১২ বস্তা টাকা কাতার পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দুই জঙ্গিসহ জেল পালানো ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক: কারা মহাপরিদর্শক হঠাৎ বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতন মহাসড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই অটো ফাইন পদত্যাগ করছেন পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের গ্রিসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

আনচেলত্তি, যিনি ধৈর্য্য ধরতে জানেন

#

স্পোর্টস ডেস্ক

০১ জুলাই, ২০২৬,  11:01 AM

news image

চব্বিশ বছরের এক অভিশপ্ত ইতিহাস! নকআউটে প্রথমে গোল হজম করলেই যেন মাঠ থেকে বিদায় নিশ্চিত ব্রাজিলের। ২০০২ সালের সেই ইংল্যান্ড বধের পর কেটে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময় কিন্তু খোলস ছেড়ে বের হতে পারছিল না সেলেসাওরা। হিউস্টনে জাপানের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচেও যখন গোল খেয়ে বসল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, গ্যালারিতে তখন আবারও সেই চেনা শঙ্কার কালো মেঘ! কোটি ভক্তের বুক দুরুদুরু; তবে কি আবারও ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে? তবে কি আবারও নকআউট থেকেই বিদায়?


কিন্তু না! ডাগআউটে দাঁড়িয়ে থাকা চুইংগাম চিবানো এক ইতালিয়ান ভদ্রলোক যেন অন্য ধাতুতে গড়া। কার্লো আনচেলত্তি! খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েও যার বিশ্বাসে এতটুকু চির ধরেনি। বিরতির পর ড্রেসিংরুমে চাণক্য আনচেলত্তির একটাই মন্ত্র ‘ধৈর্য হারিও না, গোল আমরা পাবই!’ আর গুরুর সেই বিশ্বাসের মর্যাদা দিতেই দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হলো এক অন্য ব্রাজিল। ৫৬ মিনিটে অভিজ্ঞ ক্যাসেমিরোর বুলেট হেডারে সমতায় ফেরা, আর ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে, পঁচানব্বই মিনিটে গাব্রিয়েল মার্তেনেল্লির সেই জাদুকরী গোল! গ্যালারিতে তখন আনন্দের সুনামি, আর মার্তেনেল্লি নিজে যেন তখনো বিশ্বাস করতে পারছিলেন না কী অবিশ্বাস্য কাণ্ডটাই না তিনি ঘটিয়ে ফেলেছেন!


ম্যাচ শেষে আনচেলত্তির চোখে-মুখে সেই চেনা রিল্যাক্সড হাসি। রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে বসে এমন বহু রূপকথার জন্ম দিয়েছেন তিনি, তাই তো বললেন দলের কেউ নাকি বিশ্বাস হারায়নি যে গোল আসবে না। তবে এই রোমাঞ্চকর জয়ের রাতেও ভক্তদের মনে একটা খটকা থেকেই গেছে ডাগআউটে পুরো সময় বসে থাকা নেইমারকে কেন নামানো হলো না? আনচেলত্তি অবশ্য রহস্যের জট খুলেছেন নিজেই। ম্যাচ যদি অতিরিক্ত সময়ে গড়াত, তবেই মাঠে নামতেন নেইমার। কিন্তু ক্যাসেমিরো-মার্তেনেল্লিরা নির্ধারিত সময়েই কাজ সেরে ফেলায় আর কৌশল বদলানোর ঝুঁকি নেননি ডন কার্লো।


জাপানের সুশৃঙ্খল রক্ষণ ভেঙে এই কষ্টার্জিত জয়কে ক্যাসেমিরো দেখছেন ধৈর্যের ফসল হিসেবে। তবে রোমাঞ্চকর এই রূপকথার রাতের শেষেও ব্রাজিলের কপালে চিন্তার ভাঁজ। ম্যাচ শেষে চোটের মিছিলে যোগ দিয়েছেন খোদ গোলদাতা ক্যাসেমিরো এবং লুকাস পাকেতা। শেষ ষোলোর মহাযুদ্ধের আগে এই দুই তারকার চোট কতটা গুরুতর, তা জানতে এখন পুরো ব্রাজিলিয়ান শিবিরের চোখ চব্বিশ ঘণ্টার মেডিকেল রিপোর্টের দিকে। ইতিহাস ভেঙে ব্রাজিল তো ঘুরে দাঁড়ালো, কিন্তু চোটের এই নতুন ধাক্কা সামলে আনচেলত্তির সেনারা হেক্সার মিশনে কতদূর যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়!

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম