ঢাকা ১২ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
পার্বত্য চট্টগ্রামে ষড়যন্ত্র: সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ ছেলে-মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরে ফেলে হত্যা করলেন বাবা পলিসি ক্যাম্প ২০২৬-এ বরগুনার তরুণ মোঃ সোহানুর রহমান সৈকত ফাইনালিস্ট হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ মৃত্যু সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে ভারত থেকে দেশে আসছে ১৯টি নতুন রেলবগি হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র: বাণিজ্যমন্ত্রী সাভারে ফের বোমাসদৃশ প্রেসারকুকার উদ্ধার, ঘটনাস্থলে ডিসপোজাল ইউনিট আ. লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার খবরটি গুজব: তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ ভ্রমণে উচ্চমাত্রার সতর্কতা কানাডার

আগেভাগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম

#

নিজস্ব প্রতিনিধি

১৬ জুন, ২০২৬,  10:55 AM

news image

বিগত বছরগুলোতে রংপুরের সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হতো ২০ জুন। এবার দাবদাহের কারণে পাঁচ দিন এগিয়ে এনে ১৫ জুন করা হয়। সে অনুযায়ী গতকাল হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাত শুরু হয়েছে। মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জে এর উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এ সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই দশক আগেও ৩৬ গন্ডায় অর্থাৎ ৩৬ হালিতে ১০০ (৪টায় ১ হালি) আম বিক্রি হতো রংপুর অঞ্চলে। বর্তমানে হালি কিংবা গন্ডার কথা মানুষ ভুলে গেছে। এ প্রজন্মের অনেকেই জানেন না গন্ডা হিসেবে আম বিক্রি একসময় ছিল এ অঞ্চলের ঐতিহ্য। একসময় গন্ডা ছাড়া আম কেনাবেচার কথা ভাবাই যেত না। প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আধুনিকতার ছোঁয়া এবং উৎপাদিত আমের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় গন্ডার হিসাব মানুষ ভুলে গেছে। এখন শুরু হয়েছে কেজির হিসাব। প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েক বছর থেকে অনলাইনেও আমের ব্যবসা চলছে। জানা গেছে, হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এবার বিদেশে বাণিজ্যিকভাবে এ আম রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জন করলেও সুমিষ্ট এ আম পাকলে তিন-চার দিনের মধ্যে খেতে হয়। তা না হলে নষ্ট হয়ে যায়। প্রবীণ আলী হোসেন মোল্লা বলেন, একসময় বৈশাখ, জৈষ্ঠ এবং আষাঢ় মাসে হরেকরকম আমে বাজার ভরপুর থাকত। শহরে যারা আম বিক্রি করতে আসত তারা পদাগঞ্জসহ অন্যান্য হাটে ৩৬ গন্ডায় ১০০ আম কিনে এনে শহরে ওই আম ৩২ গন্ডায় ১০০ বিক্রি করত। এখন হালি কিংবা গন্ডার প্রচলন উঠে গিয়ে কেজিতে আম বিক্রি হচ্ছে। ১৫-২০ বছর আগেও ৩৬ গন্ডায় ১০০ আম প্রকারভেদে ২৫-৫০ টাকায় বিক্রি হতো। ফজলি, কেরোয়া, এছাহাক তেলি, ছাইবুদ্দিন, আশ্বিনী, সাদা ল্যাংড়া, কালা ন্যাংড়া, কলিকাতা ল্যাংড়া, মিশ্রিভোগ, গোপালভোগ, আম্রপালি, সাদা রচি, চৌসা, আঁটিসহ হরেক প্রজাতির আম গন্ডা হিসেবে বিক্রি হতো। এসব আমের সংখ্যা এখন কমে গেছে। বর্তমানে হাঁড়িভাঙা প্রজাতির আমই বাজার দখল করেছে এবং এ আমের চাহিদাই বেশি। একটি হাঁড়িভাঙা আমের ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় হাঁড়িভাঙার চাহিদা দেশব্যাপী। তার পরেও তিনি অতীতের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কিছু কিছু আম গন্ডা অথবা হালিতে বিক্রি হওয়া উচিত বলে মনে করেন। বদরগঞ্জের শ্যামপুরের আম চাষি সামছুজ্জামান বলেন, এবার আমের ফলন ভালো হয়েছে। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এবার হাঁড়িভাঙা আমের অন ইয়ার। প্রচুর ফলন হয়েছে। কৃষক ভালো দাম পাবেন।’

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম